সর্বশেষ :
স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে দেশের প্রতিটি নাগরিককে দায়িত্ব পালনের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ডলফিনের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড চীন, সরানো হলো ১০ লাখের ‍অধিক মানুষ ইরান ইস্যুতে কার্টারের মতোই ফাঁদে পড়েছেন ট্রাম্প! আইসিসির ‘প্লেয়ার অফ দ্য মান্থ’ পুরস্কারের তালিকায় তানজিদ হরমুজ খোলা নিয়ে অনিশ্চয়তা, বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম বাংলা কিউআর কোডে লেনদেন হবে ফ্রি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে রাজনৈতিক মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি : রিজভী আইসিসির সেরা ক্রিকেটারদের তালিকায় ম্যাথিউস-হারশিতা ও সিভার রদ্রিকে দলে ভেড়াতে মরিয়া বার্সেলোনা, অনিশ্চিত ডি ইয়ংয়ের ভবিষ্যৎ এশিয়ার তেলের বাজারের ‘ইরান-ধাক্কা’ একাই সামলে দিচ্ছে চীন

চট্টগ্রামের বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের ঢল, বলছেন প্রত্যাশার কথা

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০২-১২, | ১২:০০:১৮ |
উৎসবমুখর পরিবেশে চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনে ভোটগ্রহণ চলছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ভোরের আলো ফোটার আগেই কেন্দ্রমুখী হন ভোটাররা। শীতের সকাল উপেক্ষা করে নারী-পুরুষ ভোটারদের দীর্ঘ লাইন চোখে পড়ে বিভিন্ন কেন্দ্রে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে ভোটারদের উপস্থিতি। কোথাও প্রথমবার ভোট দিতে আসা তরুণদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো।

কেন্দ্রে কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নিরাপত্তা ভোটারদের মধ্যে আস্থা জুগিয়েছে। কেন্দ্রের বাইরে ছিল ছোটখাটো ভিড়, তবে ভেতরে ছিল শান্ত পরিবেশ। সবমিলিয়ে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তৎপরতায় সুশৃঙ্খল প্রক্রিয়ায় ভোটগ্রহণ চলছে। ভোট দিতে এসে অনেকেই জানিয়েছেন তাদের প্রত্যাশার কথা— উন্নয়ন, নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও মৌলিক নাগরিক সেবার দাবি ছিল সবচেয়ে বেশি।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে সাতটা থেকে চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনের ১ হাজার ৯৬৫টি কেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত চট্টগ্রামের কোথাও উল্লেখ করার মতো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার খবর পাওয়া যায়নি। সরেজমিনে, চট্টগ্রাম-৮, ৯, ১০ ও ১১ আসনের বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, ভোটারদের দীর্ঘ সারি। কোথাও কোথাও নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। 


চট্টগ্রাম-১১ আসনের ভোটার নুসরাত জাহান (২৬) ভোট দিয়ে বের হয়ে বলেন, আমাদের প্রত্যাশা বেশি না। আমি চাই, এই আসনে ভালো রাস্তাঘাট, ওয়াসার বিশুদ্ধ পানি ও মাদক নির্মূল—এই তিনটি কাজ সমাধান করা হোক। এখানে মাদকাসক্তদের উৎপাত রয়েছে, অনেক নারী ইভটিজিংয়ের শিকার হন। এসব বন্ধ করতে হবে।

একই আসনের গার্মেন্টসকর্মী চাঁদনী মজুমদার বলেন, আমরা হিন্দু ধর্মাবলম্বী হিসেবে আমাদের সুরক্ষা চাই। আমরা এমন প্রার্থীকে ভোট দিয়েছি, যাতে শান্তিতে থাকতে পারি। আমরা চাই, যিনি নির্বাচিত হবেন তিনি মুসলিম-হিন্দুসহ সব ধর্মের মানুষকে সমানভাবে দেখবেন।

গার্মেন্টসকর্মীদের সন্তানদের শিক্ষার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, এখানে অনেক গার্মেন্টসকর্মী বসবাস করেন। তাদের ছেলেমেয়েদের জন্য একটি সরকারি স্কুল খুব প্রয়োজন। বেসরকারি স্কুলে পড়ানো তাদের পক্ষে সম্ভব হয় না।

চট্টগ্রাম-৮ আসনের ভোটার মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, আমরা উন্নয়ন চাই, তবে সেটা যেন টেকসই হয়। জলাবদ্ধতা আমাদের বড় সমস্যা। প্রতি বর্ষায় মানুষ দুর্ভোগে পড়ে। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি যেন এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করেন।

এই আসনের গৃহিণী রুবিনা আক্তার বলেন, বাজারদর নিয়ন্ত্রণ এখন সবচেয়ে জরুরি। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম যেভাবে বাড়ছে, সাধারণ মানুষের জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে। আমরা এমন নেতৃত্ব চাই, যারা মানুষের কষ্ট বোঝে।

প্রথমবার ভোট দেওয়া চট্টগ্রাম-৯ আসনের তরুণ ভোটার আরিফ হাসান বলেন, এটা আমার জীবনের প্রথম ভোট। ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের সুফলে নির্বিঘ্নে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছি। খুব ভালো লাগছে। আমি চাই কর্মসংস্থান বাড়ুক। পড়াশোনা শেষ করে যেন বেকার থাকতে না হয়—এই প্রত্যাশা নতুন প্রজন্মের।

চট্টগ্রাম-১৫ আসনের প্রবীণ ভোটার আবদুল খালেক বলেন, জীবনে অনেক নির্বাচন দেখেছি। তবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিতে পারলে আলাদা স্বস্তি লাগে। আমরা চাই, দেশে স্থিতিশীলতা থাকুক, মানুষ শান্তিতে থাকুক।

চট্টগ্রামের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, যথাসময়ে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ শেষ করতে আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। জনগণকে বলব, আপনারা নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে আসুন, নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করুন।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..