✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৯-১৩, | ১৩:৩৯:৩৬ |জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ইয়েমেনে চলমান সংঘাতে জুলাই মাস থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৭৬ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। গত এক সপ্তাহেই এই সংখ্যা চার গুণ বেড়েছে, কারণ সরকারি বাহিনী ও ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে লড়াই আরও তীব্র হয়েছে।
জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (আইওএম) শনিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইয়েমেনে বাস্তুচ্যুতি সংকট দ্রুত ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে এবং পরিস্থিতি প্রতি ঘণ্টায় আরও খারাপ হচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরে ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণে রাখা হুথিরা গত সপ্তাহে সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে। এই লড়াইয়ে একের পর এক সাফল্য দাবি করেছে তারা, এবং এতে শত শত মানুষ নিহত হয়েছে।
আইওএম জানায়, জুলাইয়ে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হুথিদের নৌ অবরোধ ঘোষণার পর থেকে অন্তত ৭৬ হাজার মানুষ তাদের বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়েছে।
সংস্থাটি বলেছে, গত সপ্তাহের তুলনায় বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা চার গুণ বেড়েছে। অনেক পরিবার রাতের অন্ধকারে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বেরিয়ে পড়ছে, কিন্তু তাদের যাওয়ার কোনো নিরাপদ জায়গা নেই।
আইওএম-এর এক মুখপাত্র এএফপিকে জানান, সেপ্টেম্বর মাসের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ৭০ হাজারেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
এর আগে সংস্থাটি জানিয়েছিল, মাসের শুরু থেকে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ছিল ৪৬ হাজার, যা মঙ্গলবার পর্যন্ত ছিল ১৮ হাজার ৫০০।
এই বাস্তুচ্যুতি পশ্চিম উপকূল ও তায়েজ অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি হয়েছে বলে জানিয়েছে আইওএম। তায়েজ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা, যেখানে প্রায় ৮ হাজার ৩০০ পরিবার—অর্থাৎ প্রায় ৫০ হাজার মানুষ—নিজ নিজ এলাকা ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।
সংস্থাটি আরও জানায়, অনেক পরিবার এর আগেও একাধিকবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে। দীর্ঘ ১২ বছরের যুদ্ধের কারণে তাদের সহনশীলতা শেষ হয়ে এসেছে।
“তারা ক্লান্ত, তাদের সব সম্পদ শেষ। অধিকাংশ মানুষ শুধু শরীরের পরনের কাপড় নিয়েই পালিয়েছে,” আইওএম বলেছে।
সংস্থাটির মাঠ পর্যায়ের দলগুলো জরুরি সহায়তা হিসেবে আশ্রয় সামগ্রী ও স্বাস্থ্যবিধি সামগ্রী বিতরণ করছে। তবে তারা সতর্ক করে জানিয়েছে, প্রয়োজনের তুলনায় সহায়তা অনেক কম।
আইওএম আরও বলেছে, পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হচ্ছে এবং আগামী দিনগুলোতে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
সূত্র: আরব নিউজ