ফল বিক্রেতা থেকে বিশ্বকাপের মঞ্চে হায়দার আলী

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০২-১১, | ১১:৩৬:৩৯ |
পাকিস্তানের পাঞ্জাবের ছোট্ট গ্রাম আজমত শাহ। সেখানেই জন্ম হায়দার আলীর। পরিবার ছিল সাধারণ, জীবনের শুরুটাই ছিল লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে। ছোটবেলায় বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর চাচার কাছে মানুষ হয়েছেন তিনি।

কিন্তু দারিদ্র্যের গণ্ডি পেরিয়ে তার স্বপ্ন ছিল বিশাল—পাকিস্তানের জার্সিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলবেন, দেশের হয়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রতিনিধিত্ব করবেন।
এই স্বপ্ন বুকে নিয়ে একসময় হায়দার চলে যান লাহোরে। জীবিকা নির্বাহের জন্য করতে হয় রাতের বেলায় ওয়েটারের কাজ, কখনো ফল বিক্রি। ২০১৮ সালে পাকিস্তানের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক হলেও জাতীয় দলে কাঙ্ক্ষিত জায়গা করে নেওয়া হয়নি তার।
 
হায়দার বলেন, ‘ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালোই করেছিলাম। কী ঘটেছিল সেটা বলতে চাই না। জীবন এমনই, সবসময় সবকিছু আমাদের পক্ষে যায় না। আমি ইতিবাচক থাকতে পছন্দ করি।’

কোভিড-১৯ মহামারির সময় তার আর্থিক অবস্থা আরো খারাপ হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত ২০২২ সালে উন্নত ভবিষ্যতের আশায় তিনি পাড়ি জমান সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই)। সেখান থেকেই শুরু হয় নতুন স্বপ্ন—ইউএই জাতীয় দলের জার্সিতে খেলা।

আইসিসির তিন বছরের আবাসিক নিয়ম পূরণ করে ২০২৫ সালে ইউএই দলের হয়ে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেন হায়দার। অভিষেক সিরিজেই বাজিমাত।

শারজাহতে বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচে ৪ ওভারে ৭ রান দিয়ে নেন ৩ উইকেট। 
একই বছর আইএলটি২০ লিগে দুবাই ক্যাপিটালসের হয়ে শিরোপা জয়ের স্বাদও পান তিনি। এখন ৩১ বছর বয়সী এই বাঁহাতি স্পিনার স্বপ্ন দেখছেন প্রথম বিশ্বকাপে খেলার।

হায়দার বলেন, ‘বিশ্বকাপ ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় মঞ্চ। প্রত্যেক ক্রিকেটারের স্বপ্ন এখানে খেলা। ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপ—সেখানে মানুষ ক্রিকেটকে প্রাণের মতো ভালোবাসে। এটা আমার জন্য বাড়তি অনুপ্রেরণা।’

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে পাওয়ারপ্লেতে নতুন বল হাতে নিতে পারেন হায়দার। আইএলটি২০-তে পাওয়ারপ্লেতে তার ইকোনমি ৫.৯৩। ন্যূনতম ২০ ইনিংস খেলা বোলারদের মধ্যে এটি টুর্নামেন্টের রেকর্ড।

তিনি বলেন, ‘আমি পাওয়ারপ্লেতে বোলিং করতে ভালোবাসি। প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া, ভারত কিংবা নিউজিল্যান্ড হোক, সেটা বড় কথা নয়। আমি শুধু বলের ওপর মনোযোগ দিই এবং দলের জন্য কী করতে হবে সেটা ভাবি।’

ডেভিড ওয়ার্নার, রভম্যান পাওয়েলের মতো তারকাদের সঙ্গে একই ড্রেসিংরুম ভাগ করে নেওয়াও তার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে।

হায়দারের বলেন, “আইএলটি২০ আমার জীবন বদলে দিয়েছে। প্রথম ম্যাচের পর ওয়ার্নার আমাকে বলেছিল, ‘তুমি অসাধারণ, এমন বাঁহাতি স্পিনার আমি খুব কমই দেখেছি।’ এই কথাগুলো অনেক শক্তি দেয়।”

বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে তার পারফরম্যান্সকে ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা মুহূর্ত বলে মনে করেন হায়দার।

তিনি বলেন, ‘এই দেশ আমাকে সম্মান দিয়েছে, সুযোগ দিয়েছে। আমি ইউএই ব্যাজের জন্য খেলি, আর সেটাই আমার সবচেয়ে বড় গর্ব।’

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..

Dhaka Forecast & Prayer Schedule

--°C
Loading...
💧 Humidity
--%
🌬 Wind
-- km/h

3-Day Forecast

Prayer Time

🕌 Fajr 🕌 Dhuhr
-- --
🕌 Asr 🕌 Maghrib
-- --
🕌 Isha
--
Loading countdown…
দেশ ও মুদ্রা ১ ইউনিট = টাকা পরিবর্তন
⏳ Currency data loading...