✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-১০-১৫, | ১৩:৪৪:৪৫ |হরমুজ প্রণালিতে অজ্ঞাত নিক্ষিপ্ত বস্তুর আঘাতে সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী একটি কনটেইনার জাহাজ ডুবে গেছে। মঙ্গলবারের এ ঘটনায় জাহাজটির ২১ জন নাবিককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাদের কেউ আহত হননি বলে জানিয়েছে সিঙ্গাপুরের সামুদ্রিক ও বন্দর কর্তৃপক্ষ। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
‘জিএফএস প্রাইড’ নামের জাহাজটিতে হামলার পর ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং আগুন ধরে যায়। পরে এটি ডুবে যায় বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
এদিকে সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী আরেকটি কনটেইনার জাহাজ ‘জিএফএস জিসেল’ বুধবার হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জাহাজটির বাইরের কাঠামোয় ক্ষতি হলেও ২২ জন নাবিকসহ এটি নিরাপদ নোঙরস্থলে পৌঁছাতে সক্ষম হয়।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির একটি ‘অননুমোদিত’ পথে চলাচলের সময় নৌ-মাইনের আঘাতে একটি জাহাজ ডুবে গেছে। এ বিষয়ে প্রকাশিত ছবিতে একটি কনটেইনারবাহী জাহাজের পেছনের অংশ পানিতে ডুবে থাকতে এবং সেখান থেকে কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। অন্য ছবিতে পানিতে ভাসতে থাকা অসংখ্য কনটেইনার ও সেগুলোর পণ্য দেখা গেছে।
পাকিস্তানের হাইড্রোগ্রাফার নাবিকদের সতর্ক করে জানিয়েছেন, ওমানের মুসান্দাম উপদ্বীপের রাস আল-শেখ মাসুদের উত্তর-পশ্চিমে প্রায় ৪ নটিক্যাল মাইল বা ৭ দশমিক ৪ কিলোমিটার দূরে জিএফএস প্রাইড ডুবে গেছে।
অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য পরিচালনা সংস্থা (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, মঙ্গলবার গ্রিনিচ মান সময় বিকেল ৪টা ৪০ মিনিট থেকে ৫টার মধ্যে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় দুটি নাম প্রকাশ না করা কনটেইনারবাহী জাহাজ অজ্ঞাত নিক্ষিপ্ত বস্তুর আঘাতের খবর দেয়। জাহাজ দুটি সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হলেও চলাচল অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়।
ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে হরমুজ প্রণালি এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য এলাকায় বাণিজ্যিক জাহাজ বারবার হামলার শিকার হচ্ছে।
জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার (আইএমও) তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া ১০৬টি ঘটনায় অন্তত ২৪ জন নাবিক নিহত হয়েছেন।
এ সময় ডুবে যাওয়া অন্য জাহাজটি হলো মাল্টার পতাকাবাহী কনটেইনারবাহী ‘সাফিন প্রেস্টিজ’। গত ৪ মার্চ ওমানের কাছে জাহাজটিতে হামলা চালানো হয়েছিল।
এদিকে সামুদ্রিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ভ্যানগার্ড বুধবার জানিয়েছে, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার পতাকাবাহী পণ্যবাহী জাহাজ ‘কেপ দাও’ উদ্ধারের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর সেটিও ডুবে যাওয়ার মুখে রয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর ওমানের খাসাবের উত্তর-পূর্বে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় জাহাজটির চালনাকক্ষ ও নাবিকদের থাকার অংশে অজ্ঞাত নিক্ষিপ্ত বস্তুর আঘাত লাগে। এতে একজন নাবিক নিহত হন।
বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সাধারণত হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করে। কিন্তু ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়া এবং দেশটির বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের কারণে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ কার্যত বন্ধ হয়ে পড়ে।
জুনে যুদ্ধের অবসান ও হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি প্রাথমিক সমঝোতা হয়েছিল। তবে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে জাহাজে ইরানের হামলা পুনরায় শুরু হওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ আবার কার্যকর করায় সেই সমঝোতা ভেস্তে যায়।
ইরান জানিয়েছে, এই জলপথের ওপর থেকে তারা নিজেদের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি ছেড়ে দেবে না। এরপর দেশটি ওমানের জলসীমা দিয়ে যাওয়া দক্ষিণের পথে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করতে শুরু করে। এই পথটি ইরানের জলসীমা দিয়ে যাওয়া তাদের পছন্দের পথ এড়িয়ে যায়।
উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর তেল রপ্তানি অব্যাহত রাখতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী তেলবাহী ট্যাংকারগুলোকে নিরাপত্তা দিচ্ছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
জাহাজ চলাচলে হামলা বাড়লেও গত মাসে হরমুজ প্রণালি দিয়ে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি যুদ্ধ-পূর্ববর্তী পর্যায়ের প্রায় ৮০ শতাংশে পৌঁছেছিল। জাহাজ চলাচলের তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের বিশ্লেষকদের হিসাবে, যুদ্ধের আগে এই জলপথ দিয়ে দৈনিক গড়ে ১ কোটি ৬০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রপ্তানি হতো।
সাম্প্রতিক হামলাগুলো গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের নিরাপত্তা এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।