কঠিন শারীরিক পরিশ্রমের প্রতিযোগিতা হিসেবে পরিচিত আয়রনম্যান ট্রায়াথলনে (সাঁতার কাটা, সাইকেল চালানো এবং দৌড়ানো) একের পর এক অসামান্য সাফল্য অর্জন করে চলেছেন অভিনেতা ও ফিটনেসপ্রেমী মিলিন্দ সুমন। ৬০ বছর বয়সে এসে মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে দুটি ফুল-ডিস্ট্যান্স আয়রনম্যান ট্রায়াথলন সফলভাবে শেষ করে তিনি আবারও তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। তার এই ফিটনেস ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রা নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহের কমতি নেই।
৬০ বছর বয়সেও ট্রায়াথলনে জয়ী মিলিন্দ সুমনের ফিটনেস ও ডায়েট রহস্য
গত ১৩ সেপ্টেম্বর আয়রনম্যান ওয়েলস এবং ১৯ সেপ্টেম্বর আয়রনম্যান ইতালি প্রতিযোগিতা সম্পন্ন করেন তিনি। প্রতিটি প্রতিযোগিতায় ছিল ৩ দশমিক ৮ কিলোমিটার সাঁতার, ১৮০ কিলোমিটার সাইক্লিং ও ৪২ দশমিক ২ কিলোমিটার দৌড়ের মতো অত্যন্ত কঠিন সব ধাপ। এই হিসেবে মাত্র ছয় দিনের ব্যবধানে তিনি মোট ৭ দশমিক ৬ কিলোমিটার সাঁতার কেটেছেন, ৩৬০ কিলোমিটার সাইকেল চালিয়েছেন এবং ৮৪ দশমিক ৪ কিলোমিটার পথ দৌড়ে পার হয়েছেন।
৬০ বছর বয়সেও ট্রায়াথলনে জয়ী মিলিন্দ সুমনের ফিটনেস ও ডায়েট রহস্য
গরম ভাতে ঘি খেলে শরীরে কী হয়, জেনে নিন
এত বড় মাপের শারীরিক পরিশ্রমের পরও তার দৈনন্দিন খাবারের তালিকা বেশ সাধারণ। সম্প্রতি একটি আয়রনম্যান প্রতিযোগিতা শেষ করার পর তিনি রাজমা ও ভাতের একটি প্লেটের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেন। এছাড়া ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে তরমুজ ও অ্যাভোকাডোর ছবিও পোস্ট করতে দেখা গেছে তাকে।
৬০ বছর বয়সেও ট্রায়াথলনে জয়ী মিলিন্দ সুমনের ফিটনেস ও ডায়েট রহস্য
কফিতে দুধ মেশালে উপকার নাকি ক্ষতি? গবেষণায় যা জানা গেল
৬০ বছর বয়সেও ট্রায়াথলনে জয়ী মিলিন্দ সুমনের ফিটনেস ও ডায়েট রহস্য
ক্যালরি মাপার বালাই নেই
মিলিন্দ সুমন জানিয়েছেন, তিনি কখনোই কোনো কঠোর ডায়েট অনুসরণ করেন না এবং খাবারের ক্যালরিও গুণে খান না। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বিষয়টি পরিষ্কার করে বলেন, তিনি খাবার মেপে খান না এবং জীবনে কখনো বিশেষ কোনো ডায়েট মেনে চলেননি। শরীরের চাহিদা অনুযায়ী যতটা সম্ভব স্বাভাবিক খাবারই তিনি খেয়ে থাকেন।
তার খাদ্যতালিকায় ফলের প্রতি বিশেষ দুর্বলতা রয়েছে। তিনি একবারে একটি বড় পেঁপে, ছোট আকৃতির দুটি পেঁপে কিংবা আস্ত তরমুজের অর্ধেকটাই খেয়ে ফেলতে পারেন। মৌসুমি ফল তার প্রতিদিনের খাবারের একটি বড় অংশ জুড়ে থাকে। অতীতে তিনি সকালে প্রায় তিন কেজি পর্যন্ত ফল খাওয়ার কথা জানিয়েছেন, যার মধ্যে একসঙ্গে পাঁচ-ছয়টি আম বা ছয়টি কলার মতো ফলও থাকত।
সহজ ও ঘরোয়া খাবারে ভরসা
ভাত ও রাজমার পাশাপাশি খিচুড়ি, কাজুবাদাম, ঘি এবং গুড় তার বেশ পছন্দের খাবার। এর সঙ্গে কখনো কখনো মুসেলি বা শুকনো ফলও যোগ করেন তিনি। গত কয়েক বছর ধরে তার প্রধানত নিরামিষ বা ভেজিটেরিয়ান খাবারের প্রতি ঝোঁক বাড়লেও মুখের স্বাদের খাতিরে তিনি মাঝেসাঝে আমিষ খাবারও খেয়ে থাকেন।
মিলিন্দ সুমন নিয়মিত কোনো ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং বা উপবাস করেন না। এছাড়া তথাকথিত প্রোটিন শেকও তার প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় নেই। কৃত্রিম কোনো নিয়মের বদলে সহজলভ্য খাবার খাওয়া এবং শরীরের আসল চাহিদা অনুযায়ী খাবার গ্রহণের ওপরই তিনি সবচেয়ে বেশি জোর দেন। চা বা কফি পানের অভ্যাস না থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে তিনি জানিয়েছেন যে এখন মাঝেমধ্যে চা পান করলেও এটি তার নিয়মিত কোনো অভ্যাস নয়।
সূত্র: এনডিটিভি
এ জাতীয় আরো খবর..