যৌন হয়রানি ইস্যুতে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর কাছে ৩টি অনুরোধ জাহানারার

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৪-১৯, | ১৩:৪২:৪২ |

বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক জাহানারা আলম সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জাতীয় দলে থাকাকালীন যৌন হয়রানির শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। সেখানে তিনি সাবেক মহিলা দলের নির্বাচক ও ম্যানেজার মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জুর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনেন।

এরপর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে ২০২৫ সালে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটিতে ছিলেন আইন বিশেষজ্ঞ, নারী অধিকারকর্মী এবং তৎকালীন বিসিবি পরিচালক ও মহিলা উইংয়ের প্রধান রুবাবা দৌলা। ২০২৬ সালে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে জাহানারার চারটি অভিযোগের মধ্যে দুটিতে প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া যায়। ফলে মঞ্জুকে বিসিবির যেকোনো কার্যক্রম থেকে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়। তবে অনেকেই মনে করেন এই শাস্তি যথেষ্ট নয়।

এই ঘটনার পর বোর্ডেও পরিবর্তন এসেছে। তামিম ইকবালের নেতৃত্বে নতুন অ্যাডহক কমিটি গঠিত হয়েছে। আমিনুল হক এখন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। সম্প্রতি নিজের ফেসবুক পেজে একটি ভিডিওতে জাহানারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের কাছে তিনটি দাবি জানান।

তিনি বলেন, ‘আসসালামু আলাইকুম, আমি ক্রিকেটার জাহানারা আলম। মাননীয় ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। আমার তিনটি অনুরোধ আছে। আশা করি আপনি সেগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন। আপনি জানেন যে আমার হয়রানির বিষয়ে একটি স্বাধীন তদন্ত হয়েছে। প্রতিবেদনে মঞ্জু দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন, কিন্তু তাকে শুধু ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ওয়ার্ল্ড ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন আমাকে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছে, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। বিসিবিকেও ধন্যবাদ। কিন্তু সত্যি বলতে আমি সন্তুষ্ট নই। আমি যা পার করেছি তার তুলনায় এই শাস্তি অনেক কম।’

তিনি আরও বলেন, ‘ক্রিকেটের বাইরে বিশ্বের নানা দলে অনেক জাহানারা আছে। আমি মঞ্জুর কাছ থেকে বের হতে পারিনি, ভয় হয় অন্যরাও একইভাবে ভোগান্তিতে পড়বে। ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত মঞ্জু ও তৌহিদ মাহমুদ নামের আরেকজনের অনুচিত প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় তারা একটি দলকে নিয়ে চার বছর ধরে আমাকে মানসিকভাবে নির্যাতন করেছে। আমাকে সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে, আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। তৌহিদ মারা গেছেন, মঞ্জু হালকা শাস্তি পেয়েছেন। কিন্তু তাদের দলকে এখনও জবাবদিহির আওতায় আনা হয়নি।’

জাহানারা ২০২৩ বিশ্বকাপের পরের ঘটনার কথাও বলেছেন। তিনি জানান, মঞ্জুকে কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই চুপচাপ মহিলা উইং থেকে বাংলাদেশ টাইগার্সে সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপরও তার দল মাসের পর মাস তাকে হয়রানি করেছে।

প্রথম দাবিতে তিনি বলেন, ‘মঞ্জু ও তার দলের বিরুদ্ধে সঠিক বিচার চাই। সুষ্ঠু তদন্ত এবং কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করুন।’

সাবেক ক্রিকেটার আব্দুর রাজ্জাকের মন্তব্য নিয়েও হতাশা প্রকাশ করেছেন জাহানারা। তিনি বলেন, ‘কিছু যাচাই না করেই তিনি বললেন আমি বাইরের লোক এবং আমার দাবি ভিত্তিহীন। তার জানা উচিত ছিল আমি অবসর নিইনি। মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে ছুটিতে ছিলাম। বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করা কারও কাছ থেকে এমন মন্তব্য কষ্ট দেয়। যদি এটা তার নিজের পরিবারের কেউ হতো, তাহলে কি একই কথা বলতেন? শুধু প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় ক্রিকেট ও সাপোর্ট স্টাফের অনেক নারীকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

দ্বিতীয় দাবিতে তিনি বলেন, ‘আমার পরে অনেক বোন সাহস করে কথা বলেছেন। তাদের সবার অভিযোগ সঠিকভাবে তদন্ত করুন। বিচার ছাড়া তারা আর কখনো ফিরতে পারবেন না।’

তৃতীয় দাবিতে জাহানারা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের কাছে অনুরোধ, নারী ও শিশুদের জন্য ক্রীড়াক্ষেত্রে একটি সঠিক সেফগার্ডিং নীতি চালু করুন। এটা হলে এই ধরনের মানুষ অনুচিত প্রস্তাব করার কথা মাথায়ও আনবে না। অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের মতো দেশে প্রশিক্ষণে শারীরিক স্পর্শেও সম্মতি লাগে। দোষ প্রমাণিত হলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা ও আর্থিক জরিমানা হওয়া উচিত। আমাদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করুন। আমরা যেন ভয়মুক্তভাবে দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারি।’

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..