✕


ছিনতাইয়ের পর গার্মেন্টসকর্মী হত্যা; ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-১০-০৬, | ১৪:০৫:৪১ |

রাজধানীর মিরপুরে ছিনতাইয়ের পর সায়মন নামে এক গার্মেন্টসকর্মীকে হত্যার মামলায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় চোরাই মোবাইল কেনার দায়ে সুজন নামে একজনকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ-১৩-এর বিচারক জাহিদুল ইসলামের আদালত এ রায় দেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন মো. ইউসুফ, ইকবাল খাঁ ও মেহেদী হাসান। তাঁদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী সোহেল মিয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, রায় ঘোষণার আগে কারাগারে থাকা ইউসুফ, ইকবাল ও মেহেদী হাসানকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় শেষে তাঁদের সাজা পরোয়ানামূলে কারাগারে পাঠানো হয়। সুজন পলাতক থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, সায়মন মিরপুর-১ নম্বরে সনি সিনেমা হলের পেছনে লিবার্টি গার্মেন্টসে ১০ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করতেন। ২০২২ সালের ১১ অক্টোবর অফিস থেকে বেতন তুলে দুই সহকর্মী রিফাত হোসেন রাব্বি ও হৃদয় হাসানের সঙ্গে মিরপুর-১ এলাকায় কেনাকাটা করতে যান তিনি।

কেনাকাটা শেষে রাত ৯টার দিকে বাসায় ফেরার পথে আড়ং শপিং সেন্টারের সামনে অজ্ঞাতপরিচয় তিন ছিনতাইকারীর একজন সায়মনকে তাঁর ছোট ভাইকে মারধরের অভিযোগ তুলে ‘কথা আছে’ বলে ভয় দেখান। পরে সায়মন ও রিফাতকে রিকশায় করে দারুস সালাম থানার কোনাবাড়ি হয়ে কাঁচাবাজারের সামনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে রিফাতকে নামিয়ে দিয়ে সায়মনকে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে তিনজন ছিনতাইকারী চাকু দেখিয়ে সায়মনের কাছে থাকা জিনিসপত্র দিয়ে দিতে বলে। তিনি মোবাইল ফোন ও টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে ছুরিকাঘাত করে টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে তারা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা সায়মনকে উদ্ধার করে পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় সায়মনের বাবা শাজাহান শেখ বাদী হয়ে দারুস সালাম থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন।

তদন্ত শেষে দারুস সালাম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সোহান আহমেদ ২০২৩ সালের ৩১ জানুয়ারি ইউসুফ, ইকবাল ও মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের পর হত্যার অভিযোগে এবং সুজনের বিরুদ্ধে চোরাই মাল নিজের কাছে রাখার অভিযোগে আদালতে অভিযোগপত্র দেন।

২০২৩ সালের ২ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলার বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে আদালত ১৮ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..