✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-১০-১৪, | ২৩:২৩:০৪ |ঢাকায় শিল্পকলা একাডেমির সামনের দেয়ালে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতি মোছার চেষ্টার মামলায় ‘রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম’- এর সভাপতি আল নুর মোহাম্মদ আয়াস ওরফে এ এন এম আয়াস ও মারজিয়া খন্দকার রিমিকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
আজ বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিয়াদ হাসান শুনানি শেষে তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার এসআই আব্দুল গাফফার হিমেল তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানান।
আসামিপক্ষে অ্যাডভোকেট মনির হোসেন সুমন জামিন চেয়ে শুনানি করেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিউকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।
এর আগে মঙ্গলবার সাকিবুল হাসান ও সুজন মিয়াকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়।
গত ৫ অক্টোবর সেগুনবাগিচায় ফুটপাত দখলমুক্ত করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। এরপর ফুটপাতের পাশের দেয়ালে রবীন্দ্রনাথ, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন, সত্যজিৎ রায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরসহ শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অবদান রাখা ১০ জন গুণী ব্যক্তিত্বের প্রতিকৃতি আঁকা হয়।
'জুলাই রেভ্যুলুশনারি অ্যালায়েন্স' নামে একটি ফেসবুক পেজ থেকে গত ৯ অক্টোবর এসব সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের ছবি আঁকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। এরপর গত ১০ অক্টোবর দুপুরে শিল্পকলা একাডেমির সামনের দেয়ালে আঁকা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতি মুছতে গিয়ে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন আয়াসসহ একদল তরুণ।
এর জেরে উভয়পক্ষের বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে আয়াসসহ চারজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। ঘটনাস্থলে এক নারীকে রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতিতে কালি ছিটাতে দেখা যায়, তখন এক পুলিশ সদস্য তাকে বাধা দেন। এ সময় ওই নারী জানান, তারা ‘ভারতীয় আগ্রাসনের প্রতিবাদ’ জানাতে এসেছেন। পুলিশি বাধার মুখে ‘রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম’-এর সদস্য সচিব এ এন এম আয়াসের নেতৃত্বে তারা স্লোগানও দেন।
এ ঘটনায় এসআই জিয়াউল হক শাহবাগ থানার গত শনিবার এই মামলা দায়ের করেন। আসামিদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র করা, বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টি এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগ আনা হয়েছে।