মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ থেকে শেষ সেনাও সরিয়ে নিল আমেরিকা

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৪-১৭, | ১২:০১:২৮ |
ইরানে আপাতত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চলছে যুক্তরাষ্ট্রের। লেবাননেও ইসরায়েলের সঙ্গে দশ দিনের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ সিরিয়া থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন করার ঘোষণা এসেছে।

সিরিয়ায় থাকা শেষ মার্কিন সেনারাও বৃহস্পতিবার দেশটির হাসাকাহ অঞ্চলের একটি ঘাঁটি থেকে সরে গেছে। এতে করে আইএস (ইসলামিক স্টেট) গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের নামে সিরিয়ায় প্রায় ১০ বছরের মার্কিন সামরিক উপস্থিতির অবসান ঘটল বলে জানিয়েছে সিরিয়ার কর্মকর্তারা।

মিডল ইস্ট আই-কে সিরিয়ার এক কর্মকর্তা জানান, মার্কিন সেনাদের সরে যাওয়ার পর সিরিয়ার সেনাবাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকা শেষ ঘাঁটি ‘কাসরাক’-এ প্রবেশ করে। সেখানে একটি বিমানঘাঁটিও ছিল। ওই কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন হয়েছে।

২০১৫ সাল থেকে মার্কিন সেনারা সিরিয়ায় অবস্থান করছিল।

মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশ্লেষক চার্লস লিস্টার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, ঘাঁটিটি দখল করেছে সিরিয়ার সেনাবাহিনীর ৬০তম ডিভিশন, যেখানে মূলত কুর্দি যোদ্ধারা রয়েছে। তারা সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ)-এর সঙ্গে যুক্ত। এসডিএফ দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রশক্তি ছিল।

লিস্টার আরও জানান, ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়াদের সম্ভাব্য হামলা এড়াতে মার্কিন সেনা ও সরঞ্জাম জর্ডান হয়ে সিরিয়া থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

পরে বৃহস্পতিবার সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকা সামরিক ঘাঁটিগুলো সিরিয়ার সরকারের কাছে হস্তান্তরকে তারা স্বাগত জানাচ্ছে।

মন্ত্রণালয় আরও জানায়, এসব ঘাঁটি হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে এসডিএফকে জাতীয় কাঠামোর সঙ্গে একীভূত করার প্রক্রিয়া প্রতিফলিত হয়েছে এবং এখন সিরিয়া রাষ্ট্র হিসেবে নিজেই তাদের ভূখণ্ডে সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম ও আঞ্চলিক হুমকি মোকাবিলার পূর্ণ দায়িত্ব নিচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত আসে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের পর বাশার আল-আসাদকে পরাজিত করে প্রেসিডেন্ট বনে যান আহমেদ আল-শারা। নতুন সরকারকে সমর্থন দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। আগে সিরিয়ায় প্রায় ১ হাজার মার্কিন সেনা ছিল।

চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র এসডিএফ ও দামেস্কের মধ্যে একটি চুক্তি করাতে সহায়তা করে, যেখানে সিরিয়ার সরকার আইএসের মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের নেতৃত্ব নেওয়ার কথা বলে।

এর আগেও যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় আল-তানফ এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় আল-শাদাদি নামের দুটি বড় ঘাঁটি থেকে সেনা প্রত্যাহার করেছিল।

এসডিএফ–যুক্তরাষ্ট্র অংশীদারত্ব তুরস্কের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্ককে দীর্ঘদিন ধরে জটিল করে তুলেছিল। আঙ্কারা এই গোষ্ঠীকে কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি (পিকেকে)-এর সিরীয় শাখা ওয়াইপিজির অংশ হিসেবে দেখে, যেটিকে তারা সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করে।

পিকেকে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং তুরস্কের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী সংগঠন এবং গত চার দশক ধরে তুরস্কের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহ চালিয়ে আসছে তারা।

তবে গত দুই বছরের মধ্যে আঙ্কারা ও পিকেকের মধ্যে শান্তি আলোচনার কারণে দামেস্কের জন্য এসডিএফের সঙ্গে নিজেদের আলাদা সমঝোতা করা সহজ হয়েছে। এসডিএফ সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে স্বায়ত্তশাসন চাইছিল।

একটি স্বল্পস্থায়ী সরকারি অভিযান এবং পরে মার্কিন দূত টম ব্যারাকের মধ্যস্থতায় একটি চুক্তি হয়, যার ফলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।

চুক্তির অংশ হিসেবে এসডিএফ দামেস্কের কাছে রাকা এবং দেইর এজ-জোরসহ বড় কিছু এলাকার নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তর করতে রাজি হয়।  

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..