✕


জীবনের এই পর্যায়ে এসেও আমার কোনো অবসর নেই: সুচন্দা

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৯-১৯, | ১৮:৫৯:৫৭ |

‘তিন কন্যা এক ছবি, ছন্দা চম্পা আর ববি’- এই তিন কন্যার এক কন্যা কোহিনূর আক্তার সুচন্দা। বাংলা চলচ্চিত্রের সোনালি যুগের অভিনয়শিল্পী তিনি। আরও একটি পরিচয় রয়েছে তার- কিংবদন্তি চলচ্চিত্রকার জহির রায়হানের স্ত্রী তিনি। আজ এই গুণী অভিনয়শিল্পীর জন্মদিন। 

জন্মদিন ঘিরে সাধারণত কী ধরনের পরিকল্পনা থাকে?

- এককথায় যদি বলি, জন্মদিন ঘিরে কোনো পরিকল্পনাই আমার থাকে না। তবু কোনো না কোনোভাবে জন্মদিনটা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। কাছের মানুষরা আসে। শুভেচ্ছা জানায়। গল্প হয়, আড্ডা হয়। স্মৃতিচারণও কম হয় না। সব মিলিয়ে জন্মদিনটা কীভাবে যেন বিশেষ দিন হয়ে ওঠে। এটা ঠিক, ছোটবেলার জন্মদিনগুলো অনেক বেশি আনন্দের ছিল। এখনও আনন্দের। তবে এই আনন্দে ভিন্নতা আছে, বৈচিত্র্য আছে।

এই মুহূর্তে ব্যস্ততা কী নিয়ে?

- অনেক কিছু নিয়ে। হয়তো সব কাজের কথা উল্লেখ করার মতো না, তবে এটা উল্লেখযোগ্য- জীবনের এই পর্যায়ে এসেও আমার কোনো অবসর নেই। সারাদিনই কাজ করি। সবই পারিবারিক কাজ। প্রতিটিই গুরুত্বপূর্ণ। মোটকথা, অভিনয় থেকে অবসর নিলেও পারিবারিক কাজে এখনও আমি আগের মতোই নিয়মিত। ক্ষেত্রবিশেষে আগের চেয়ে খানিকটা বেশি।

আপনি আমাদের চলচ্চিত্রের সোনালি দিন দেখেছেন খুব কাছ থেকে। সেই দিনগুলোকে কীভাবে অনুভব করেন?

- দুইভাবে অনুভব করি। কষ্টে এবং আনন্দে। আনন্দের অনুভবটা এমন, যখন আমাদের চলচ্চিত্রের সুদিন ছিল, তখন আমি এর অংশ ছিলাম। আমি আমার সাধ্যমতো অবদান রাখতে পেরেছি; যা আমার কাছে শুধু আনন্দেরই না, তৃপ্তিরও। আর কষ্টের অনুভবটা এমন, যেদিন গেছে, সেদিন তো আর ফিরে পাব না। যা চাইলেও ফিরে পাওয়া যায় না, তা মূলত কষ্টই দেয়।

সোনালি অতীতের কোন অংশটা আপনাকে বেশি স্মৃতিকাতর করে?

- আমি চলচ্চিত্রে আসি প্রখ্যাত পরিচালক সুভাষ দত্তের হাত ধরে। এরপরের যে সময়টা, এই সময়টাই আমাকে বেশি স্মৃতিকাতর করে। কারণ, আমার অভিনীত সিনেমা দেখার জন্য মানুষের যে উন্মাদনা, সেটা আমি কাছ থেকে দেখেছি। তখন আমি এমন অনেক ছবিতে অভিনয় করেছি, যেগুলো দর্শক তিনবার, চারবার করে দেখেছে। এ ছাড়া তখন অনেক গুণী পরিচালক ছিলেন। তাদের কাছ থেকে শেখার যে স্মৃতি, এই স্মৃতি আমাকে যেমন কাতর করে, তেমনি গর্বিত করে। কী দারুণ এক সময় ছিল তখন!

জহির রায়হানকে সাধারণ দর্শক একভাবে অনুভব করেন, তার স্ত্রী হিসেবে আপনি তাকে অন্যভাবে অনুভব করেন। সেই অনুভূতির কথাটা জানতে চাই।

- একজন গুণী মানুষ ছিলেন, হঠাৎ করেই তিনি নেই। কথা ছিল ঘরে ফিরবেন, তিনি ফেরেননি। আর কোনোদিন ফিরবেন না। এটা সাধারণ কোনো কষ্ট নয়। পাহাড়ের চেয়ে ভারী কষ্ট। জহির রায়হানকে এই পাহাড় সমান কষ্ট নিয়েই আমি অনুভব করি। তবে এটাও বিশ^াস করি, তিনি ছিলেন, তিনি আছেন।

সুচন্দা, ববিতা, চম্পা- তিন বোন একসঙ্গে হলে সাধারণত কী ধরনের কথা বা আড্ডা হয়?

- এই আড্ডার কোনো ধরন নেই। আমরা সবকিছু নিয়েই কথা বলি। সব উঠে আসে আমাদের আড্ডায়। রঙিন শৈশব, কৈশোর, তারুণ্যের দিনগুলো- এককথায় সব। আমাদের মা-বাবার কথাও উঠে আসে। তারা কীভাবে শাসন করতেন, আদর করতেন, কোনো স্মৃতিচারণই বাদ যায় না। আসলে বোনদের আড্ডা একটু স্পেশালই হয়।

এখন যারা চলচ্চিত্রে কাজ করছেন, তাদের উদ্দেশে যদি কিছু বলেন।

- এখন যারা কাজ করছে, তারা অনেক বেশি মেধাবী। মেধার পাশাপাশি গ্ল্যামারও আছে। তারা ভালো করছে। আমার বিশ^াস, আরও ভালো করবে। তবে একটা অপূর্ণতা তো আছেই। আমরা যেসব পরিচালকের সান্নিধ্য পেয়েছিলাম, তাদের সান্নিধ্য তারা পায়নি। পেলে তারা আরও অনেকদূর যেতে পারত। তবে আমি তাদের জন্য মন থেকে দোয়া করি। তারা ভালো করুক। তাদের হাত ধরে বাংলা চলচ্চিত্র এগিয়ে যাক।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..