✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৯-১৪, | ১৮:০৬:১৮ |ঘটনা, আমেরিকান পাখি বিশেষজ্ঞ রবার্ট রিজলি যখন দক্ষিণ ইকুয়েডরের গহীন মেঘলা বনে হাঁটার সময় এক অচেনা ডাক শুনতে পান, তখন তিনি হয়তো কল্পনাও করতে পারেননি যে সেই ছোট্ট এক আবিষ্কার পুরো বিশ্বের সংরক্ষণ ব্যবস্থাকে চিরতরে বদলে দেবে।
বাঁশঝাড়ের আড়াল থেকে বেরিয়ে আসা সেই সাদা মুখ, বাদামী পিঠ আর ধূসর বুকের এক দুর্লভ পাখি; যাকে স্থানীয়রা ডাকতো ‘জোকোটোকো’ নামে। বিজ্ঞান জগতে পরিচিত হলো জোকোটোকো অ্যান্টপিটা বা 'গ্রালারিয়া রিজলি' নামে। বিংশ শতাব্দীর শেষভাগে এটিই ছিল পাখিবিজ্ঞানের অন্যতম সেরা ও বিস্ময়কর আবিষ্কার।
কিন্তু শুধু একটি নতুন প্রজাতি আবিষ্কারেই থেমে থাকেনি এর প্রভাব। পাখিটিকে বিলুপ্তির হাত থেকে বাঁচাতে এবং তার বাসস্থানকে অক্ষত রাখতে জন্ম নেয় ‘জোকোটোকো ফাউন্ডেশন’। একটি বিরল পাখির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার সেই পথচলা আজ এক বিশাল আন্তর্জাতিক মডেলে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে ইকুয়েডরজুড়ে ১৯টি সংরক্ষিত এলাকায় প্রায় ৫০ হাজার হেক্টরের বেশি জায়গা রক্ষা করছে এই সংস্থাটি, যা ইকুয়েডরের প্রায় ৮০ শতাংশ এবং পৃথিবীর মোট পাখি প্রজাতির আট ভাগের এক ভাগকে নিরাপদে বাঁচিয়ে রেখেছে। স্থানীয় মানুষকে বনরক্ষী হিসেবে নিয়োগ দিয়ে, তাদের হাতে প্রযুক্তির আলো তুলে দিয়ে এবং বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে বনের ক্ষতিপূরণ করে প্রকৃতিকে তারা ফিরিয়ে দিচ্ছে তার পুরনো যৌবন। সাম্প্রতিক গবেষণা দেখাচ্ছে, একবার বনাঞ্চল উজাড় হওয়ার পরও মানুষের সঠিক পরিচর্যায় মাত্র তিন দশকেই প্রায় ৯০ শতাংশ নতুন ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
আজ সেই সংরক্ষিত চত্বরগুলোতে গেলে চোখ জুড়িয়ে যায় প্রকৃতির অপার বৈচিত্র্যে। বুয়েনাফেনচুরার গহীন বনে দেখা মেলে বিরল এল ওরো প্যারাকিট কিংবা স্ট্রাইকিং হলুদ-গলা টুকান পাখির। উচ্চভূমির পরমায়ু চাকানা রিজার্ভে যেখানে বরফাবৃত কোটোপ্যাক্সি আগ্নেয়গিরির পটভূমিতে ডানা মেলে উড়ে বেড়ায় বিশালাকার আন্দিয়ান কন্ডোর আর ছোট ছোট হিলস্টার হামিংবার্ড, সেখানে যেন প্রকৃতির পুনর্জন্মের এক নতুন অধ্যায় রচিত হচ্ছে। যখন বিশ্বজুড়ে নানা রাজনৈতিক কারণে পরিবেশ রক্ষার তহবিল সংকুচিত হচ্ছে, ঠিক তখনই জোকোটোকো ফাউন্ডেশন দেখিয়ে দিচ্ছে কীভাবে স্থানীয়দের সাথে বিজ্ঞানীদের সঠিক সমন্বয় ও দীর্ঘমেয়াদী সদিচ্ছা পুরো পৃথিবীর পরিবেশকে রক্ষা করতে পারে। এই পাখির ডাক শুধু বনের নীরবতা ভাঙেনি বরং বিশ্বকে শিখিয়েছে প্রকৃতির ধ্বংসপ্রাপ্ত স্থানকেও আবার প্রাণবন্ত করে তোলার নতুন উপায়।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান