✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৯-২২, | ১৪:২৪:৪৬ |নোয়াখালীর সুবর্ণচরে ধানখেতের পাশে রাস্তা থেকে মো. নাঈম (১৪) নামের এক মাদ্রাসাছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করছে পুলিশ। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করে বলা যাবে না বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার চরজুবলী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্য বাগ্যা গ্রামের এবায়েদ উল্যার বাড়ির পাশে ধানখেতসংলগ্ন রাস্তা থেকে নাঈমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নাঈম লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার ইব্রাহীম খলিলের ছেলে। সে দীর্ঘদিন ধরে সুবর্ণচরে নানার বাড়িতে থেকে চরজব্বর ইউনিয়নের দারুল উলুম মাদানী নগর মাদ্রাসার নাজেরা বিভাগে পড়াশোনা করত।
স্থানীয় লোকজন ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে নাঈমের মা-বাবার বিচ্ছেদ হয়। এরপর থেকে সে সুবর্ণচরে নানার বাড়িতে থাকত।
নাঈমের নানা এবায়েদ উল্যাহ জানান, শনিবার নাঈম মাদ্রাসা থেকে বাড়িতে আসে। পরে নাঈমের বাবা ফোন করে তার অবস্থান জানতে পারেন। এরপর নাঈমের নানি আমেনা খাতুন সেখানে গিয়ে তাকে বাড়িতে নিয়ে আসেন। সোমবার রাতে খাবার খেয়ে নাঈম ঘুমিয়ে পড়ে। মঙ্গলবার ভোরে ফজরের নামাজের সময় ঘুম থেকে উঠে তিনি দেখেন, ঘরের দরজা খোলা এবং নাঈম শয়নকক্ষে নেই। সকাল সাতটার দিকে সার আনতে যাওয়ার পথে বাড়ি থেকে প্রায় ১০০ গজ দূরে ধানখেতের পাশে রাস্তার ওপর নাঈমের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন তিনি।
এবায়েদ উল্যাহ অভিযোগ করে বলেন, প্রায় ২০ থেকে ২৫ দিন আগে তাঁর মেয়ের নতুন করে বিয়ে হয়। এরপর নাঈমের বাবা ইব্রাহীম খলিল ও তাঁর মা সুমি আক্তারকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। নাঈমের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর মা নাঈমের বাবাকে সন্দেহ করছেন বলেও জানান তিনি।
এবায়েদ উল্যাহ আরও বলেন, সকালে নাঈমের মৃত্যুর খবর জানাতে তার বাবাকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। পরে নিজে ফোন করে তাকে মৃত্যুর খবর জানানো হয়। দুপুর একটা পর্যন্ত তিনি মরদেহ দেখতে আসেননি।
নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আহমেদ পেয়ার বলেন, খবর পেয়ে তিনি নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। নাঈমের থুতনির নিচে আঘাতের দাগ রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।