✕


ইউরোপের মধ্যপন্থী রাজনীতির ‘চরমপন্থার’ মূল্য দিচ্ছে মানুষ

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৯-২৩, | ১৮:০৪:৫৮ |

জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ ক্ষমতায় এসেছেন দেড় বছরও হয়নি। এর মধ্যেই তার জনপ্রিয়তা নেমে গেছে রেকর্ড সর্বনিম্ন পর্যায়ে। তার নেতৃত্বাধীন মধ্য-ডানপন্থী দল ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন (সিডিইউ) সম্প্রতি একটি রাজ্য নির্বাচনে হেরেছে এবং আরেকটিতে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। দেশজুড়ে দলটির জনপ্রিয়তাও দ্রুত কমছে।

জার্মান সংবাদমাধ্যমে এখন মের্জকে নিয়েই আলোচনা। দুর্বল নির্বাচনী প্রচার, সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে অজনপ্রিয় জোটে নিজেকে আটকে ফেলা এবং উগ্র ডানপন্থী অলটারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি) যেভাবে তরুণদের আকৃষ্ট করতে পারছে, সেভাবে না পারার জন্য তাকে দায়ী করা হচ্ছে। তবে এগুলো মূল সমস্যার তুলনায় গৌণ-এমনটাই মনে করেন গ্রিসের সাবেক অর্থমন্ত্রী ও অর্থনীতিবিদ ইয়ানিস ভারুফাকিস।

তার মতে, জার্মানিতে শুধু একটি দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী দলের পতন হচ্ছে না; একই সঙ্গে ‘মধ্যপন্থী’ রাজনীতিকদের সংযত ও দক্ষ কারিগরি নীতিনির্ধারক হিসেবে যে ভাবমূর্তি এত দিন ধরে তৈরি করা হয়েছিল, সেটিও ভেঙে পড়ছে।

ভারুফাকিসের ভাষ্য, তিন দশক ধরে মধ্যপন্থা ও দক্ষতার যে আবরণ ধরে রাখা হয়েছিল, এখন ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে যে, এসব রাজনীতিক বাস্তবে না ছিলেন যথেষ্ট মধ্যপন্থী, না ছিলেন যথেষ্ট দক্ষ। তার মতে, দীর্ঘদিনের নীতির ব্যর্থতা এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সেই আবরণ আর ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

‘মধ্যপন্থার’ আড়ালে কঠোর নীতি
ইয়ানিস ভারুফাকিসের মতে, ধীরে ধীরে, পরে হঠাৎ করেই সেই মুখোশ খুলে পড়ছে। তার অভিযোগ, নিজেদের মধ্যপন্থী হিসেবে উপস্থাপন করা রাজনীতিকরা এমন কিছু নীতি অনুসরণ করেছেন, যা জার্মান সমাজের নিজেকে টিকিয়ে রাখার সক্ষমতাকে দুর্বল করেছে এবং ইউরোপের মাটিতে একটি অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধের ঝুঁকি বাড়িয়েছে।

ভারুফাকিসের যুক্তি, ধূসর স্যুট পরা এবং শান্ত স্বরে বারবার ‘কোনও বিকল্প নেই’ বলা নীতিকে চরমপন্থী বলে মনে হয় না, যতক্ষণ না সেই নীতির ব্যর্থতা বড় আকারে দৃশ্যমান হয়। তার মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপে যে পরিবর্তনটি ঘটেছে, তা হলো মধ্যপন্থী রাজনীতিকদের অনুসৃত অর্থনৈতিক নীতির ফলে শিল্পহ্রাস ও অর্থনৈতিক স্থবিরতা আর উপেক্ষা করার মতো অবস্থায় নেই।

তিনি মনে করেন, এএফডির উত্থানের কারণ এই নয় যে রাতারাতি লাখো জার্মান নাগরিক উগ্র ডানপন্থী মতাদর্শের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়েছেন। বরং বছরের পর বছর কৃচ্ছ্রসাধনমূলক নীতির ফলে মানুষ নিজেদের সামাজিক অবস্থান হারানোর আশঙ্কা এবং প্রকৃত দারিদ্র্যের সম্ভাবনার মুখোমুখি হয়েছে। সেই অসন্তোষকে কাজে লাগিয়েই উগ্র ডানপন্থীরা অতীতের একটি কল্পিত ‘সোনালি যুগে’ ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষাকে নির্বাচনী সমর্থনে পরিণত করতে পেরেছে বলে তার দাবি।

