সর্বশেষ :
স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে দেশের প্রতিটি নাগরিককে দায়িত্ব পালনের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ডলফিনের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড চীন, সরানো হলো ১০ লাখের ‍অধিক মানুষ ইরান ইস্যুতে কার্টারের মতোই ফাঁদে পড়েছেন ট্রাম্প! আইসিসির ‘প্লেয়ার অফ দ্য মান্থ’ পুরস্কারের তালিকায় তানজিদ হরমুজ খোলা নিয়ে অনিশ্চয়তা, বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম বাংলা কিউআর কোডে লেনদেন হবে ফ্রি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে রাজনৈতিক মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি : রিজভী আইসিসির সেরা ক্রিকেটারদের তালিকায় ম্যাথিউস-হারশিতা ও সিভার রদ্রিকে দলে ভেড়াতে মরিয়া বার্সেলোনা, অনিশ্চিত ডি ইয়ংয়ের ভবিষ্যৎ এশিয়ার তেলের বাজারের ‘ইরান-ধাক্কা’ একাই সামলে দিচ্ছে চীন

লোকজ ঐতিহ্যে মুখর চিলমারী, জমে উঠেছে ‘বউ মেলা’

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৩-২৮, | ১৮:৫০:২৫ |
উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামের চিলমারীর বালাবাড়ি হাটে বসেছে ঐতিহ্যবাহী ‘বউ মেলা’। এ মেলাকে ঘিরে উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। গত শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া এ আয়োজন স্থানীয় সংস্কৃতি, লোকজ ঐতিহ্য এবং নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে নতুন মাত্রা পেয়েছে। প্রতিবছর সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অষ্টমী স্নানকে কেন্দ্র করেই এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়।

সরেজমিন শনিবার( ২৮ মার্চ) দুপুরে দেখা যায়, জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা নারী-পুরুষের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে মেলা প্রাঙ্গণ। বিশেষ করে নববধূ ও গৃহবধূদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। রঙিন শাড়ি, গয়না ও গ্রামীণ সাজে সজ্জিত নারীদের উপস্থিতিতে মেলায় তৈরি হয়েছে এক বর্ণিল পরিবেশ।

মেলায় রয়েছে বিভিন্ন ধরনের পসরা—হাতের তৈরি গহনা, মাটির তৈজসপত্র, নকশিকাঁথা, বাঁশ ও বেতের সামগ্রীসহ নানা রকম গ্রামীণ পণ্য। এছাড়া শিশুদের জন্য খেলনা, নাগরদোলা এবং বাহারি খাবারের দোকান দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করছে।

উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবু সাইদ হোসেন পাখী বলেন, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অষ্টমী স্নানকে ঘিরে বালাবাড়ি হাটে এ ঐতিহ্যবাহী মেলা বসে আসছে। প্রায় ৪০০ বছরের এই প্রাচীন আয়োজনের অংশ হিসেবে স্নানের পরবর্তী দুই দিন এলাকায় বিশেষ উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে। প্রথম দিনে অনুষ্ঠিত হয় ‘জামাই মেলা’ এবং পরদিন ‘বউ মেলা’, যা স্থানীয় সংস্কৃতি ও পারিবারিক বন্ধনের এক অনন্য প্রতিফলন।

আয়োজকরা জানান, বালাবাড়ি হাটের এ মেলা একটি প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী আয়োজন। মূলত নারীদের জন্য বিশেষভাবে আয়োজন করা এই মেলায় তারা নিজেদের তৈরি পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রির সুযোগ পান। এতে নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার পথও সুগম হচ্ছে।

মেলায় আসা সালেহা বেগম নামে এক গৃহবধূ বলেন, এই মেলায় এসে খুব ভালো লাগছে। এখানে আমরা নিজেদের তৈরি জিনিস বিক্রি করতে পারছি, আবার আনন্দও উপভোগ করছি।

রংপুর থেকে আসা দোকানী রাবেয়া বেগম বলেন, প্রতিবারে অষ্টমীর আগের দিন আসি। অষ্টমীর দিনে ভালোই বিক্রি হয়েছে। এবারে বউ মেলায় তেমন কোন বিক্রি করতে পারিনি। এখানে এবারে অবস্থাপনা রয়েছে। আশা করি, পরের বার যেন সরকারের ব্যবস্থাপনায় মেলাটি হয়।

মেলার সার্বিক নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। আয়োজকরা আশা করছেন, আগামীতে এই মেলায় দর্শনার্থীদের ব্যাপক সমাগম ঘটবে এবং এটি হয়ে উঠবে অঞ্চলের অন্যতম আকর্ষণীয় আয়োজন।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..