✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৯-১০, | ১২:৫৭:০৬ |বিশ্বের অনেক উন্নত দেশের শিক্ষার্থীরা যখন গণিত, বিজ্ঞান ও পঠন দক্ষতায় ক্রমেই পিছিয়ে পড়ছে, তখন ঠিক উল্টো চিত্র সিঙ্গাপুরে। ২০২৫ সালের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী মূল্যায়ন কর্মসূচি (পিআইএসএ) পরীক্ষায় ১৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের পঠন দক্ষতায় বিশ্বসেরা হয়েছে দেশটি। গণিত ও বিজ্ঞানেও রয়েছে দ্বিতীয় অবস্থানে।
সিঙ্গাপুরের এই ফল এসেছে ১৫৭টি স্কুলের ৬ হাজার ৫৫১ শিক্ষার্থীর পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে। শুধু প্রচলিত শিক্ষার তিন ক্ষেত্রেই নয়, নতুন একটি পরীক্ষাতেও দারুণ করেছে দেশটির শিক্ষার্থীরা। কম্পিউটারভিত্তিক সমস্যা সমাধানের দক্ষতায় তারা পেয়েছে দ্বিতীয় স্থান।
নতুন এই বিভাগে শিক্ষার্থীদের শুধু কম্পিউটার ব্যবহারের দক্ষতা দেখা হয়নি। জটিল কোনো কাজকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করা, ডেটা বিশ্লেষণ করা এবং বাস্তব জীবনের সমস্যার সমাধানে অ্যালগরিদম তৈরির সক্ষমতাও যাচাই করা হয়েছে। অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থা (ওইসিডি) প্রতি তিন বছর পরপর পিআইএসএ পরীক্ষার মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ১৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগত দক্ষতা মূল্যায়ন করে। গত ৮ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হয়েছে ২০২৫ সালের ফলাফল। এবার পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে রেকর্ড ৯১টি দেশ। ২০২২ সালের পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ৮১টি দেশ।
এবারের মূল্যায়নে মূল গুরুত্ব ছিল বিজ্ঞানের ওপর। গণিত ও পঠন দক্ষতা ছিল গৌণ বিষয়। একই সঙ্গে প্রথমবারের মতো ডিজিটাল বিশ্বে শেখার সক্ষমতাও পরীক্ষার আওতায় আনা হয়েছে। ডিজিটাল বা কম্পিউটারভিত্তিক মাধ্যম কাজে লাগিয়ে শিক্ষার্থীরা কীভাবে জ্ঞান তৈরি করে এবং জটিল সমস্যা সমাধান করে, সেটিও মূল্যায়ন করা হয়েছে।
তিনটি মূল বিষয়ে এবার শীর্ষ ফল করা দেশগুলোর মধ্যে চীন ও সিঙ্গাপুর এগিয়ে রয়েছে। গণিত ও বিজ্ঞানে প্রথম হয়েছে চীন, আর পঠন দক্ষতায় শীর্ষস্থান দখল করেছে সিঙ্গাপুর। এ ছাড়া এস্তোনিয়া, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, মাকাও, তাইওয়ান ও যুক্তরাজ্য- তিন বিভাগেই শীর্ষ ১০ শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে।
কম্পিউটারভিত্তিক সমস্যা সমাধানের নতুন বিভাগে অবশ্য সিঙ্গাপুরকে পেছনে ফেলেছে মাকাও। এই বিভাগে ডেটা বিশ্লেষণের মতো কম্পিউটেশনাল পদ্ধতি কাজে লাগিয়ে শিক্ষার্থীরা কতটা দক্ষতার সঙ্গে সমস্যা সমাধান করতে পারে, সেটিই ছিল মূল বিবেচনা।
এই ফলের মধ্য দিয়ে শিক্ষাব্যবস্থায় কম্পিউটেশনাল চিন্তার গুরুত্বও সামনে এসেছে। পিআইএসএ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনেক অভিভাবক এখনো কম্পিউটার বিজ্ঞানকে এমন একটি বিশেষায়িত বিষয় হিসেবে দেখেন, যা মূলত ভবিষ্যতে সফটওয়্যার প্রকৌশলী হতে চাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজন। প্রতিবেদনের মতে, ধারণাটি ভুল।
প্রতিবেদনে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, কম্পিউটেশনাল সমস্যার সমাধানের বড় মূল্য শুধু কোডিং শেখায় নয়; বরং কোডিংয়ের মাধ্যমে যে চিন্তার অভ্যাস তৈরি হয়, সেখানেই এর গুরুত্ব। যৌক্তিক চিন্তা, ধারা বা প্যাটার্ন শনাক্ত করা এবং বড় কোনো জটিল সমস্যাকে ছোট ও সহজ অংশে ভাগ করে সমাধান করার সক্ষমতা এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
প্রযুক্তি ও উপাত্তনির্ভর বিশ্বে এসব দক্ষতা ক্রমেই অপরিহার্য হয়ে উঠছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সিঙ্গাপুর, চীনসহ কয়েকটি দেশের সাফল্যের বিপরীতে পিআইএসএ ২০২৫-এর সামগ্রিক ফলাফলে বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর জন্য বড় সতর্কবার্তাও রয়েছে। এসব দেশের শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান, পঠন ও গণিত- তিন ক্ষেত্রেই দক্ষতা আগের তুলনায় কমেছে।
গত এক দশকে বিজ্ঞানে ফলাফল ধীরে ধীরে খারাপ হয়েছে। তবে গণিতে পতনের গতি আরও বেশি। বিশেষ করে ২০১৮ সালের পর গণিতের ফলাফলে দ্রুত ও বড় ধরনের অবনতি দেখা গেছে।
ফলে একদিকে ১৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের অসাধারণ ফল দিয়ে সিঙ্গাপুরের শিক্ষাব্যবস্থা নজর কেড়েছে, অন্যদিকে বিশ্বের অনেক উন্নত দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের মৌলিক দক্ষতা ধরে রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তথ্য সূত্র- দ্য স্ট্রেইট টাইমস।