বার্লিন থেকে প্যারিস, একই চিত্র
ভারুফাকিসের মতে, বার্লিন থেকে প্যারিস, লন্ডন- সর্বত্র একই ধরনের চিত্র দেখা যাচ্ছে।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর মধ্যপন্থী রাজনীতি দেশটিকে উগ্র ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট পাওয়ার দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। ম্যাক্রোঁ এমন একটি ‘ফরাসি পুনর্জাগরণের’ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, যা জার্মানির সঙ্গে গড়ে ওঠা মুদ্রা ইউনিয়নের কাঠামোর মধ্যে বাস্তবায়ন করা কঠিন বলে দাবি ইয়ানিস ভারুফাকিসের।

তার অভিযোগ, সাধারণ মানুষ যখন গাড়িতে জ্বালানি কেনার খরচ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে, তখন ম্যাক্রোঁ ধনীদের জন্য কর ছাড় দিয়েছেন। একই সময়ে অবসরের বয়স বাড়িয়ে ৬৪ বছর করা হয়েছে। ভারুফাকিসের মতে, দরিদ্র শ্রমজীবী মানুষের জীবনযাত্রার বাস্তবতার সঙ্গে এ ধরনের নীতির বড় ধরনের অসামঞ্জস্য রয়েছে।

যুক্তরাজ্যের ক্ষেত্রেও তিনি একই প্রবণতা দেখতে পান। তার মতে, দেশটির মধ্যপন্থী টোরি-লেবার দ্বিদলীয় রাজনৈতিক কাঠামোও কৃচ্ছ্রসাধনমূলক অর্থনৈতিক নীতি গ্রহণ করেছে।

১৯৮০-এর দশকে রক্ষণশীল প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচারের শিল্পনীতি ও আবাসন-সেবা খাতের আর্থিকীকরণ যুক্তরাজ্যে ব্যাপক বৈষম্য তৈরি করেছিল বলে লেখক দাবি করেন। তার মতে, পরে টনি ব্লেয়ারের নেতৃত্বাধীন লেবার সরকারও সরকারি সেবার পরিধি সংকুচিত করা এবং লন্ডনের আর্থিক খাতকে আরও স্বাধীনতা দেওয়ার মাধ্যমে ধনী ও আর্থিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট শ্রেণির অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছে।

এর ফল হিসেবে জার্মানি ও ফ্রান্সের মতো যুক্তরাজ্যেও ভয় ও ক্ষোভনির্ভর রাজনীতি বাড়ছে বলে তাঁর পর্যবেক্ষণ।

‘মধ্যপন্থী’ অর্থনীতির কঠোরতা
ভারুফাকিসের মূল যুক্তি হলো, নিজেদের ‘বিচক্ষণ’, ‘বাস্তববাদী’ ও ‘মধ্যপন্থী’ বলে পরিচয় দেওয়া দলগুলো ইউরোপের ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর অর্থনৈতিক কর্মসূচিগুলোর একটি অনুসরণ করেছে।

তার মতে, সমস্যা শুধু নীতিগুলোর ফলাফল নয়; বরং মতভিন্নতার প্রতি এই রাজনৈতিক ব্যবস্থার দৃষ্টিভঙ্গিও গুরুত্বপূর্ণ। কোনও বিকল্প প্রস্তাবকে যুক্তি দিয়ে মোকাবিলা করার বদলে সেটিকে ‘অবাস্তব’, ‘জনতুষ্টিবাদী’ বা ‘ইউরোপবিরোধী’ বলে বাতিল করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

এই যুক্তির ভিত্তিতেই লেখক ইউরোপের মধ্যপন্থাকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে ‘চরম’ রাজনৈতিক কাঠামো হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, ইউরোপীয় মুদ্রা ইউনিয়ন এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে অর্থনৈতিক নীতিকে নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরাসরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে রাখা যায়।

গ্রিসের ঋণসংকট: ‘চরমপন্থার’ উদাহরণ
নিজের অভিজ্ঞতাকে এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছেন ভারুফাকিস। ২০১৫ সালে তিনি গ্রিসের অর্থমন্ত্রী ছিলেন। সে সময় গ্রিসের জনগণ সিরিজা দলকে নির্বাচিত করে এবং তিনি ওই দলের সদস্য ছিলেন।

তার ভাষ্য, পাঁচ বছর ধরে চলা ব্যর্থ অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা কর্মসূচির পর গ্রিক জনগণ ঋণের শর্ত পুনর্বিবেচনার পক্ষে ভোট দিয়েছিল। কিন্তু ইউরোপের মধ্যপন্থী নেতৃত্ব সেই দাবি মেনে নেয়নি।

