✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৯-১০, | ১২:৫৯:৩৮ |ইয়েমেনের পেরিম দ্বীপ যেন ইতিহাসের কোনো বিস্মৃত অধ্যায়। অনুর্বর বালু ও পাথুরে ভূখণ্ডের এই দ্বীপটির অবস্থান অবশ্য বর্তমান সময়ে এটিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। বাব এল মান্দেব প্রণালিতে অবস্থিত পেরিম এখন ইরানকে ঘিরে বিস্তৃত সংঘাতের সম্ভাব্য নতুন ফ্রন্ট হিসেবে সামনে এসেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বাব এল মান্দেবের গুরুত্ব অনেক বেড়েছে। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সৌদি আরব হরমুজ থেকে তাদের তেল রপ্তানির একটি অংশ লোহিত সাগরমুখী পথে সরিয়ে নিয়েছে।
এ অবস্থায় ইরানের সবচেয়ে শক্তিশালী আঞ্চলিক মিত্র হিসেবে পরিচিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা পেরিম দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার লক্ষ্যে অগ্রসর হচ্ছে বলে আঞ্চলিক সূত্র জানিয়েছে। দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ পেলে লোহিত সাগরের প্রবেশপথের এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে বড় ধরনের প্রভাব বিস্তারের সুযোগ পাবে তারা।
বৃহস্পতিবার আঞ্চলিক সূত্রের বরাতে জানা যায়, হুতিরা পেরিমের প্রায় ৫০ মাইল উত্তরে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ উপকূলীয় শহর মোকা দখলের জন্য বড় ধরনের অভিযান শুরু করেছে।
সম্প্রতি পেরিম দ্বীপে পৌঁছাতে গিয়ে সিএনএনের একটি দলও নিরাপত্তাঝুঁকির মুখে পড়ে। ইয়েমেনি সেনাদের একটি দল প্রচণ্ড রোদের মধ্যে দ্বীপে আগতদের স্বাগত জানায়। পুরোনো একটি গানবোট থেকে যাত্রীদের নামতে সহায়তা করেন এক কর্মকর্তা। সিএনএনের দলটি বিশেষ অনুমতি নিয়ে ওই দ্বীপে গিয়েছিল।
বাব এল মান্দেবের সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশে পেরিমের অবস্থান। এই প্রণালির এক পাশে আরব উপদ্বীপ এবং অন্য পাশে আফ্রিকার হর্ন অব আফ্রিকা অঞ্চলের দূরত্ব প্রায় ১২ মাইল। ফলে বহু শতাব্দী ধরেই দ্বীপটির কৌশলগত মূল্য রয়েছে। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের আমলে ভারতে যাতায়াতকারী জাহাজের কয়লা সরবরাহের কেন্দ্র হিসেবেও এটি ব্যবহৃত হয়েছিল। এখনো দ্বীপে সেই ঔপনিবেশিক সময়ের ধ্বংসাবশেষ দেখা যায়।
পেরিমের সর্বোচ্চ স্থানে যাওয়ার পথে ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তা আফ্রিকার দিকে ইরিত্রিয়া ও জিবুতির অবস্থান দেখান। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের অনুগত একটি ব্রিগেডের এই প্রবীণ সদস্যের কাছে পেরিম রক্ষার দায়িত্ব এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
এটি ভূরাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ : এক দশকের বেশি সময় ধরে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধকে অনেকটা আঞ্চলিক সংঘাত হিসেবেই দেখা হয়েছে। তবে হুতিদের নতুন অভিযান এবং লোহিত সাগর উপকূলের দিকে তাদের হামলা সেই ধারণা বদলে দিচ্ছে। পেরিমকে কেন্দ্র করে ইয়েমেন এখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের সংঘাতের আরেকটি সম্ভাব্য যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হচ্ছে।
হুতিরা বর্তমানে ইয়েমেনের রাজধানী সানা, দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা এবং পেরিমের উত্তরে লোহিত সাগরের বড় অংশের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে।
হরমুজ প্রণালির বিকল্প হিসেবে বাব এল মান্দেব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠায় এই জলপথকে ঘিরে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, ইরান হুতিদের মাধ্যমে এই পথের ওপর চাপ বাড়াতে পারলে তেলের দাম বাড়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের রাজনীতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের ভাইস প্রেসিডেন্ট তারিক সালেহ সিএনএনকে বলেন, তারা বহু আগে থেকেই বিশ্বকে সতর্ক করেছিলেন যে এটি ইরানের একটি প্রকল্প; কিন্তু তখন কেউ ইয়েমেনিদের কথা শোনেনি। এখন বিষয়টি ভূরাজনৈতিক পর্যায়ে পৌঁছেছে।
