✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৯-১৫, | ১৪:০১:৫২ |ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে ভুয়া বিজ্ঞাপন প্রচারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্য চুরি করছে সাইবার অপরাধীরা। এসব বিজ্ঞাপনে ক্লিক করলেই অপরিচিত ওয়েবসাইটে নিয়ে গিয়ে অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ নামাতে বলা হচ্ছে। ক্ষতিকর এসব অ্যাপ ফোনে ইনস্টলের পর ব্যবহারকারীর বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে সাইবার অপরাধীদের কাছে পাঠাতে পারে। এমনকি ফোনের নিয়ন্ত্রণও চলে যেতে পারে অপরাধীদের হাতে।
সাইবার নিরাপত্তা–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরাতে জানা গেছে, প্রাপ্তবয়স্কদের উপযোগী বিভিন্ন অ্যাপের ছদ্মবেশে ক্ষতিকর অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ ছড়ানো হচ্ছে। ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের বিজ্ঞাপনে ক্লিক করার পর ব্যবহারকারীকে গুগল প্লে স্টোরের পরিবর্তে সরাসরি ‘এপিকে’ ফাইল ডাউনলোড করতে বলা হয়। কিছু ক্ষেত্রে এসব ওয়েবসাইটের ঠিকানায় ‘ডট লাইভ’ ডোমেইনও দেখা যাচ্ছে।
এপিকে ফাইল ডাউনলোড করে ফোনে ইনস্টল করার পর শুরু হয় প্রতারণার পরবর্তী ধাপ। অনেক সময় একটি অ্যাপ ইনস্টলের পর ব্যবহারকারীকে আরও একটি প্যাকেজ ডাউনলোড করতে বলা হয়। সেটিকে অ্যাপের নতুন সংস্করণ বা হালনাগাদ হিসেবে দেখানো হয়। এভাবে বিভ্রান্ত করে ব্যবহারকারীর কাছ থেকে ফোনে অ্যাপ ইনস্টলের অনুমতি নেওয়া হয়।
ক্ষতিকর অ্যাপগুলো অ্যাকসেসিবিলিটিসহ বিভিন্ন সংবেদনশীল অনুমতি চাইতে পারে। অ্যাপের স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্য এসব অনুমতি প্রয়োজন—এমনভাবে বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়। কিন্তু অনুমতি পাওয়ার পর অ্যাপগুলো ফোনের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এর মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য, ব্যাংকিং তথ্যসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের সুযোগ তৈরি হয়।
কিছু ক্ষেত্রে ক্ষতিকর অ্যাপ ফোনে ভিপিএন বা ভার্চ্যুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক স্থাপনের চেষ্টা করে। এর ফলে ফোনের ইন্টারনেট-সংক্রান্ত তথ্য আক্রমণকারীদের নিয়ন্ত্রিত সার্ভারের মাধ্যমে আদান-প্রদান হতে পারে। এতে ব্যবহারকারীর অনলাইন কার্যক্রম ও ব্যক্তিগত তথ্য আরও ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। কোনো কোনো অ্যাপ ফোনের সেটিংস থেকে নিজেকে মুছে ফেলার বা আনইনস্টল করার প্রক্রিয়াও বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ও ডিজিআর্মরএক্সের প্রতিষ্ঠাতা নিধি শ্রীবাস্তব বলেন, এ ধরনের প্রতারণার মূল ঝুঁকি তৈরি হয় সামাজিক প্রকৌশল কৌশল ও ফোনের বিভিন্ন অনুমতির সমন্বয়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিজ্ঞাপন থেকে ব্যবহারকারীকে অন্য ওয়েবসাইটে নিয়ে গিয়ে এপিকে ফাইল ডাউনলোড করানো প্রথমে সাধারণ প্রতারণা মনে হতে পারে। কিন্তু অ্যাপটি যখন অ্যাকসেসিবিলিটি, ভিপিএন বা অন্য অ্যাপ ইনস্টলের মতো গুরুত্বপূর্ণ অনুমতি চায়, তখনই বড় ঝুঁকি তৈরি হয়।
নিধি শ্রীবাস্তবের মতে, এসব অনুমতির মাধ্যমে সাইবার অপরাধীরা ফোনের ওপর উল্লেখযোগ্য নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে। এর ফলে ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্য হাতিয়ে নেওয়া এবং আর্থিক প্রতারণার সুযোগ তৈরি হয়।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিজ্ঞাপন থেকে পাওয়া অপরিচিত ওয়েবসাইটে গিয়ে সরাসরি এপিকে ফাইল ডাউনলোড না করার পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে কোনো অ্যাপকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত অ্যাকসেসিবিলিটি, ভিপিএন বা অন্যান্য সংবেদনশীল অনুমতি দেওয়ার আগে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।