✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-১০-১৫, | ০১:৪৩:৪৪ |চীনের সামুদ্রিক তৎপরতার ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করে জনসমর্থন পেয়েছে ফিলিপাইন। কিন্তু এতে বেইজিংয়ের আচরণ বদলেছে কি না, সেটিই আসল প্রশ্ন। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো দেখাচ্ছে, তথ্য প্রকাশের পাশাপাশি ম্যানিলার প্রয়োজন শক্তিশালী সামরিক অংশীদারত্ব, সুস্পষ্ট অবস্থান ও সমন্বিত প্রচারকৌশল।
চারমেইন মিসালুচা-উইলৌবির বিশ্লেষণে এ বক্তব্য উঠে এসেছে। ফিলিপাইনের সংশ্লিষ্ট জাতীয় টাস্কফোর্স জানিয়েছে, ১০ অক্টোবর পালাওয়ানের ফিলিপাইন-নিয়ন্ত্রিত কোটা দ্বীপের কাছে চীনা সামুদ্রিক মিলিশিয়ার ২২টি জাহাজ মোতায়েন ছিল। দুই সপ্তাহ পর ৯৬২২ নম্বর মিলিশিয়া জাহাজ ও ২২টি ছোট নৌকাও সেখানে ফিরে আসে। তাদের বিরুদ্ধে অনুমতিহীন মাছ ধরা ও বর্জ্য ফেলার অভিযোগ করা হয়েছে।
৮ অক্টোবর আয়ুঙ্গিন প্রবালপ্রাচীরে বিআরপি সিয়েরা মাদ্রে থেকে এক সেনাকে সরিয়ে নেওয়ার অভিযানে চীনা কোস্টগার্ড জলকামান ব্যবহার করে। কাছের মিসচিফ প্রবালপ্রাচীরে চীনের সামরিকীকরণের প্রতিক্রিয়ায় ১৯৯৯ সালে সিয়েরা মাদ্রে জাহাজটি ইচ্ছাকৃতভাবে সেখানে আটকে রেখেছিল ফিলিপাইন।
ভুল হিসাবের ঝুঁকি কমাতে ২০২৪ সালে দুই দেশ সাময়িক সমঝোতা করেছিল। তবু ২৫ সেপ্টেম্বর সেনা বদলি ও রসদ সরবরাহে বাধার কথা জানায় ফিলিপাইন। এর আগে ১৮ সেপ্টেম্বর জেলেদের জ্বালানি দিতে যাওয়ার সময় চীনা কোস্টগার্ডের ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় বিআরপি দাতু মাগাত সালামাত।
ফিলিপাইনের হিসাবে, গত মাসে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় চীনের নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের ১০১টি জাহাজ দেখা গেছে। আগস্টে ছিল ৫৬টি।
লেখকের মতে, সমুদ্রের চাপের পাশাপাশি চীনের ক্ষতিকর তথ্যপ্রচারও নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থাকে চ্যালেঞ্জ করছে। ইতিহাস নতুনভাবে উপস্থাপন এবং উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়াও এর অংশ।
আগের নীরব কূটনীতি ছেড়ে ফিলিপাইন এখন ছবি, ভিডিও ও প্রতিবেদন প্রকাশ করছে। লক্ষ্য জনসচেতনতা বাড়ানো, অপতথ্য মোকাবিলা এবং ২০১৬ সালের সালিসি রায়ের পক্ষে আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়। তবে এটি একাই পূর্ণাঙ্গ কৌশল নয়।
লেখক তিনটি ক্ষেত্রে উদ্যোগের পরামর্শ দিয়েছেন। প্রথমত, দ্বীপপুঞ্জভিত্তিক প্রতিরক্ষা পরিকল্পনার সঙ্গে বিদেশি সামরিক অংশীদারদের যুক্ত করতে হবে। ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি, অস্ত্র মোতায়েন ও অভিযান এলাকায় সামরিক উপস্থিতি নিয়ে স্পষ্ট আলোচনা প্রয়োজন।
দ্বিতীয়ত, জাতীয় স্বার্থ, অভিন্ন মূল্যবোধ ও কোন সীমা লঙ্ঘন মেনে নেওয়া হবে না—এসব বিষয়ে বক্তব্য ও পদক্ষেপে সামঞ্জস্য রাখতে হবে। ফেসবুকনির্ভর সংবাদ গ্রহণের বাস্তবতায় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি সংস্থা এবং রাষ্ট্রসমর্থিত সংবাদমাধ্যমের জবাবদিহিও বাড়ানো দরকার।
তৃতীয়ত, ২০২৬ সালের আসিয়ান সভাপতিত্ব কাজে লাগিয়ে সংগঠনটিকে শুধু বৈঠকের মঞ্চ থেকে নীতিনির্ধারণে প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার আলোচনা এগিয়ে নিতে হবে। মিয়ানমার, থাই-কম্বোডিয়া সীমান্ত ও দক্ষিণ চীন সাগরে কার্যকর সাড়া না দিলে আসিয়ানের গুরুত্ব কমবে। লেখকের মতে, ১৯৬৭ সালের বাস্তবতায় গড়া ঐকমত্য ও হস্তক্ষেপ না করার নীতিও বর্তমান পরিস্থিতির আলোকে পর্যালোচনা প্রয়োজন