ভারুফাকিসের দাবি, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টিন লাগার্দ তাকে বলেছিলেন, গ্রিসের কর্মসূচির পেছনে ইউরোপীয় নেতারা এত বেশি রাজনৈতিক পুঁজি বিনিয়োগ করেছেন যে, তারা আর পেছনে ফিরতে পারছেন না।

তার মতে, গ্রিসের নতুন সরকার সমঝোতার চেষ্টা করলেও জার্মানির তৎকালীন অর্থমন্ত্রী ভলফগ্যাং শয়বলেসহ ইউরোপের নীতিনির্ধারকেরা কঠোর অবস্থান নেন।

গ্রিক জনগণের মতামত জানতে গণভোটের দাবি তোলার পর ইউরোপীয় কর্তৃপক্ষ গ্রিসের ব্যাংকিং ব্যবস্থা কার্যত অচল করে দেওয়ার মতো আর্থিক চাপ সৃষ্টি করেছিল বলে অভিযোগ করেন ভারুফাকিস। ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাধ্যমে গ্রিক ব্যাংকগুলোর অর্থায়ন সীমিত করার ঘটনাকে তিনি ‘আর্থিক সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে অভিহিত করেন।

তবে তার মতে, শয়বলের লক্ষ্য শুধু গ্রিসে কঠোর কৃচ্ছ্রসাধন চাপিয়ে দেওয়া ছিল না। স্পেন, ইতালি, ফ্রান্স এবং শেষ পর্যন্ত জার্মানিতেও একই ধরনের অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা ছিল তার বৃহত্তর রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির অংশ।

ইউরোর কাঠামো নিয়েও প্রশ্ন
ভারুফাকিস ইউরোজোনের বর্তমান কাঠামোর পেছনে জার্মানি ও ফ্রান্সের ঐতিহাসিক সমঝোতার বিষয়টিও তুলে ধরেছেন।

তার মতে, ১৯৮৯ সালে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া মিতেরাঁ জার্মান চ্যান্সেলর হেলমুট কোলকে ইউরোপীয় মুদ্রা ইউনিয়ন ও একক মুদ্রা ইউরো গ্রহণে রাজি করান। এর সঙ্গে জার্মানির পুনরেকত্রীকরণে ফ্রান্সের সম্মতির বিষয়টি যুক্ত ছিল।

ভারুফাকিসের দাবি, এরপর জার্মানির কেন্দ্রীয় ব্যাংক বুন্দেসব্যাংক ও শয়বলে এমন একটি মুদ্রা ইউনিয়নের কাঠামো গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখেন, যেখানে অভিন্ন আর্থিক নীতি থাকলেও পূর্ণাঙ্গ রাজস্ব ইউনিয়ন, গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ইউনিয়ন, ব্যাংকিং ইউনিয়ন বা বড় অর্থনৈতিক ধাক্কা সামাল দেওয়ার যথেষ্ট ব্যবস্থা ছিল না।

তিনি এই নীতিকে ‘ফিসকাল ক্যালভিনিজম’ বা ‘রাজস্ব ক্যালভিনবাদ’ বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে, এটি ছিল এমন একটি অর্থনৈতিক দর্শন, যেখানে একটি নির্দিষ্ট অর্থনৈতিক নীতিকেই সঠিক বলে ধরে নেওয়া হতো এবং বিকল্প মতকে রাজনৈতিক কাঠামোর মাধ্যমে সীমিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।

২০০৮ সালের সংকট ও পরবর্তী বৈষম্য
২০০৮ সালে বৈশ্বিক আর্থিক সংকট শুরু হলে ইউরোজোনের এই কাঠামো বড় ধরনের ধাক্কার মুখে পড়ে। ভারুফাকিসের মতে, যথেষ্ট ‘শক অ্যাবজর্বার’ বা অর্থনৈতিক ধাক্কা সামাল দেওয়ার ব্যবস্থা না থাকায় ইউরোপীয় ব্যাংক ও রাষ্ট্রগুলোর আর্থিক সংকট আরও তীব্র হয়ে ওঠে।

তিনি অভিযোগ করেন, ইউরোপের নীতিনির্ধারকেরা তখন কৃচ্ছ্রসাধনের নীতি আরও জোরদার করেন। পরে পরিস্থিতি সামাল দিতে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিপুল পরিমাণ অর্থ বাজারে ছাড়ে। কিন্তু তার দাবি, সেই অর্থের বড় অংশ ব্যাংক ও বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অর্থনীতিতে গেলেও প্রত্যাশিত মাত্রায় নতুন বিনিয়োগ হয়নি।

