✕


প্রাদেশিক সরকার স্থগিত করায় কারাবন্দি ইমরান খানের সংকট বাড়ল

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-১০-১৭, | ০২:৩৭:৪৬ |

কারাবন্দি পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়ে চরম উদ্বেগে রয়েছে তার পরিবার। নির্জন কারাবাসে তার রক্তচাপ ওঠানামা করছে, এমনকি এক চোখের দৃষ্টিশক্তিও হারাতে বসেছেন তিনি। এমন এক কঠিন সময়ে বড় রাজনৈতিক ধাক্কা খেলেন ৭৪ বছর বয়সী এই রাজনীতিক। তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) শাসিত খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের সরকার স্থগিত করে সেখানে জরুরি অবস্থা জারি করেছে পাকিস্তান সরকার।

আফগান সীমান্তবর্তী এই প্রদেশে সম্প্রতি জঙ্গি হামলা বেড়ে যাওয়ার কারণে গত রবিবার প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি এই জরুরি অবস্থা জারি করেন। এর মাধ্যমে পিটিআই সরকারকে সরিয়ে জারদারির দলের একজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পিটিআইয়ের দাবি, মূলত দলের আর্থিক সংস্থান বন্ধ করতে এবং ইসলামাবাদমুখী পদযাত্রা ঠেকাতেই এটি একটি রাজনৈতিক চাল।

গত বুধবার পেশোয়ার হাইকোর্টে এর বিরুদ্ধে আপিল করেছে দলটি। ইমরানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী জুলফি বুখারি বলেন, নেতার মৌলিক মানবাধিকারের সঙ্গে সন্ত্রাসবাদকে মেলানোটা একেবারেই হাস্যকর।

ইমরানের মুক্তি ও চিকিৎসার দাবিতে সেখানে জড়ো হয়েছিলেন হাজারো সমর্থক। কিন্তু পদযাত্রার আগেই তার তিন বোনসহ শত শত নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষক নাজাম শেঠির মতে, এতে ইমরান খানের সংকট আরও বাড়ল। পিটিআই এখন সরকারও হারিয়েছে, আবার নেতাদেরও জেলে যেতে হয়েছে। এর ফলে সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে দলটির চলমান দ্বন্দ্ব আরও চরম আকার ধারণ করবে।

এর আগে গত সপ্তাহে পিটিআইয়ের সঙ্গে আলোচনায় বসেছিল শাহবাজ শরিফ সরকার। পিটিআই ইমরানের ব্যক্তিগত চিকিৎসা ও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের দাবি জানায়। জবাবে সরকার শর্ত দেয়, পিটিআইকে প্রকাশ্যে জঙ্গিবাদের নিন্দা জানাতে হবে এবং সরকারের সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে যোগ দিতে হবে। কিন্তু পিটিআই সেই শর্ত মানেনি।

পাকিস্তানে ১৯৭৫ সালের পর থেকে পাঁচবার এমন জরুরি অবস্থা জারি হলেও কয়েক মাসের মধ্যেই তা বাতিল হয়ে যায়। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অবিলম্বে অর্থবহ সংলাপের আহ্বান জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..