সালেহ ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট আলী আবদুল্লাহ সালেহর ভাতিজা এবং একসময় হুতিদের মিত্র ছিলেন। ইয়েমেনের রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে তিনি ব্যতিক্রমী একজন, কারণ অন্য অনেক নেতা দেশ ছেড়ে গেলেও তিনি দেশেই অবস্থান করছেন। তার দাবি, তাকে হত্যার জন্য কয়েকবার চেষ্টা করা হয়েছে এবং ইরান তাকে হত্যা করতে চায়।
আগস্টের শেষ দিকে ইয়েমেনের একটি প্রত্যন্ত সৈকতে তাঁবুর ভেতর সিএনএনের সঙ্গে কথা বলার সময় সালেহ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে তারা কোনো সহায়তা পাচ্ছেন না, শুধু কথাই শুনছেন। হুতিরা পেরিম দখল করে বাব এল মান্দেবের নিয়ন্ত্রণ নিলে তাদের সরাতে বড় ধরনের আন্তর্জাতিক বাহিনী ও নৌবাহিনীর প্রয়োজন হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
পেরিমে পৌঁছানোর ঘটনাই সেখানে বিদ্যমান ঝুঁকির চিত্র তুলে ধরে। মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় দুই মাইলের জলপথ পাড়ি দেওয়ার সময় সম্ভাব্য হুতি ড্রোন হামলার সতর্কতা পাওয়া গেলে সিএনএন বহনকারী গানবোটটি ফিরে যেতে বাধ্য হয়। সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতি হিসেবে গানবোটের গোলন্দাজ পুরোনো অস্ত্র থেকে ভারী গোলা ছোড়েন।
ইরান-হুতি সম্পর্ক নিয়ে নতুন উত্তেজনা : ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ শুরু হয় ২০১৪ সালে। ওই সময় হুতিরা রাজধানী সানা দখল করে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে নির্বাসনে যেতে বাধ্য করে। পরের বছর বিদ্রোহীদের হটাতে সৌদি আরবের নেতৃত্বে সামরিক অভিযান শুরু হয়। ইরান হুতিদের অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে এবং তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব রয়েছে বলে দীর্ঘদিনের অভিযোগ।
এর ফলে ইয়েমেন কার্যত বিভক্ত হয়ে পড়ে। হুতিদের নিয়ন্ত্রণে রাজধানী ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল থাকলেও দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের বড় অংশ রয়েছে সরকার ও তাদের মিত্রদের হাতে। জাতিসংঘের হিসাবে, দেশটির প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ মানুষ এখনো মানবিক সহায়তার প্রয়োজনের মধ্যে রয়েছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরায়েলে হামলা এবং গাজায় পরবর্তী যুদ্ধের পর হুতিরাও সংঘাতে যুক্ত হয়। ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে তারা ইসরায়েল লক্ষ্য করে হামলা চালায় এবং লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে আক্রমণ শুরু করে। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হুতিদের বিভিন্ন স্থাপনায় বিমান হামলা চালায়। ২০২৫ সালে ট্রাম্প প্রশাসন হুতিদের সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করে।
ইয়েমেন সরকারের বিরুদ্ধে হুতিদের সর্বশেষ অভিযান শুরু হয় জুলাইয়ে। এর মধ্য দিয়ে সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে প্রায় চার বছর ধরে চলা অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতিও ভেঙে যায়। একই সঙ্গে ইয়েমেনের সংঘাত সরাসরি ইরানকে ঘিরে বৃহত্তর যুদ্ধের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়ে।
