✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৯-৩০, | ২০:২৩:০০ |নাটোর জেলার অন্যতম প্রধান ব্যবসাকেন্দ্র বড়াইগ্রামের মৌখাড়া হাট থেকে আহম্মেদপুর বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত ছয় কিলোমিটার সড়কের সাড়ে তিন কিলোমিটার অংশ ভেঙে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে বড়াইগ্রাম ও গুরুদাসপুর উপজেলার বাসিন্দারা প্রায় ১০ বছর ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, নওদাজোয়াড়ি কালভার্ট থেকে আলীপুর মাদরাসা পর্যন্ত সড়কের অবস্থা অত্যন্ত বেহাল। এ অংশের বেশির ভাগ জায়গায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই এসব গর্তে পানি জমে পুরো সড়ক ডুবে যায়। ফলে রাস্তা দেখা না যাওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই মোটরসাইকেলসহ ছোট যানবাহন উল্টে পানিতে পড়ে যায়। অনেক সময় গর্তে ট্রাকসহ বড় যানবাহনের চাকা দেবে গিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনাও ঘটছে।
স্থানীয়রা জানান, প্রতি শুক্রবার বড়াইগ্রাম ছাড়াও আশপাশের কয়েকটি উপজেলার মানুষ সিএনজিচালিত থ্রি-হুইলার, মোটরসাইকেল, ভ্যান ও ভুটভুটিতে করে মৌখাড়া হাটে আসেন। ক্রেতা-বিক্রেতারা ট্রাকে করে গরু-ছাগলও নিয়ে আসেন এ হাটে। এলাকাবাসীর চলাচলের পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিক্ষা বিস্তারের ক্ষেত্রেও সড়কটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। অথচ গত প্রায় ১০ বছরে সড়কের এই অংশে কোনো স্থায়ী সংস্কার করা হয়নি। কখনো বড় গর্তে ইট ফেলে, আবার কখনো সড়কে ইট বিছিয়ে দায়সারা সংস্কার করা হয়েছে।
স্থানীয়রা আরও জানান, মৌখাড়া হাট থেকে প্রায় এক কিলোমিটার উত্তরেই গুরুদাসপুর উপজেলা শুরু। বড়াইগ্রামের বাসিন্দাদের পাশাপাশি গুরুদাসপুরের কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষও এ পথ দিয়ে নাটোর, রাজশাহীসহ বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করেন। গুরুতর অসুস্থ রোগীদের জরুরি ভিত্তিতে রাজশাহীতে নেওয়ার ক্ষেত্রেও এ সড়কটি ব্যবহার করা হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে থাকায় দুই উপজেলার বাসিন্দারাই চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
ভাঙাচোরা সড়কের বিকল্প হিসেবে কেউ কেউ বড়াইগ্রাম থানা মোড় হয়ে বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়ক ব্যবহার করেন। এতে তাদের অতিরিক্ত ১৫ থেকে ২০ কিলোমিটার পথ ঘুরতে হয়।
মৌখাড়া ইসলামিয়া ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ লুৎফর রহমান বলেন, একটি কলেজ, একটি আলিম মাদরাসা, তিনটি হাইস্কুলসহ কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করে। কিন্তু খানাখন্দ ও কাদাপানির কারণে শত শত শিক্ষার্থীকে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
ট্রাকচালক আব্দুর রহমান বলেন, গর্তে ট্রাকের চাকা দেবে গিয়ে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যায়। কখনো কখনো গাড়িও বিকল হয়ে পড়ে। তাই এ সড়কে গাড়ি চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
অটোরিকশাচালক শহিদুল ইসলাম বলেন, বৃষ্টির পর পানিতে রাস্তা ডুবে যাওয়ায় গর্তগুলো দেখা যায় না। এ পথে চলাচল করতে গেলে প্রায়ই গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়।
নাটোর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুল হাসান সরকার বলেন, সড়কের সবচেয়ে খারাপ সাড়ে তিন কিলোমিটার অংশ আরসিসি ঢালাই করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। জনভোগান্তি লাঘবে অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কটির কাজ শুরু করা যাবে বলে আশা করছি।