এর পরিবর্তে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের শেয়ার পুনঃক্রয় এবং নির্বাহীদের বোনাস বাড়াতে অর্থ ব্যবহার করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। ফলে আয় ও সম্পদের বৈষম্য আরও বেড়েছে বলে তার দাবি।

মের্জের উত্তরাধিকার
ভারুফাকিসের মতে, এই অর্থনৈতিক কাঠামোর উত্তরাধিকারই এখন মের্জের সামনে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তার ভাষ্য, জার্মানির দীর্ঘদিনের শিল্পভিত্তিক অর্থনৈতিক মডেল এখন গভীর সংকটে। কৃচ্ছ্রসাধন এবং সহজলভ্য অর্থের নীতির সময়ে জার্মানির শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো পর্যাপ্ত বিনিয়োগ করেনি বলে তিনি মনে করেন।

গাড়ি নির্মাতা ভক্সওয়াগনের উদাহরণ দিয়ে ইয়ানিস ভারুফাকিস বলেন, প্রতিষ্ঠানটি গাড়ি বিক্রিতে সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে। একই সঙ্গে জার্মান সরকার রাইনমেটালের মতো প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে ঝুঁকছে। এমনকি ইউক্রেনের জন্য উৎপাদিত অস্ত্রের চাহিদা নিয়েও লেখায় প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

১৯২০-৩০-এর দশকের সঙ্গে তুলনা
ইউরোপের বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে ১৯২০ ও ১৯৩০-এর দশকের তুলনাও টেনেছেন ভারুফাকিস। তবে তার মতে, তুলনাটি কোনও নির্দিষ্ট নেতাকে অ্যাডলফ হিটলারের সঙ্গে তুলনা করার মতো সরল নয়।

বরং তিনি তখনকার ‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’ বা স্বর্ণমান এবং বর্তমান সময়ের কৃচ্ছ্রসাধনকে তুলনা করেছেন। তার মতে, উভয় ক্ষেত্রেই একটি নির্দিষ্ট অর্থনৈতিক নীতিকে বিভিন্ন বিকল্পের একটি হিসেবে না দেখে প্রায় প্রকৃতির অপরিবর্তনীয় নিয়মের মতো বিবেচনা করা হয়েছিল।

তিনি মনে করেন, মূলধারার দলগুলো তখন উগ্রপন্থীদের পাশে থাকা মধ্যপন্থী শক্তি ছিল না; বরং তারাই ছিল অনড় রাজনৈতিক কেন্দ্র। বিকল্প নীতি নিয়ে আলোচনায় তাদের অনীহাই শেষ পর্যন্ত উগ্রপন্থীদের জন্য রাজনৈতিক জায়গা তৈরি করেছিল বলে তার বিশ্লেষণ।

ভারুফাকিসের মতে, ইতিহাসের পুনরাবৃত্তির সবচেয়ে বড় বিপদ হলো- ফ্যাসিবাদ আবার পুরোনো পোশাকে ফিরে আসছে এমন নয়; বরং নিজেদের ‘বিচক্ষণ মধ্যপন্থা’ হিসেবে পরিচয় দেওয়া রাজনৈতিক সংস্কৃতি যখন বিকল্প মতকে অগ্রহণযোগ্য বলে মনে করতে শুরু করে, তখন ভোটারদের সামনে বৈধ বিকল্পের জায়গা সংকুচিত হয়ে যায়। এর ফলে তারা শেষ পর্যন্ত অন্য ধরনের রাজনৈতিক বিকল্পের দিকে ঝুঁকতে পারেন।

মের্জের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার প্রশ্ন নয়
ইয়ানিস ভারুফাকিস বলেন, মের্জের জনসমর্থন কমে যাওয়াকে শুধু তার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা বা রাজনৈতিক দক্ষতার প্রশ্ন হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।

তার মতে, এটি ইউরোপের দীর্ঘদিনের মধ্যপন্থী রাজনৈতিক ব্যবস্থার অনুসৃত অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক নীতির ফলাফলও হতে পারে। যে রাজনৈতিক ব্যবস্থা নিজেকে মধ্যপন্থী বলে পরিচয় দিয়েছে, সেই ব্যবস্থাই যখন দীর্ঘদিন ধরে কঠোর ও বিকল্প-বিরোধী নীতি অনুসরণ করেছে, তখন তার পরিণতির মূল্য এখন রাজনৈতিক দলগুলোকে দিতে হচ্ছে- এমনটাই তার বিশ্লেষণ। সূত্র: আল-জাজিরা

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..