এর আগে দীর্ঘদিন পর সৌদি আরব ইয়েমেনের আকাশসীমা ব্যবহারে ব্যতিক্রমী অনুমতি দিয়ে একটি ইরানি যাত্রীবাহী বিমানকে সানায় অবতরণের সুযোগ দেয়। প্রায় এক দশক পর তেহরান-সানা সরাসরি বিমান যোগাযোগের ওই ফ্লাইটটি পরে হুতি প্রতিনিধিদলকে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির শেষকৃত্যে নিয়ে যায়। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার শুরুতে খামেনি পরিবারের কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে নিহত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে ১০ দিন পর বিমানটি সানায় ফেরার অনুমতি চাইলেও সৌদি আরব তা দেয়নি। বিমানটিতে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের সদস্য ও সামরিক সরঞ্জাম থাকার আশঙ্কা ছিল বলে জানানো হয়। পরে সৌদি বিমান হামলায় সানার বিমানবন্দরের রানওয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিমানটি হুতি-নিয়ন্ত্রিত হোদেইদা বন্দরের দিকে চলে যায়।
এই ঘটনা অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি ধরে রাখা কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় বড় ধাক্কা দেয়। এরপর হুতিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণা করে এবং বাব এল মান্দেব দিয়ে সৌদি রপ্তানি বহনকারী জাহাজকে হুমকি দেয়। সৌদি আরবের তেল অবকাঠামো, বিমানবন্দর ও অন্যান্য বেসামরিক স্থাপনাও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার লক্ষ্য হয়।
ওয়াশিংটনভিত্তিক ঝুঁকি বিশ্লেষক মোহাম্মদ আল-বাশা তেহরান ও হুতিদের সম্পর্ককে এমন এক সম্পর্ক হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যেখানে হুতিরা ইরানের কাছে পুরোপুরি অধীন নয়, তবে দুই পক্ষ একই স্বার্থে কাজ করছে।
তবে গবেষকরা মনে করেন, হুতিদের সাম্প্রতিক অভিযানকে কেবল ইরানের আঞ্চলিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হিসেবে দেখলে বিষয়টি পুরোপুরি বোঝা যাবে না। চ্যাথাম হাউসের গবেষক ফারেয়া আল-মুসলিমির মতে, অভ্যন্তরীণ সংকট থেকে মানুষের দৃষ্টি সরাতেও হুতিদের যুদ্ধ প্রয়োজন ছিল। পাশাপাশি সৌদি আরবকে আবার আলোচনায় বসতে বাধ্য করার লক্ষ্যও তাদের থাকতে পারে।
হুতিদের ইসরায়েলবিরোধী হামলা, লেবাননের হিজবুল্লাহর দুর্বল হয়ে পড়া এবং সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর ইরান-সমর্থিত ‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’-এ হুতিদের গুরুত্ব বেড়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বন্দরে হামলা, বিপাকে জেলেরা : বাব এল মান্দেব দিয়ে তেল পরিবহন এরই মধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। তিন বছর আগে বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত মোট তেলের প্রায় ১০ শতাংশ এই জলপথ দিয়ে যেত। কেপলার ডেটা অনুযায়ী, সেই পরিমাণ এখন প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। হুতিদের ধারাবাহিক হামলা পরিস্থিতি আরও খারাপ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
হুতিদের ড্রোন হামলায় ইয়েমেনের জেলেরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। পেরিমের উত্তরের একটি দ্বীপে এমন হামলায় কয়েকজন নিহত ও আহত হওয়ার পর সেখান থেকে বহু জেলেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে ইয়েমেন সরকারের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে অস্থায়ী বাজারের কাছে ছোট ফাইবারগ্লাস নৌকা থেকে মাছ নামাচ্ছিলেন জেলেরা। তাদের কয়েকজন সিএনএনের সঙ্গে কথা বলে জানান, যুদ্ধের কারণে ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এক ব্যবসায়ীর ভাষ্য, স্বাভাবিক সময়ে সমুদ্রে অনেক জাহাজ দেখা গেলেও হামলার কারণে এখন সেই দৃশ্য নেই।
পেরিমের কাছাকাছি মোকা বন্দরের অবস্থাও ভয়াবহ। লোহিত সাগরের উপকূলে ইয়েমেন সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকা গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোর মধ্যে এটি সবচেয়ে উত্তরের একটি। কয়েক সপ্তাহ আগে বাণিজ্যিক জাহাজে পণ্য ওঠানামার সময় বন্দরে ২৫টির বেশি হুতি রকেট আঘাত হানে বলে বন্দরটির পরিচালক আবদেল মালেক আল-শারাবি জানিয়েছেন।
