✕


মিশরে বর্জ্য জমা দিয়ে মিলছে মোবাইল ব্যালান্স

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৯-১১, | ১২:১০:১৮ |
মিশরে পরিবেশ সুরক্ষা, প্লাস্টিক দূষণ রোধ এবং রিসাইক্লিং বা বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের সংস্কৃতি গড়ে তোলার জন্য একটি অভিনব ও যুগোপযোগী উদ্যোগ বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। সাধারণ মানুষ এখন ঘরের অব্যবহৃত প্লাস্টিক বা অ্যালুমিনিয়াম বর্জ্য ফেলে না দিয়ে তা জমা দিচ্ছে এবং এর বিনিময়ে নগদ আর্থিক সুবিধা হিসেবে পাচ্ছে মোবাইল ফোনের ব্যালান্স।

এই ব্যবস্থার আওতায় রাজধানী কায়রোসহ বিভিন্ন জনবহুল এলাকায়, মেট্রো স্টেশন এবং শপিং মলে বিশেষ ধরনের কিছু স্বয়ংক্রিয় স্মার্ট ভেন্ডিং মেশিন বা রিসাইক্লিং কিয়স্ক স্থাপন করা হয়েছে। সাধারণ নাগরিকরা যখন তাদের ব্যবহার করা প্লাস্টিকের খালি বোতল বা অ্যালুমিনিয়ামের ক্যান এই মেশিনগুলোতে নির্দিষ্ট স্লটের মাধ্যমে জমা দেন, তখন মেশিনটি প্রযুক্তির সাহায্যে বর্জ্যের ওজন ও পরিমাণ হিসাব করে একটি নির্দিষ্ট পয়েন্ট বা ডিজিটাল টোকেন প্রদান করে।  এই ডিজিটাল পয়েন্ট বা ক্রেডিটকে পরবর্তীতে খুব সহজেই ব্যবহারকারীর মোবাইল ফোনে রিচার্জ বা মোবাইল ব্যালান্স হিসেবে রূপান্তর করা সম্ভব হয়। 

এছাড়া অনেক মেশিনে মোবাইল ব্যালান্সের পাশাপাশি সুপারমার্কেটের ডিসকাউন্ট ভাউচার, পাবলিক ট্রান্সপোর্টের টিকিটের ভাড়া ছাড় কিংবা দাতব্য প্রতিষ্ঠানে অনুদান দেওয়ারও সুযোগ রাখা হয়েছে।  শুধু প্লাস্টিক বা সাধারণ বর্জ্যই নয়, মিশরে ইলেকট্রনিক বর্জ্য বা ই-ওয়াস্ট (যেমন পুরোনো মোবাইল ফোন, চার্জার ও ক্যাবল) সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনার জন্য "E-Tadweer" নামের একটি মোবাইল অ্যাপও চালু রয়েছে। 

এই অ্যাপের মাধ্যমে নাগরিকরা তাদের পুরোনো বা নষ্ট হয়ে যাওয়া ইলেকট্রনিক ডিভাইসগুলো নির্ধারিত রিসাইক্লিং পয়েন্টে জমা দিয়ে আকর্ষণীয় ডিসকাউন্ট কুপন ও পুরস্কার লাভ করেন।পরিবেশবাদী ও নীতিনির্ধারকদের মতে, বর্জ্যের বিনিময়ে মোবাইল ব্যালান্স দেওয়ার এই আকর্ষণীয় প্রণোদনা সাধারণ মানুষকে যত্রতত্র আবর্জনা ফেলা থেকে বিরত রাখতে এবং পরিচ্ছন্ন ও সবুজ মিসর গড়তে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করছে। এটি একদিকে যেমন শহরকে দূষণমুক্ত রাখছে, অন্যদিকে সাধারণ নাগরিকদের মাঝে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা ও আগ্রহ বৃদ্ধি করছে।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..