✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-১০-০১, | ১৪:৪৩:৪৫ |দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের ফ্লাইটে ঘটে যাওয়া এক রোমহর্ষক ছিনতাই ও বিমান বিধ্বস্তের চেষ্টা রুখে দিয়েছেন ভারতীয় পাইলট স্মিত মাচ্ছার এবং চার সাহসী যাত্রী। ১৭৪ জন যাত্রী ও ছয়জন কেবিন ক্রু নিয়ে উড়তে থাকা বিমানটিকে এক ওমানি কো-পাইলটের হাত থেকে বাঁচিয়ে নিরাপদে জরুরি অবতরণ করানো সম্ভব হয়েছে।
ফ্লাইটের সময় বিমানের ওমানি কো-পাইলট হঠাৎই আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন এবং ককপিটে থাকা ক্র্যাশ কুঠার ব্যবহার করে মূল পাইলট স্মিত মচ্ছারকে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করেন। তিনি বিমানটি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে খাড়াভাবে নিচের দিকে নামিয়ে এনে ক্র্যাশ করানোর চেষ্টা করছিলেন। গুরুতর রক্তপাত ও মারাত্মক জখম থাকা সত্ত্বেও স্মিত মচ্ছার মানসিক দৃঢ়তা দেখিয়ে ককপিটের দরজা খুলে দিতে সক্ষম হন এবং কেবিন ক্রুদের বিপদের কথা জানান। এরপর তিনি মেঝেতে ঢলে পড়েন।
ঘটনার আকস্মিকতায় বিমানে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। যাত্রী আসাফ রাজুয়ানের ভাষ্যমতে, আমরা শৌচাগারের কাছ থেকে বিকট চিৎকার শুনতে পাই। এক মেয়ের মা চিৎকার করতে করতে বেরিয়ে আসেন এবং আমরা বুঝতে পারি বিমানে ভয়াবহ কিছু ঘটেছে। বিমানটি একদম ৯০ ডিগ্রি কোণে নিচের দিকে নামছিল। আমরা বুঝতে পেরেছিলাম নিয়ন্ত্রক হাতছাড়া হয়েছে এবং বিমানে চরম রক্তপাত ঘটছে।
ঠিক সেই মুহূর্তে চারজন ইসরায়েলি যাত্রী দ্রুত ককপিটের দিকে ছুটে যান। তাদের মধ্যে প্রথম ককপিটে পৌঁছান পেশায় প্লাম্বার ইয়ানিভ হায়ুন। তিনি ককপিটে ঢুকে দেখতে পান আততায়ী বিমানের মূল নিয়ন্ত্রণ নষ্ট করার চেষ্টা করছে এবং তখন কোনো পাইলট আসনে ছিলেন না। হায়ুন আততায়ীকে চেপে ধরেন এবং ককপিট থেকে টেনে বের করে আনেন। বিমানকে সমতলে ফেরাতে তিনি ওয়াই-ফাই হেডফোনের তার ও নিজস্ব বুদ্ধিমত্তা কাজে লাগান। হায়ুন জানান, আমি 'মেডে' অনুষ্ঠান দেখতাম, সেখান থেকেই ইয়োক (নিয়ন্ত্রণদণ্ড) টেনে বিমানটিকে সোজা করার চেষ্টা করি।
তাদের সাথে যোগ দেন আসাফ রাজুয়ান এবং ব্যাংক লিউমির আন্ডাররাইটিং কোম্পানির সিইও জভিকা মানেস। শক্তিশালী ও উন্মত্ত কো-পাইলটকে কাবু করতে বেশ কসরত করতে হয়। জভিকা মানেস জানান, মাল্টিমিডিয়া হেডফোনের তার দিয়ে অত্যন্ত জখম অবস্থায় থাকা আক্রমণকারীকে বেঁধে ফেলা হয়। প্রায় ৫০ মিনিট ধরে তাকে এভাবে নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয়।
ককপিটে যখন এই মল্লযুদ্ধ চলছিল, তখন বিমানে উপস্থিত একমাত্র চিকিৎসক, পেশায় ডেন্টিস্ট শোটা মুসায়েভ এগিয়ে আসেন রক্তাক্ত পাইলট স্মিত মচ্ছারকে বাঁচাতে। মুসায়েভ সিএনএন-কে জানান, পাইলটের মাথায় ও হাতে মারাত্মক জখম ছিল, তার হাত দুটি প্রায় কেটে আলাদা হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থায় পৌঁছেছিল। প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছিল।" দ্রুত চিকিৎসা দিয়ে তিনি মাচ্ছারের রক্তপাত বন্ধ করতে সক্ষম হন। রক্তাক্ত মেঝেতে পড়ে থেকেও মাচ্ছার জ্ঞান হারাননি এবং তাদের সাথে কথা বলছিলেন।
পরবর্তীতে বিমানে থাকা দুই অফ-রোস্টার পাইলট বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেন এবং সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে ফ্লাইটটি জরুরি অবতরণ করান। বর্তমানে স্মিত মাচ্ছার তাবুকের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তার অবস্থা স্থিতিশীল।
এই বীরত্বপূর্ণ কাজের জন্য ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছারের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
সূত্র: এনডিটিভি