✕

সর্বশেষ :
হরমুজে ইরানের নতুন চাল, বিপাকে যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলো সুপ্রিম কোর্টের ছুটির সংস্কৃতি বিচার ব্যবস্থায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে : অ্যাটর্নি জেনারেল পাবনায় হাসপাতালে প্রসবের পর দুই নবজাতকের মৃত্যু, অবহেলার অভিযোগ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণে শিল্পীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে : সংস্কৃতিমন্ত্রী বিনিয়োগ ও ব্লু ইকোনমি নিয়ে নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা: মাহ্দী আমিন আন্দোলনের মাঝেই যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করল দিল্লি পুলিশ হুতিদের হামলায় আতঙ্কিত সৌদি যুবরাজ, বাংকারে আশ্রয়ের খবর লালমনিরহাটে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ মামলায় আসামির যাবজ্জীবন অনিয়মিত অভিবাসন রোধে একযোগে কাজ করতে সম্মত বাংলাদেশ ও ইইউ তাজমিনের পোশাক ও মোবাইল পরীক্ষার জন্য যাচ্ছে সিআইডিতে

জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতালে হার্টের চিকিৎসায় দীর্ঘ অপেক্ষা, বাড়ছে অনিশ্চিয়তা

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৯-২৯, | ১৬:২০:০১ |
চার বছর বয়সী মরিয়ম। ছোট্ট এই শিশুর হার্টে আছে ৮ মিলিমিটারের ছিদ্র। তাই আদরের সন্তানকে নিয়ে হাসপাতালের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরে ভীষণ ক্লান্ত মা।

আর্থিক সচ্ছলতা না থাকায় শেষমেশ এসেছেন দেশের হৃদরোগ চিকিৎসার একমাত্র সরকারি প্রতিষ্ঠান জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতালে। কিন্তু অপারেশন এবং এনআইসিইউ জরুরি হলেও মিলছে না কিছুই। হাসপাতাল থেকে বলা হয়েছে, তিনমাস পর আসলে মিললেও মিলতে পারে চিকিৎসা। এমন অপেক্ষায় মরিয়মকে নিয়ে দীর্ঘশ্বাস মায়ের।

মরিয়মের মা বলেন, এখানে কোনো অক্সিজেনও দিচ্ছে না। সেই সকাল থেকে বসে আছি বাচ্চা নিয়ে। বাচ্চার শ্বাসও বেড়েছে অতিরিক্ত। বাচ্চা কিছু খায় ও না। এরা কোনো চিকিৎসাই করছে না, কোনো গ্রাহ্যই করছে না। সিরিয়ালে ৬১ নাম্বার। তিন মাস পর আসতে বলছে। বাচ্চা এখনি অনেক অসুস্থ। কালকে অনেক খারাপ হয়ে পড়ছিল বাচ্চার অবস্থা।

শুধু মরিয়ম নয়, দেশের গরীব-ধনী; লাখ লাখ রোগীর শেষ ভরসা সরকারি এই হাসপাতাল। তাই নিজের ও স্বজনদের চিকিৎসা সবার আগে করাতে, ভোর থেকেই শুরু হয় দীর্ঘ লাইন।

জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতালের ভাস্কুলার সার্জন অধ্যাপক ডা. শামীম রেজা বলেন, কেন তিন-চার মাস পরে ডেট দিচ্ছে। খুব বেশি তো ডাক্তার নেই। তাহলে এই কয়জনে একটা দিনে কয়টা অপারেশন করতে পারেন? বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে যে পরিমাণ পেশেন্ট আসেন, সেই পেশেন্ট আসলে এই শর্ট টাইমে এই কয়জন ডাক্তার দিয়ে কাভার করা সম্ভব না। তখন এই লেনদি একটা প্রসিডিউরের মধ্যে পড়ে যান এবং অনেক টাইম লাগে।

স্বাস্থ্যখাতে যেকোন সমস্যার সমাধানে মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য প্রায় একই রকম। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলছেন, ডাক্তারদের সংখ্যা বাড়ানো হলেই সংকট কেটে যাবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আগে তো ডাক্তার রিক্রুটমেন্ট তেমন হয় নাই। আমরা এবার কিন্তু ব্যাপক হারে ডাক্তার নিয়োগ করতে যাচ্ছি, নার্স নিয়োগ করতে যাচ্ছি। আমরা তো মাত্র ছয়টা মাস হলো দায়িত্ব নিলাম। আমরা পর্যায়ক্রমে এটাও করব। আমাদের ডাক্তারদের দিকে আমাদের সুদৃষ্টি আছে।

হাসপাতালের তথ্য বলছে, জাতীয় হৃদরোগে ৭ টি অপারেশন থিয়েটার থাকলেও ২ টি এখনও অকেজো। আর এই সক্ষমতায় প্রতিদিন ৪ টি অপারেশন হচ্ছে হাসপাতালে। বড়দের ৩ টি সার্জারি হয় আর ছোটদের ১ টি।

মরিয়মের মতো শিশু কিংবা প্রাপ্তবয়স্ক, হৃদযন্ত্রের চিকিৎসার সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দীর্ঘ অপেক্ষার যে সংকট এই সংকটের স্থায়ী সমাধান চান রোগী ও তার স্বজনরা।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..