✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-১০-১৮, | ২৩:২৪:৩২ |সড়কে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারী মোটরসাইকেল সহজে শনাক্ত করতে বাইকের সামনের অংশেও রেজিস্ট্রেশন নম্বরসংবলিত প্লেট লাগানোর নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় নির্ধারিত মাপ, রং ও উপকরণ অনুসরণ করে নম্বর প্লেট লাগাতে হবে মালিকদের।
বিআরটিএর গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশনা বাস্তবায়ন না করলে সংশ্লিষ্ট মোটরসাইকেল মালিকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিআরটিএর তথ্য অনুযায়ী, এতোদিন মোটরসাইকেলের পেছনে অনুমোদিত রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশন (আরএফআইডি) প্রযুক্তিসহ উন্নতমানের রেট্রো-রিফ্লেক্টিভ ধাতব নম্বর প্লেট ব্যবহারের বিধান ছিল। তবে সম্প্রতি ঢাকার বিভিন্ন সড়কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ক্যামেরার মাধ্যমে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। চলন্ত মোটরসাইকেলের সামনের দিক থেকেও যেন নম্বর স্পষ্টভাবে শনাক্ত করা যায়, সে লক্ষ্যেই সামনে নম্বর প্লেট লাগানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গত জুলাইয়ে পরিবেশদূষণ নিয়ন্ত্রণবিষয়ক এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয় ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও বিআরটিএকে।
নম্বর প্লেটের মাপ ও রং নির্ধারণ
নির্দেশনায় নম্বর প্লেটের নির্দিষ্ট মাপ, রং ও উপকরণ ব্যবহারের নিয়ম জানানো হয়েছে। স্কুটারের ক্ষেত্রে নম্বর প্লেটের দৈর্ঘ্য হবে ২০০ মিলিমিটার এবং প্রস্থ ১০০ মিলিমিটার।
স্কুটার ছাড়া অন্যান্য মোটরসাইকেলের নম্বর প্লেটের দৈর্ঘ্য হবে ২৮৫ মিলিমিটার এবং প্রস্থ ৫০ মিলিমিটার।
নম্বর প্লেটে বাংলা অক্ষর ও সংখ্যার উচ্চতা কমপক্ষে ২০ মিলিমিটার হতে হবে। প্লেট তৈরিতে স্টেইনলেস স্টিল অথবা অ্যালুমিনিয়াম ব্যবহার করতে হবে। এর পটভূমি হবে সাদা এবং অক্ষর ও সংখ্যা থাকবে কালো রঙের। নম্বর প্লেটে কোনো শোভাবর্ধক নকশা বা অতিরিক্ত উপাদান ব্যবহার করা যাবে না।
স্কুটার ছাড়া অন্যান্য মোটরসাইকেলের নম্বর এক লাইনে লেখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
কারিগরি জটিলতা নিয়ে উদ্বেগ
নতুন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন নিয়ে মোটরসাইকেল মালিক ও সংশ্লিষ্ট খাতের ব্যক্তিদের মধ্যে কিছু প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বর্তমান মডেলের অনেক মোটরসাইকেলের সামনে নম্বর প্লেট লাগানোর নির্দিষ্ট জায়গা নেই। ফলে কিছু ক্ষেত্রে বাইকের মূল নকশায় পরিবর্তন আনতে হতে পারে। এছাড়া দ্রুতগতিতে চলার সময় বাতাস চলাচলে বাধা, বাইকের ভারসাম্য এবং ইঞ্জিন অতিরিক্ত গরম হওয়ার আশঙ্কা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।
এসব কারিগরি বিষয় যাচাই করতে বিআরটিএ, ডিএমপি, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউট এবং মোটরসাইকেল প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে সাত সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করেছে বিআরটিএ।
সব মোটরসাইকেলে কার্যকর হবে কি না?
দেশে বর্তমানে নিবন্ধিত মোটরসাইকেলের সংখ্যা প্রায় ৫০ লাখ। প্রতি বছর এর সঙ্গে আরো প্রায় পাঁচ লাখ মোটরসাইকেল যুক্ত হচ্ছে। নতুন নির্দেশনা বিদ্যমান সব মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে, নাকি শুধু নতুন নিবন্ধিত বাইকের জন্য প্রযোজ্য হবে- তা নিয়ে আলোচনা রয়েছে। এছাড়া নিবন্ধনহীন মোটরসাইকেল কিংবা নম্বর প্লেট ঢেকে রাখা যানবাহন শনাক্ত করতে এআই ক্যামেরা কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন বিশেষজ্ঞরা।
তবে এসব বিষয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা কার্যকর করতে কাজ করছে পুলিশ ও বিআরটিএ। নতুন নির্দেশনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে সড়কে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন শনাক্ত করা এবং নজরদারি আরো কার্যকর করাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য।