লেবাননে ইসরাইলের আগ্রাসন থামাতে এবং স্থায়ী যুদ্ধবন্ধের লক্ষ্যে পাঁচটি শর্ত দিয়েছে হিজবুল্লাহ। দেশটির প্রতিরোধ বাহিনীটির মহাসচিব শেখ নাইম কাশেম বলেছেন, তারা লেবানন সরকারকে সহযোগিতা করবেন।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাতে প্রকাশিত এক বার্তায় তিনি ইরানের সহায়তার প্রশংসা করেন এবং লেবাননে এই যুদ্ধবিরতিতে প্রতিরোধ যোদ্ধাদের ‘অভূতপূর্ব পারফরম্যান্সের’ প্রশংসা করেন।
কাশেম বলেন, সীমান্তে এক লাখ সেনা মোতায়েন থাকা সত্ত্বেও যারা ইসরাইলি বাহিনীর অগ্রগতি ঠেকিয়ে দিয়েছে—সেই প্রতিরোধ যোদ্ধাদের প্রতি অসংখ্য ধন্যবাদ। ফ্রন্টলাইনে থাকা প্রতিরোধ যোদ্ধাদের আত্মত্যাগ ছাড়া এই যুদ্ধবিরতি সম্ভব হতো না।
তিনি জানান, প্রতিরোধ বাহিনী শত্রুর ওপর ভরসা করে না এবং যুদ্ধবিরতির কোনো লঙ্ঘন হলে তারা যথাযথ জবাব দিতে প্রস্তুত থাকবে। যুদ্ধবিরতির জন্য হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে দেওয়া পাঁচটি শর্তও তুলে ধরেন বাহিনীটির প্রধান।
প্রথমত: আকাশ, স্থল ও সমুদ্র—সব জায়গায় লেবাননের বিরুদ্ধে আগ্রাসন স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে।
দ্বিতীয়ত: ইসরাইলি বাহিনীকে সম্পূর্ণভাবে লেবাননের ভূখণ্ড থেকে সীমান্ত লাইনে ফিরে যেতে হবে।
তৃতীয়ত: বন্দিদের মুক্তি দিতে হবে।
চতুর্থত: সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের তাদের শহর ও গ্রামে ফিরে যেতে দিতে হবে।
পঞ্চমত: আন্তর্জাতিক ও আরব সহায়তায় পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরু করতে হবে এবং সেটি হবে জাতীয় দায়িত্বের ভিত্তিতে।
কাশেম বলেন, জাতীয় সার্বভৌমত্ব বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নতুন কাঠামোর মধ্যে লেবানন সরকারের সঙ্গে সর্বোচ্চ পর্যায়ের সহযোগিতার জন্য হিজবুল্লাহ প্রস্তুত রয়েছে।
প্রসঙ্গত, ম্যাসব্যাপী যুদ্ধের পর ইসরাইল ও লেবানন ১০ দিনের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বিকাল ৫টায় এ যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। যুদ্ধবিরতির শুরুতে আনন্দ মিছিল আর উদ্যাপনের শব্দ শোনা গেলেও সাধারণ মানুষের মনে গভীর সংশয় কাজ করছে।
এ জাতীয় আরো খবর..