সর্বশেষ :
স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে দেশের প্রতিটি নাগরিককে দায়িত্ব পালনের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ডলফিনের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড চীন, সরানো হলো ১০ লাখের ‍অধিক মানুষ ইরান ইস্যুতে কার্টারের মতোই ফাঁদে পড়েছেন ট্রাম্প! আইসিসির ‘প্লেয়ার অফ দ্য মান্থ’ পুরস্কারের তালিকায় তানজিদ হরমুজ খোলা নিয়ে অনিশ্চয়তা, বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম বাংলা কিউআর কোডে লেনদেন হবে ফ্রি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে রাজনৈতিক মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি : রিজভী আইসিসির সেরা ক্রিকেটারদের তালিকায় ম্যাথিউস-হারশিতা ও সিভার রদ্রিকে দলে ভেড়াতে মরিয়া বার্সেলোনা, অনিশ্চিত ডি ইয়ংয়ের ভবিষ্যৎ এশিয়ার তেলের বাজারের ‘ইরান-ধাক্কা’ একাই সামলে দিচ্ছে চীন

জ্বালানি তেলের অগ্নিমূল্য : বিশ্ববাজারে চীনের ইভি ব্যবসায় নতুন গতি

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৩-৩০, | ১১:০১:১৮ |
বিশ্ব অর্থনীতিকে অস্থির করে তুলেছে ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ তেল সংকট এবং জ্বালানির আকাশচুম্বী দাম।

তবে একই সঙ্গে এ পরিস্থিতি চীনের ইলেকট্রিক ভেহিকল (ইভি) বা বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এক বিশাল সুযোগ তৈরি করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান যুদ্ধ বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা তৈরি করলেও চীনের ইভি শিল্পের জন্য এটি একটি সময়োপযোগী ঘটনা হিসেবে দেখা দিচ্ছে। খবর সিএনএন।

বর্তমানে বিশ্বের যেকোনো দেশের তুলনায় বেশি ইভি উৎপাদন ও রফতানি করে চীন। তবে নিজ দেশে তীব্র প্রতিযোগিতা ও চাহিদার প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ায় চীনা ব্র্যান্ডগুলো বিদেশের নতুন বাজার ধরার জন্য প্রবল চাপের মধ্যে ছিল। বেইজিংভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান শাওমিও সম্প্রতি ইভি ব্যবসার ধাক্কার কারণে নিট মুনাফায় বড় পতনের কথা জানিয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে যখন পেট্রল ও গ্যাসের দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে, তখন চীনা ইলেকট্রিক গাড়িগুলো আগের চেয়ে আরো সস্তা হচ্ছে।

গাড়িবিষয়ক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান সিনো অটো ইনসাইটসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তু লে বলেন, ‘পেট্রলের উচ্চমূল্যের ওপর ভর করে এশিয়ায় চীনা ব্র্যান্ডগুলোর বড় ধরনের বাজার দখলের সম্ভাবনা রয়েছে এবং তারা এ সুযোগের পূর্ণ সদ্ব্যবহার করবে।’

বাজার পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এশিয়ায় নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়লেও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান তিন সপ্তাহের সংঘাত এ অঞ্চলের তেলের ওপর চরম নির্ভরশীলতাকে আবারো স্পষ্ট করেছে। এশিয়ার অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৬০ শতাংশই আসে মধ্যপ্রাচ্যের হরমুজ প্রণালি দিয়ে, যেখানে ইরান বর্তমানে পণ্যবাহী জাহাজের চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে।

জ্বালানিবিষয়ক সংস্থা এম্বারের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, আমদানির খরচ কমানোর ক্ষেত্রে ইভি সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। গত বছর বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি ব্যবহারের ফলে বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত তেলের ব্যবহার প্রতিদিন ১৭ লাখ ব্যারেল হ্রাস পেয়েছে, যা ২০২৫ সালে ইরানের মোট তেল রফতানির প্রায় ৭০ শতাংশের সমান।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণ যেমন ইউরোপকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে ঠেলে দিয়েছিল, বর্তমান তেল সংকটও এশিয়ার পরিচ্ছন্ন জ্বালানি খাতের জন্য একটি মোড় পরিবর্তনকারী ঘটনা হতে পারে।

সেন্টার ফর রিসার্চ অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ারের প্রধান বিশ্লেষক লরি মাইলিভির্তা বলেন, ‘কম মূল্যস্ফীতির মধ্যে একবার তেলের দাম বাড়লে মানুষ তা মেনে নিতে পারে। কিন্তু বারবার এমনটি ঘটলে মানুষ বুঝে যায় যে তেলের বাজার কতটা অস্থিতিশীল এবং পেট্রল-চালিত গাড়ি চালানো কতটা ঝুঁকিপূর্ণ।’

প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ আছে, বর্তমানে চীনে নতুন বিক্রি হওয়া গাড়ির প্রায় ৫০ শতাংশ ও দেশের মোট নিবন্ধিত যানবাহনের প্রায় ১২ শতাংশই বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি। বিশ্লেষকদের ধারণা, ইভির ব্যাপক প্রসারের ফলে গত বছর চীনের তেল ব্যবহার প্রায় ১০ শতাংশ কমেছে।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..