হামলায় বন্দরের পানিতে কয়েকটি জাহাজ অর্ধডুবে রয়েছে। স্থলভাগের কংক্রিটের স্থাপনাগুলোতে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। পোড়া মোটরসাইকেলের কাঠামো ও আংশিক গলে যাওয়া ইঞ্জিনও পড়ে আছে।
বন্দর পরিচালক জানান, ওই হামলায় ১৬ জন নিহত ও ২২ জন আহত হন। ছয়টি বাণিজ্যিক জাহাজ ডুবে যায় এবং প্রায় ১৪ হাজার মোটরসাইকেল নষ্ট হয়। তার অভিযোগ, হুতিদের লক্ষ্য ইয়েমেনের অর্থনীতিকে ধ্বংস করা।
বাড়ছে সামরিক সক্ষমতা : গত এক বছরে হুতিরা ইয়েমেন থেকে এক হাজার মাইলেরও বেশি দূরে ইসরায়েল পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তুতে বারবার হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, তাদের হাতে হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। তাদের অস্ত্রভান্ডারে দীর্ঘপাল্লার সমুদ্রপৃষ্ঠঘেঁষা অ্যান্টি-শিপ ক্ষেপণাস্ত্রও রয়েছে, যেগুলো রাডার এড়িয়ে চলার জন্য তৈরি। এ ছাড়া উচ্চ-উচ্চতায় উড়তে সক্ষম মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার মতো সারফেস-টু-এয়ার ক্ষেপণাস্ত্রও তাদের হাতে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইয়েমেনের বিভিন্ন ফ্রন্টে হুতি ও সরকারি বাহিনীর লড়াইও তীব্র হচ্ছে। সরকারপন্থী সেনারা এখন এফপিভি বা ফার্স্ট-পার্সন-ভিউ কোয়াডকপ্টার ড্রোন ব্যবহার করে হুতিদের গোপন বাঙ্কারে হামলা চালাচ্ছে। সালেহ জানান, প্রশিক্ষণ ও ড্রোনের মতো নতুন সামরিক সরঞ্জাম পাওয়ায় সরকারি বাহিনীর সক্ষমতা বেড়েছে।
তবে সরকারি কর্মকর্তাদের দাবি, ইরানও হুতিদের সামরিক সক্ষমতা ধরে রাখতে সহায়তা করছে। একটি গোপন স্থানে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে রাখা একটি গুদাম সিএনএনকে দেখানো হয়। ইয়েমেন সরকারের দাবি, সেখানে হুতিদের কাছে পাচারের আগে জব্দ করা ইরান-নির্মিত অস্ত্রের চালান রাখা হয়েছিল।
সামরিক কর্মকর্তাদের দেখানো ওই চালানে প্রায় ১৮ ফুট দীর্ঘ ক্ষেপণাস্ত্র, দূরপাল্লার রাডার ব্যবস্থা, ড্রোনের ইঞ্জিন ও অপটিক্যাল সরঞ্জাম ছিল। এমনকি ট্রাকের ব্যাটারির ভেতর গুলিও লুকানো ছিল বলে জানানো হয়। কর্তৃপক্ষের দাবি, শনাক্তকরণ এড়াতে এসব সামরিক সরঞ্জামকে বাণিজ্যিক পণ্যের আড়ালে পাঠানো হয়েছিল।
তবে জব্দ করা চালানটি ইরান থেকে হুতিদের কাছে পৌঁছানো অস্ত্রের সামান্য অংশ মাত্র বলে স্বীকার করেছেন ইয়েমেনি কর্মকর্তারাও। সামরিক মিডিয়া অপারেশনের পরিচালক আবদেল নাসের এল মামলুহ জানান, পাচারকারীরা তাদের বলেছেন, এর আগে একই আকার ও ধরনের আরও ১১টি চালান পাঠানো হয়েছিল, যার মোট পরিমাণ প্রায় ৭৫০ টন।
হুতিরা যদি পেরিম দখল করে বাব এল মান্দেবে অবস্থান তৈরি করতে পারে, তাহলে জাহাজ চলাচলে হুমকি দেওয়ার জন্য তাদের আর দীর্ঘপাল্লার অস্ত্রের প্রয়োজন হবে না বলে সতর্ক করেছেন তিনি। তার আশঙ্কা, ইরান হরমুজে যেভাবে জলপথে মাইন স্থাপনের সক্ষমতা দেখিয়েছে, হুতিরাও একই ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারে।
ইয়েমেনের সরকারনিয়ন্ত্রিত লোহিত সাগর উপকূলে দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বক্তব্যে স্পষ্ট, তারা নিজেদের গৃহযুদ্ধকে এখন আর কেবল অভ্যন্তরীণ সংঘাত হিসেবে দেখছেন না।
এল মামলুহ বলেন, তারা আরব বিশ্ব ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হয়ে এই যুদ্ধে লড়ছেন।
অন্যদিকে সালেহর আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা না এলে হুতিদের সরাতে ভবিষ্যতে আরও বড় মূল্য দিতে হবে। তার মতে, সেই মূল্য শুধু ইয়েমেনকে নয়, শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যকেও দিতে হতে পারে।