✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৯-২০, | ১৪:৩৩:১১ |হেপাটাইটিস বি একটি মারাত্মক ভাইরাসজনিত লিভার সংক্রমণ, যা দীর্ঘমেয়াদে লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যানসারের মতো জীবনঘাতী জটিলতা তৈরি করতে পারে। তবে সঠিক সময়ে টিকা গ্রহণের মাধ্যমে এই রোগটি শতভাগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। এ কারণে হেপাটাইটিস বি টিকাকে বিশ্বের প্রথম ‘ক্যানসার প্রতিরোধী টিকা’ হিসেবেও গণ্য করা হয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনামতে, জন্মের পরপরই প্রতিটি নবজাতককে এই টিকা দেওয়া অত্যন্ত জরুরি—বিশেষ করে আক্রান্ত মায়ের সন্তানদের ক্ষেত্রে জন্মের ১২ ঘণ্টার মধ্যে প্রথম ডোজ দেওয়া আবশ্যক। এছাড়া ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত যারা পূর্বে টিকা পায়নি, স্বাস্থ্যকর্মী, আক্রান্ত ব্যক্তির পরিবারের সদস্য ও যৌনসঙ্গী, দীর্ঘমেয়াদি কিডনি বা ডায়ালাইসিস রোগী, লিভারের রোগী, ডায়াবেটিস আক্রান্ত ব্যক্তি এবং উচ্চ ঝুঁকিযুক্ত দেশ ভ্রমণকারীদের এই টিকা নেওয়া উচিত। তবে কোনো সুনির্দিষ্ট ঝুঁকি না থাকলেও যে কোনো সুস্থ ব্যক্তি ভাইরাসের আক্রমণ থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে চিকিৎসকের পরামর্শে এই টিকা নিতে পারেন।
সাধারণত হেপাটাইটিস বি টিকার পূর্ণ সুরক্ষার জন্য মোট ৩টি ডোজ নিতে হয়। এর মধ্যে প্রথম ডোজ যেকোনো সুবিধাজনক সময়ে (নবজাতকের জন্য জন্মের পরপরই) নেওয়ার পর, দ্বিতীয় ডোজটি প্রথম ডোজের অন্তত ২৮ দিন বা এক মাস পর দিতে হয়। আর তৃতীয় বা চূড়ান্ত ডোজটি দিতে হয় প্রথম ডোজ নেওয়ার অন্তত ১৬ সপ্তাহ বা চার মাস পর; তবে শিশুদের ক্ষেত্রে এই ডোজের সময় বয়স কমপক্ষে ২৪ সপ্তাহ হওয়া প্রয়োজন।
কোনো কারণে নির্ধারিত সময়ে ডোজ নিতে দেরি হলে নতুন করে প্রথম থেকে শুরু করার প্রয়োজন নেই, বরং বাকি থাকা ডোজটি দ্রুত সম্পন্ন করে নিলেই চলে। কৃত্রিম উপায়ে তৈরি সম্পূর্ণ নিরাপদ এই টিকা থেকে হেপাটাইটিস বি আক্রান্ত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তবে শরীরে আগে থেকেই এই ভাইরাসের উপস্থিতি থাকলে টিকা তা নিরাময় করতে পারে না, তাই প্রয়োজনবোধে টিকা নেওয়ার আগে রক্ত পরীক্ষা (HBsAg) করিয়ে নেওয়া ভালো। টিকা গ্রহণের পর ইনজেকশনের স্থানে সামান্য ব্যথা, লালচে ভাব বা হালকা জ্বরের মতো সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে, যা স্বাভাবিক এবং স্বল্পসময়েই সেরে যায়।