✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-১০-১৫, | ০১:৩৩:৩১ |অস্ট্রেলীয় নৌবাহিনীর একটি জাহাজের কেবিনে গোপনে ভিডিও ধারণের একটি যন্ত্র পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা বিভাগ। জাহাজটিতে কর্মরত নারী নাবিকদের ব্যক্তিগত মুহূর্ত গোপনে ধারণ করা হয়ে থাকতে পারে এবং সেই ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনও নিশ্চিত করেনি কর্তৃপক্ষ।
রবিবার কুইন্সল্যান্ডের কেয়ার্নস এলাকায় অস্ট্রেলীয় নৌবাহিনীর জাহাজ এইচএমএএস লিউউইনের একটি কেবিনে যন্ত্রটি পাওয়া যায় বলে নিশ্চিত করেছে অস্ট্রেলীয় প্রতিরক্ষা বাহিনী (এডিএফ)। ঘটনাটি তদন্তের জন্য যৌথ সামরিক পুলিশ ইউনিটের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বুধবার অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেটে বিষয়টি উত্থাপন করেন স্বতন্ত্র সিনেটর জ্যাকি ল্যাম্বি। সাবেক সামরিক সদস্য ও প্রতিরক্ষা খাতের সোচ্চার সমর্থক হিসেবে পরিচিত ল্যাম্বি বলেন, নৌবাহিনীর কয়েকজন সদস্য তার সঙ্গে যোগাযোগ করে গোপন ক্যামেরা পাওয়ার অভিযোগ জানিয়েছেন।
ল্যাম্বির দাবি, সম্প্রতি নারী নাবিকদের গোসলখানায় গোপনে ক্যামেরা বসানোর ঘটনা ঘটেছে বলে তাকে জানানো হয়েছে।
এছাড়া, এসব ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিও ডিভাইসগুলো শনাক্ত হওয়ার আগেই অনলাইনে আপলোড করা হয়ে থাকতে পারে বলেও অভিযোগ পেয়েছেন তিনি।
সিনেটে বক্তব্যে ল্যাম্বি বলেন, তদন্ত চলাকালে জাহাজটির সমুদ্রে যাত্রা স্থগিত রাখা হয়েছিল বলে তাকে জানানো হয়েছে। তবে ঠিক কোথায় ক্যামেরা পাওয়া গেছে কিংবা গোসলখানায় গোপন ক্যামেরা থাকার অভিযোগের সঙ্গে উদ্ধার হওয়া যন্ত্রটির সম্পর্ক রয়েছে কি না, রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তা স্পষ্ট নয়।
তিনি বলেন, “আমাদের কতজন নারী নাবিকের অজান্তে তাদের সবচেয়ে ব্যক্তিগত মুহূর্তগুলো ধারণ করা হয়েছে? তাদের সম্মতি ছাড়া এ পর্যন্ত কত ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, সংরক্ষণ করা হয়েছে কিংবা আপলোড করা হয়েছে? আজ নৌবাহিনীর কাছে আমি এসব প্রশ্নের উত্তর চাই।”
তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত জানায়নি প্রতিরক্ষা বিভাগ
বুধবার এক বিবৃতিতে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা বিভাগ জানায়, এইচএমএএস লিউউইনের একটি কেবিনে ভিডিও ধারণের যন্ত্র পাওয়া যাওয়ার বিষয়টি তারা জানতে পেরেছে। তবে যন্ত্রটি জাহাজের ঠিক কোন স্থানে পাওয়া গেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
বিবৃতিতে বলা হয়, প্রতিরক্ষা বিভাগ ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। যেকোনও ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ও অগ্রহণযোগ্য আচরণের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান কঠোর।
বিভাগটি আরও জানায়, তদন্ত পরিচালনা এবং জাহাজের সদস্যদের তাৎক্ষণিক সহায়তা নিশ্চিত করতে জাহাজটিকে বন্দরে রাখা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কল্যাণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে এবং তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত রয়েছে।
চলমান তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার স্বার্থে এ মুহূর্তে এর বেশি তথ্য দেওয়া সম্ভব নয় বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
নারী নাবিকদের গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগ
ঘটনাটি অস্ট্রেলীয় নৌবাহিনীতে কর্মরত নারী সদস্যদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে, গোপনে ধারণ করা কোনও ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তবে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ভিডিও ধারণ, তা সংরক্ষণ কিংবা অনলাইনে প্রকাশের বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত তথ্য প্রকাশ করেনি অস্ট্রেলীয় প্রতিরক্ষা বিভাগ। একইভাবে, উদ্ধার হওয়া যন্ত্রটি নারী নাবিকদের গোসলখানায় পাওয়া গেছে কি না, সেটিও নিশ্চিত করা হয়নি।
তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। কর্তৃপক্ষের তদন্তে যন্ত্রটির ব্যবহার, এর মাধ্যমে কোনও ভিডিও ধারণ করা হয়েছিল কি না এবং ধারণ করা হয়ে থাকলে সেগুলো কোথাও ছড়িয়ে পড়েছে কি না- এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সূত্র: বিবিসি