✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৯-১২, | ০০:৩২:৫৫ |এলএনজি বা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি বাংলাদেশের গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
জাপানের টোকিওর দ্য ওয়েস্টিন হোটেলে আয়োজিত ‘১৫তম এলএনজি প্রোডিউসার-কনজুমার কনফারেন্স ২০২৬’-এ তিনি এ কথা বলেন। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এবারের সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘অ্যাডভান্সিং এলএনজি ফর দ্য ফিউচার: রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড রিলায়েবিলিটি’।
বক্তব্যের শুরুতে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি ব্যবস্থায় ভূরাজনৈতিক পরিবর্তন, সরবরাহে বিঘ্ন এবং বাজারের অস্থিতিশীলতার কারণে জ্বালানি নিরাপত্তাকে শুধু জ্বালানি প্রাপ্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার সুযোগ নেই। আধুনিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্ভরযোগ্যতা, বৈচিত্র্যকরণ, সাশ্রয়ী মূল্য এবং নমনীয়তার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।
বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের বর্তমান চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা, শিল্পায়ন, নগরায়ণ এবং বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধির ফলে জ্বালানি ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন, সার প্রস্তুতকরণ, শিল্পকারখানা ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমে প্রাকৃতিক গ্যাস অপরিহার্য হলেও দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের মাধ্যমে বর্ধিত চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউর মাধ্যমে প্রতিদিন ১ হাজার ১০০ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। দেশে বছরে এলএনজির চাহিদা প্রায় ৭ মিলিয়ন টন বা ৭ এমটিপিএ। এই চাহিদা পূরণে অবকাঠামো সম্প্রসারণের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে।
এর অংশ হিসেবে ২০২৮ সালের মধ্যে মহেশখালীতে অতিরিক্ত ৬০০ এমএমসিএফডি ক্ষমতাসম্পন্ন আরও একটি এফএসআরইউ এবং ২০৩০ সালের মধ্যে মাতারবাড়ীতে ১ হাজার এমএমসিএফডি ক্ষমতার স্থলভিত্তিক টার্মিনাল চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
এছাড়া ২০২৬ থেকে ২০৩০ মেয়াদে অতিরিক্ত ৩ থেকে ৪ এমটিপিএ এবং ২০৩১ থেকে ২০৪০ মেয়াদে তা ১৭ থেকে ১৮ এমটিপিএতে উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। সরবরাহ চেইনের বৈচিত্র্যকরণ ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের বিষয়ে তিনি বলেন, জি-টু-জি, আন্তর্জাতিক দরপত্র (আরএফকিউ) এবং সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির (ডিপিএম) মাধ্যমে বিভিন্ন উৎস থেকে এলএনজি সংগ্রহ করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে সরকার একটি স্বচ্ছ ও বিনিয়োগবান্ধব নীতি প্রণয়ন করেছে বলেও জানান তিনি। বিশেষ করে সম্প্রতি ঘোষিত ‘বাংলাদেশ অফশোর বিডিং রাউন্ড ২০২৬’-এর মাধ্যমে বিভিন্ন সুযোগ রাখা হয়েছে। এ বিডিং রাউন্ডটি ৩০ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত উন্মুক্ত থাকবে। এর আওতায় সম্পূর্ণ মুনাফা স্থানান্তর, কর পরিশোধে সরকারি সহায়তা এবং দীর্ঘমেয়াদি রাজস্ব স্থিতিশীলতার মতো সুযোগ রয়েছে।
বিশ্ব জ্বালানি বাজারের পরিবর্তনশীল পরিস্থিতিতে নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী জ্বালানি ভবিষ্যৎ গড়তে বাংলাদেশ পারস্পরিক অংশীদারত্ব ও সহযোগিতায় দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে বলে জানান অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। টেকসই জ্বালানি ভবিষ্যৎ গঠনে বন্ধুভাবাপন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে একযোগে কাজ করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।