✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৯-২২, | ১২:৩৮:৪০ |জাপানের বিভিন্ন এলাকায় শক্তিশালী টাইফুন দুজুয়ানের আঘাতে প্রায় ২০ লাখ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দেশটির বিভিন্ন প্রিফেকচারে ঝড়ের প্রভাবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জাপানের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টাইফুনে অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন এবং কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন।
জাপানের আবহাওয়া সংস্থা আগে ‘জীবনের জন্য তাৎক্ষণিক হুমকি’র সতর্কতা জারি করেছিল। তবে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হওয়ায় কয়েকটি আবহাওয়া সতর্কতা এখন কমিয়ে আনা হয়েছে।
টাইফুনের প্রবল বাতাসে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। এ ছাড়া শত শত ফ্লাইট বাতিল এবং বিভিন্ন রেলসেবা স্থগিত করা হয়েছে। দুজুয়ানের বাতাসের স্থায়ী গতিবেগ ঘণ্টায় ১৩০ কিলোমিটার এবং ঝোড়ো বাতাসের সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ১৯৪ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠেছে।
ইয়োকোসুকা শহরে ভূমিধসে একটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেখানে থাকা ৬০-এর কোঠার এক নারী নিখোঁজ হন। উদ্ধারকর্মীরা পরে বাড়িটির ভেতর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেন। স্থানীয় দমকল বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ধারণা করা হচ্ছে ভূমিধসের মাটিতে চাপা পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে।
চিবা প্রিফেকচারে ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ করার সময় ৫০-এর কোঠার এক শ্রমিকও দুর্ঘটনার শিকার হন। তিনি ভারী যন্ত্রপাতিসহ বাঁশঝাড়ের মধ্যে পড়ে যান। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলেও পরে তার মৃত্যু হয়। ঘটনাটি তদন্ত করছে পুলিশ।
এদিকে কানাগাওয়া প্রিফেকচারে এক ব্যক্তি জরুরি সেবায় ফোন করে জানান, ভূমিধসে তার বাড়ি ধসে পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি আবহাওয়ার সর্বশেষ তথ্য অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
দুজুয়ান এ বছর জাপানে আঘাত হানা ২৫তম টাইফুন। দেশটিতে পাঁচ দিনের ছুটির মধ্যে ঝড়টি আঘাত হানায় বিভিন্ন অনুষ্ঠান বাতিল করতে হয়েছে। ‘রক ইন জাপান’ সংগীত উৎসবের সোমবারের কনসার্ট বাতিল করা হয়েছে। একইভাবে ভিডিও গেমবিষয়ক আয়োজন ‘টোকিও গেম শো’-এর সোমবারের কার্যক্রমও বাতিল করা হয়।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি টাইফুনে প্রাণহানির ঘটনায় শোক জানিয়েছেন। ঝড় মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি পূর্বনির্ধারিত যুক্তরাষ্ট্র সফরে রওনা হন। নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে মঙ্গলবার তার বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। সফরে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গেও বৈঠক করবেন।
দুজুয়ান বর্তমানে জাপানের প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূল ধরে উত্তর দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ফলে ঝড়টির পূর্ণ ক্ষয়ক্ষতির চিত্র মঙ্গলবারের আগে স্পষ্ট নাও হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে টাইফুনের সংখ্যা বাড়ছে এমন নিশ্চিত প্রমাণ নেই। তবে সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে যে টাইফুনগুলো তৈরি হয়, সেগুলো গড়ে আরও শক্তিশালী হতে পারে। উষ্ণ সমুদ্রঝড়কে অতিরিক্ত শক্তি দেয় এবং উষ্ণ বায়ুমণ্ডল বেশি জলীয়বাষ্প ধারণ করতে পারে, ফলে ভারী বৃষ্টিপাতের ঝুঁকিও বাড়ে।
এ বছর প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ‘সুপার এল নিনো’ও ঝড়ের তীব্রতার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে কাজ করছে। এল নিনো মোট টাইফুনের সংখ্যা সরাসরি বাড়ায় না, তবে কোথায় টাইফুন তৈরি হবে, এর শক্তি কতটা হবে এবং কোন দেশগুলোতে আঘাত হানবে এসব ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে।