✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৯-১৫, | ১৩:৫৪:৪৭ |চাঁপাইনবাবগঞ্জে ব্যবসায়ীর স্বর্ণ ছিনতাইয়ের মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া পুলিশ কনস্টেবল জাকির হোসেনের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার চাঁপাইনবাবগঞ্জের একটি আদালতে শুনানি শেষে আদালত তাঁর দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরামুল হোসাইন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আসামির ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছিলেন। তবে শুনানি শেষে আদালত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে জাকির হোসেনকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলেও জানান তিনি।
ওসি জানান, মামলার অপর আসামি চাঁপাইনবাবগঞ্জের চক আলমপুরের বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী গ্রেপ্তারের পর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন। তাই তাকে রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজন হয়নি।
মোহাম্মদ আলী পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছিলেন, তার শ্যালক নিঝুমের ৪০ ভরি স্বর্ণের ওই চালানটি তিনিই চাঁপাইনবাবগঞ্জ নিয়ে যান। পুলিশি অভিযানের নামে এই স্বর্ণ ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য তিনিই কনস্টেবল জাকিরকে ঠিক করেছিলেন। তিনি আরেক ব্যবসায়ীর হাতে স্বর্ণ তুলে দেওয়ার পর জাকির হোসেন তার এক বন্ধুকে নিয়ে ওই স্বর্ণ ছিনতাই করেন।
গত ৮ আগস্ট বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের কালীতলা ব্রিজ এলাকায় স্বর্ণ ছিনতাইয়ের এই ঘটনা ঘটে। ৮ আগস্ট দিবাগত রাত ২টা থেকে ২ মিনিট থেকে ২টা ৪৪ মিনিট পর্যন্ত কনস্টেবল জাকির হোসেন তার চাচাতো ভাই মশিউর রহমানকে ছয়বার ফোন করেন। এই সময়ে তাদের ২৮ মিনিট কথা হয়।
পরে ৯ আগস্ট ভোররাতেই তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে গ্রামের বাড়ি রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার শ্যামপুর পৌঁছে যান। সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে তিনি দুর্গাপুরের আলীপুর গ্রামে ছিলেন। ৮টা ২০ মিনিটে ছিলেন পাচুবাড়ি গ্রামে। ৮টা ৪২ মিনিটে ছিলেন দুর্গাপুরের পার্শ্ববর্তী বাগমারার গঙ্গানারায়ণপুর গ্রামে। এরপর মোহনপুরের বাকশিমইল, সইপাড়া হয়ে তানোর উপজেলা সদরে ঢোকেন। সেখান থেকে মুন্ডুমালা-আমনূরা সড়ক ধরে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ফিরে যান সকাল ১০টার মধ্যে। এর আগে তিনি এলাকার দুজন স্বর্ণকারকে ফোন করেন। তাদের মধ্যে একজনের সঙ্গে তিনি সারাদিনে চারবার ফোনে কথা বলেন।
স্বর্ণ ছিনতাইয়ের পর জাকির ১০ দিনের ছুটি নিয়ে গ্রামে চলে গিয়েছিলেন। ছুটি শেষে অফিসার্স মেসে যোগদান করলে তাকে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়। এরই মধ্যে গত শনিবার রাতে জাকির ও মোহাম্মদ আলীসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন ব্যবসায়ী নিঝুম। পরে ওই রাতেই পুলিশ লাইনস থেকে জাকিরকে এবং বাড়ি থেকে মোহাম্মদ আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ সময় মোহাম্মদ আলীর বাড়ি থেকে সাড়ে ২০ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। মোহাম্মদ আলী পুলিশকে জানিয়েছেন, বাকি ২০ ভরি স্বর্ণ আছে পুলিশ কনস্টেবল জাকির হোসেনের কাছে। তবে জাকির এখনও তা স্বীকার করেননি। এ জন্যই তাকে রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।