সর্বশেষ :
স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে দেশের প্রতিটি নাগরিককে দায়িত্ব পালনের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ডলফিনের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড চীন, সরানো হলো ১০ লাখের ‍অধিক মানুষ ইরান ইস্যুতে কার্টারের মতোই ফাঁদে পড়েছেন ট্রাম্প! আইসিসির ‘প্লেয়ার অফ দ্য মান্থ’ পুরস্কারের তালিকায় তানজিদ হরমুজ খোলা নিয়ে অনিশ্চয়তা, বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম বাংলা কিউআর কোডে লেনদেন হবে ফ্রি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে রাজনৈতিক মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি : রিজভী আইসিসির সেরা ক্রিকেটারদের তালিকায় ম্যাথিউস-হারশিতা ও সিভার রদ্রিকে দলে ভেড়াতে মরিয়া বার্সেলোনা, অনিশ্চিত ডি ইয়ংয়ের ভবিষ্যৎ এশিয়ার তেলের বাজারের ‘ইরান-ধাক্কা’ একাই সামলে দিচ্ছে চীন

পশু জবাই করার নিয়ম ও দোয়া

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৫-২৫, | ১২:৫৮:৩৯ |
ইসলামে খাদ্য গ্রহণ শুধু দৈহিক চাহিদা পূরণের বিষয় নয়; বরং এটি ইবাদত ও তাকওয়ার সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পর্কিত। একজন মুসলমান কী খাবেন, কীভাবে খাবেন এবং খাদ্য প্রস্তুতের পদ্ধতি কেমন হবে—এসব বিষয়ে ইসলাম সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছে। পশু জবাইও সেই গুরুত্বপূর্ণ বিধানের অংশ।

পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে মৃত জন্তু, রক্ত, শূকরের মাংস এবং যা আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে জবাই করা হয়েছে। (সুরা মায়িদা, আয়াত: ৩)

এ আয়াত থেকে বোঝা যায়, জবাই শুধু পশু হত্যা নয়; বরং এটি আল্লাহর নির্দেশ মেনে সম্পন্ন করা একটি ইবাদতসুলভ কাজ। তাই জবাইয়ের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম ও শর্ত অনুসরণ করা আবশ্যক।

ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, জবাই সহিহ হওয়ার জন্য কয়েকটি বিষয় নিশ্চিত করতে হয়। জবাইকারীকে মুসলমান বা আহলে কিতাবভুক্ত হতে হবে। কুরআনে আহলে কিতাবের জবাইকৃত খাদ্যকে বৈধ বলা হয়েছে। (সুরা মায়িদা, আয়াত: ৫)

এ ছাড়া জবাইয়ের সময় অবশ্যই আল্লাহর নাম উচ্চারণ করতে হবে। ইচ্ছাকৃতভাবে ‘বিসমিল্লাহ’ পরিহার করলে সেই জবাই শুদ্ধ হবে না। আল্লাহ তাআলা বলেন, যে জবাইয়ের সময় আল্লাহর নাম উচ্চারণ করা হয় না, তা তোমরা খেয়ো না। (সুরা আনআম, আয়াত: ১২১)

জবাইয়ের সময় ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে পশুকে কম কষ্ট পেতে হয়। এ বিষয়ে মহানবী মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, আল্লাহ সব বিষয়ে দয়া নির্ধারণ করেছেন। তোমরা যখন জবাই করবে, উত্তমভাবে জবাই করবে; ছুরি ধারালো করবে এবং পশুকে কষ্ট দেবে না। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৯৫৫)

ফিকহবিদদের মতে, জবাইয়ের সময় অন্তত চারটির মধ্যে তিনটি অঙ্গ কাটা জরুরি। এগুলো হলো—হালকুম বা শ্বাসনালি, খাদ্যনালি এবং গলার দুই পাশের রগ। এতে দ্রুত রক্ত বের হয়ে যায় এবং পশুর কষ্টও কম হয়। ইমাম নববি তার ‘শারহ সহিহ মুসলিম’-এ উল্লেখ করেছেন, এ পদ্ধতি স্বাস্থ্যসম্মত এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করে।

জবাইয়ের সময় পড়তে হয়: বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার।
অর্থ: আল্লাহর নামে শুরু করছি, আল্লাহ সবচেয়ে মহান।

কুরবানির পশু জবাইয়ের সময় অতিরিক্ত এই দোয়াও পড়া সুন্নাহ— আল্লাহুম্মা হাজা মিনকা ওয়া লাকা।

অর্থ: হে আল্লাহ, এটি তোমার পক্ষ থেকেই এবং তোমার জন্যই।

ইসলাম পশুর প্রতিও দয়া ও মানবিক আচরণের শিক্ষা দেয়। একবার রাসুলুল্লাহ মুহাম্মদ (সা.) দেখলেন, একজন ব্যক্তি পশুর সামনেই ছুরি ধার দিচ্ছেন। তখন তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, তুমি কি তাকে দু’বার হত্যা করতে চাও? (মুসতাদরাক হাকিম, হাদিস: ৭৫৭৩)

এ হাদিস থেকে স্পষ্ট হয়, পশুকে ভয় দেখানো, অযথা কষ্ট দেওয়া কিংবা নিষ্ঠুর আচরণ ইসলাম সমর্থন করে না।

আধুনিক গবেষণাতেও দেখা গেছে, সঠিক পদ্ধতিতে জবাই করে রক্ত বের করে দিলে মাংসে ক্ষতিকর জীবাণুর উপস্থিতি তুলনামূলক কম থাকে। ইসলামি জবাই পদ্ধতিতে রক্ত অধিকাংশই বের হয়ে যায়, যা খাদ্যকে আরও স্বাস্থ্যসম্মত করে তোলে।

ইসলামে পশু জবাই কেবল একটি প্রক্রিয়া নয়; বরং এটি বিশ্বাস, মানবিকতা ও পরিচ্ছন্নতার সমন্বয়ে গঠিত একটি ইবাদত। তাই জবাইয়ের প্রতিটি ধাপে শরিয়তের বিধান ও সুন্নাহ অনুসরণ করা একজন মুসলমানের দায়িত্ব।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..