✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৯-২৭, | ১৪:৫৪:৫৬ |এশিয়ান গেমসের মূল স্টেডিয়াম ও অন্যান্য ভেন্যুতে অধিকাংশ আসন ফাঁকা পড়ে থাকতে দেখে আয়োজকরা অসন্তোষ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন। যেকোনো গেমসের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো ১০০ মিটার স্প্রিন্ট বা দৌড় প্রতিযোগিতা। অথচ শুক্রবার রাতে মর্যাদাপূর্ণ এই ইভেন্টগুলোর সময় ৩০ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার মিজুহো পার্ক অ্যাথলেটিক স্টেডিয়ামের মাত্র এক-চতুর্থাংশ আসন পূর্ণ ছিল।
অন্যদিকে এবারের আয়োজনের শুরুতে মিসাকি মোরোতার পোল ভল্টে স্বর্ণ জয়ের সম্ভাবনার বিষয়টিও স্থানীয় দর্শকদের বড় অংশকে আকৃষ্ট করতে পারেনি। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফুটবলসহ আটটি খেলার জন্য ৬০ শতাংশেরও কম টিকিট বিক্রি হয়েছে এবং সমপরিমাণ টিকিট সমাপনী অনুষ্ঠানের জন্যও অবিক্রীত রয়ে গেছে।
গেমস আয়োজক কমিটির মহাসচিব সাতোশি মুরাতে বলেন, আমরা এতে সন্তুষ্ট নই। আমরা স্টেডিয়াম পূর্ণ করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চালিয়ে যাব, টিকিট বিক্রি অব্যাহত রাখব। যারা টিকিট সংগ্রহ করেছেন তারা যেন সত্যিই উপস্থিত হন, তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করব।
তিনি জানান, এক সপ্তাহ আগে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ৯০ শতাংশেরও বেশি টিকিট বিক্রি হয়েছিল। কিন্তু প্যারেডরত ক্রীড়াবিদ ও গেমস মশাল প্রজ্জ্বলনের সময় স্টেডিয়ামের বড় একটি অংশ ফাঁকা থাকার জন্য তিনি দর্শকদের অনুপস্থিতিকে দায়ী করেন।
তিনি বলেন, সামগ্রিকভাবে আমার মনে হয় টিকিট বিক্রি ভালোই হয়েছে। তবে এটাও লক্ষ্য করা গেছে, কিছু প্রতিযোগিতার সময় স্টেডিয়ামে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসন ফাঁকা ছিল। এর পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। প্রথমত কিছু সেশনে একদিনে একাধিক ম্যাচ থাকে। তখন সবাই মূল বা আকর্ষণীয় ম্যাচটির দিকেই বেশি মনোযোগ দেয়।
তিনি উল্লেখ করেন, স্পনসরদের মতো গেমসের অংশীজনদের দেওয়া টিকিটগুলো সবসময় ব্যবহার করা হয়নি। আসন বরাদ্দ করা হলেও অনেকে আসতে পারেননি। এর ফলে কিছু প্রতিযোগিতায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসন ফাঁকা থেকে গেছে, যা আমাদের জন্য দুঃখজনক। মুরাতে আবাসন ও পরিবহন ব্যবস্থাপনায় বিশৃঙ্খলার জন্যও ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
এবারের জাপানে অনুষ্ঠিত এশিয়ান গেমসের শুরুতে বড় ধরণের অব্যবস্থাপনা চোখে পড়ে। ১৭ হাজার অংশগ্রহণকারীর জন্য পর্যাপ্ত কক্ষের অভাব; বিমানবন্দরগুলোতে বিলম্ব এবং ভাসমান হোটেল হিসেবে ব্যবহৃত ক্রুজ শিপে ওঠার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার কারণে এই সমস্যা আরও প্রকট হয়ে ওঠে।
খরচ কমানোর পদক্ষেপ হিসেবে কোনো প্রথাগত 'অ্যাথলেটস ভিলেজ' বা ক্রীড়াবিদদের আবাসন এলাকা তৈরি করা হয়নি। এর পরিবর্তে দলগুলোকে অস্থায়ী কন্টেইনার-ধাঁচের ঘর, হোটেল এবং ‘কোস্টা সেরেনা’ ক্রুজ শিপে রাখা হয়েছে।
থাইল্যান্ড এই পরিস্থিতিকে বিশৃঙ্খল ‘মিউজিক্যাল চেয়ার’ খেলার সাথে তুলনা করেছে। দক্ষিণ কোরিয়া বলেছে, আয়োজকরা ‘ফেল করার যোগ্য’।
পরিবহন ব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলার কারণে প্রশিক্ষণ ও ভেন্যুতে যাওয়ার জন্য নির্ধারিত প্রতিযোগীদের বাসগুলো দেরিতে এসেছে অথবা কোনো কোনো ক্ষেত্রে আসেইনি। মুরাত স্বীকার করেছেন, বিভিন্ন কারণে আবাসন ও যাতায়াত ব্যবস্থায় ত্রুটি-বিচ্যুতি ঘটেছে। প্রতিটি ভুলের কারণ চিহ্নিত করতে এবং ভবিষ্যতে যাতে এগুলোর পুনরাবৃত্তি না ঘটে তা নিশ্চিত করতে আমাদের কর্মীরা প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছেন।