সর্বশেষ :
অঙ্গীকার পূরণ করার দায়িত্ব বিএনপি সরকারের : তারেক রহমান আইনের শাসনই হবে রাষ্ট্র পরিচালনার শেষ কথা : প্রধানমন্ত্রী ‘সাউন্ড বাইট’ থেকে ‘মোর জাম্প’- প্রথমদিনে মন্ত্রীরা যা বললেন রমজান উপলক্ষ্যে স্কুল ছুটি বৃহস্পতিবার থেকে শিক্ষকতা থেকে রাজপথ, নয়া সরকারের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ হলেন মির্জা ফখরুল জনগণের প্রত্যাশা পূরণে প্রত্যেক মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তিন বারের এমপি পানি সম্পদ মন্ত্রী এ্যানির বর্ণাঢ্য জীবন দেশের সর্বকনিষ্ঠ মেয়র থেকে পূর্ণমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আহ্বানে জজের চাকরি ছেড়ে বিএনপিতে, আজ পূর্ণ মন্ত্রী বাংলাদেশে ‘মব কালচার’ শেষ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

গাজার মালিক হবেন ট্রাম্প!

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৫-০২-১০, | ১০:০৯:৪৩ |

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, আমি গাজা কিনে এর মালিক হওয়ার ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এই ভূখণ্ডের কিছু অংশ উন্নয়নের জন্য অন্য দেশগুলোর কাছে ছেড়ে দেব। খবর তুরস্কের রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির।

ওয়াশিংটন থেকে লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের নিউ অরলিয়ন্সের উদ্দেশে এয়ার ফোর্স ওয়ানে যাত্রার ঠিক আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি গাজা কেনার এবং এর মালিক হওয়ার ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’ তার এই মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

রবিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ট্রাম্প পুনরায় উল্লেখ করেন যে, গাজার বর্তমান অবস্থা সম্পূর্ণ ধ্বংসপ্রাপ্ত এবং বসবাসের অনুপযোগী। তিনি বলেন, ‘এটি অত্যন্ত অনিরাপদ একটি এলাকা, যেখানে মানুষ শান্তিতে বসবাস করতে পারছে না।’ তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, ভবিষ্যতে এটি উন্নয়নযোগ্য একটি জায়গায় পরিণত হবে।

তার মতে, অন্যান্য দেশগুলোর সহায়তায় এই অঞ্চলকে নতুন করে গড়ে তোলা হবে, যেখানে মানুষ নিরাপদে বসবাস করতে পারবে। ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা এটিকে এমন এক জায়গায় পরিণত করব, যেখানে মানুষ বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন স্থান থেকে আসতে পারবে। তবে আমরা নিশ্চিত করব যে, ফিলিস্তিনিরা নিরাপদ এবং সুন্দরভাবে বসবাস করতে পারে। তারা যেন হত্যা ও সহিংসতার শিকার না হয়, তা নিশ্চিত করা হবে। এটি এখন বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক এলাকা, কিন্তু আমরা এটিকে স্থিতিশীল করব।’

যুক্তরাষ্ট্রে ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের গ্রহণ করা হবে কি না—এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘এটি একটি দূরবর্তী সিদ্ধান্ত’ এবং তিনি বিষয়টি বিবেচনা করে দেখবেন। তাঁর মতে, ফিলিস্তিনিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্র অনেক দূরের পথ, তবে তিনি কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেবেন।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমাকে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করতে হবে। আমি মনে করি, এটি ফিলিস্তিনিদের জন্য অনেক দূরের পথ। তবে আমি কিছু নির্দিষ্ট ঘটনাকে বিবেচনায় নেব। যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই অনেক মানুষকে গ্রহণ করছে, তাই এটি নিয়ে ভাবতে হবে।’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘আমি মনে করি, ফিলিস্তিনিরা যদি তাদের নিজস্ব অঞ্চলে একটি নিরাপদ জায়গায় থাকতে পারে এবং ভালোভাবে জীবনযাপন করতে পারে, তবে সেটিই তাদের জন্য সবচেয়ে ভালো হবে।’

ট্রাম্প দাবি করেন, অধিকাংশ ফিলিস্তিনি ধ্বংসপ্রাপ্ত গাজায় ফিরে যেতে চায় না এবং তিনি আশা প্রকাশ করেন, মিসর ও জর্ডান তাদের সহায়তা করবে। তিনি আরও বলেন, এই প্রক্রিয়ায় অন্যান্য দেশগুলোরও ভূমিকা রাখা উচিত। সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ধনী দেশগুলোর বিপুল সম্পদ রয়েছে, যা এই পুনর্বাসন ও উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় করা যেতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘তাদের কাছে প্রচুর সম্পদ রয়েছে, তারা এই কাজে কিছু অর্থ ব্যয় করতে পারে। এতে মানুষ নিরাপদ এবং আরামে বসবাস করতে পারবে।’

ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানান, যুক্তরাষ্ট্র গাজায় ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাসের উপস্থিতি চায় না। তিনি গাজাকে একটি বিশাল ‘রিয়েল এস্টেট’ প্রকল্প হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এটিকে ধীরে ধীরে, কোনো তাড়াহুড়া ছাড়াই উন্নয়ন করবে। তিনি বলেন, ‘গাজাকে একটি রিয়েল এস্টেট প্রকল্প হিসেবে ভাবুন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র মালিকানা থাকবে এবং ধাপে ধাপে এটি উন্নয়নের কাজ করবে। এটি মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা আনবে এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত এই অঞ্চলকে শান্তিপূর্ণ করে তুলবে। গাজা দীর্ঘদিন ধরে বিশাল সমস্যা সৃষ্টি করে আসছে, আর এখন এটি আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে।’

এর আগে, গত ৪ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্প বলেছিলেন, ওয়াশিংটন গাজার নিয়ন্ত্রণ নেবে এবং ফিলিস্তিনিদের অন্যত্র পুনর্বাসন করবে। তিনি দাবি করেন, তাঁর পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে গাজা ‘মধ্যপ্রাচ্যের রিভেরায়’ পরিণত হতে পারে, যা বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় এবং উন্নত অঞ্চল হিসেবে গড়ে উঠবে।

তবে ট্রাম্পের এই প্রস্তাব ব্যাপক প্রতিক্রিয়া ও নিন্দার মুখে পড়ে। ফিলিস্তিনি নেতারা এবং সাধারণ জনগণ এই পরিকল্পনাকে তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। এ ছাড়া, সৌদি আরব, মিসর, জর্ডানসহ বেশ কয়েকটি আরব দেশ এবং কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ট্রাম্পের প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেছে।


শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..

Dhaka Forecast & Prayer Schedule

--°C
Loading...
💧 Humidity
--%
🌬 Wind
-- km/h

3-Day Forecast

Prayer Time

🕌 Fajr 🕌 Dhuhr
-- --
🕌 Asr 🕌 Maghrib
-- --
🕌 Isha
--
Loading countdown…
দেশ ও মুদ্রা ১ ইউনিট = টাকা পরিবর্তন
⏳ Currency data loading...