✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৯-০৭, | ০১:২৪:৫৩ |ছোট আকারের বৈদ্যুতিক গাড়ি, কিন্তু একবার পূর্ণ চার্জে চলবে প্রায় ৪৯৫ কিলোমিটার। সঙ্গে রয়েছে প্রশস্ত অভ্যন্তরীণ জায়গা, দ্রুত চার্জিং, স্মার্ট ইনফোটেইনমেন্ট সিস্টেম ও বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তি। এমন বৈশিষ্ট্য নিয়ে বাজারে আসছে দক্ষিণ কোরিয়ার গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হুন্দাইয়ের নতুন আইওনিক ৩। কমপ্যাক্ট আকারের এই বৈদ্যুতিক গাড়িতে দুই ধরনের ব্যাটারি ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।
আইওনিক ৩-এর স্ট্যান্ডার্ড সংস্করণে রয়েছে ৪২ কিলোওয়াট-আওয়ারের ব্যাটারি। একবার পূর্ণ চার্জে এটি প্রায় ২১৩ মাইল বা ৩৪২ কিলোমিটার চলতে পারে। আর ৬১ কিলোওয়াট আওয়ারের বড় ব্যাটারি সংস্করণে এক চার্জে সর্বোচ্চ প্রায় ৪৯৫ কিলোমিটার পর্যন্ত পথ পাড়ি দেওয়া সম্ভব। ফলে শহরের দৈনন্দিন যাতায়াতের পাশাপাশি দীর্ঘ পথেও গাড়িটি ব্যবহার করা যাবে।
আইওনিক ৩-এ দাম কম রাখার জন্য ৮০০ ভোল্টের পরিবর্তে ৪০০ ভোল্টের বৈদ্যুতিক স্থাপত্য ব্যবহার করা হয়েছে। তবে চার্জিংয়ের ক্ষেত্রে খুব বেশি আপস করেনি হুন্দাই। ডিসি ফাস্ট চার্জার ব্যবহার করে গাড়িটির ব্যাটারি ১০ শতাংশ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ করতে প্রায় ২৯ মিনিট সময় লাগে।
গাড়িটিতে প্লাগ অ্যান্ড চার্জ সুবিধা রয়েছে। ফলে সামঞ্জস্যপূর্ণ চার্জিং স্টেশনে গাড়ি সংযুক্ত করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চার্জিং প্রক্রিয়া শুরু করা যায়। এছাড়া রয়েছে ভেহিকল-টু-লোড (ভিটুএল) সুবিধা। এর মাধ্যমে গাড়ির ব্যাটারির বিদ্যুৎ ব্যবহার করে বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্র চালানো সম্ভব।
আকারে আইওনিক ৩ হুন্দাইয়ের জনপ্রিয় আইওনিক ৫-এর চেয়ে ছোট। এর দৈর্ঘ্য ৪ হাজার ১৫৫ মিলিমিটার, প্রস্থ ১ হাজার ৮০০ মিলিমিটার এবং উচ্চতা ১ হাজার ৫০৫ মিলিমিটার। হুইলবেস ২ হাজার ৬৮০ মিলিমিটার। কিয়া ইভি ৩ ও শেভ্রোলেট বোল্ট ইভির তুলনাতেও গাড়িটি কিছুটা ছোট।
তবে ছোট আকারের হলেও ভেতরের জায়গা ব্যবহারে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে হুন্দাই। গাড়িটিতে ‘মেগাবক্স’ নামের আন্ডারফ্লোর স্টোরেজ রয়েছে। পেছনের বুট স্পেসের ধারণক্ষমতা ৪৪১ লিটার। ফলে দৈনন্দিন কেনাকাটা বা ভ্রমণের প্রয়োজনীয় মালপত্র রাখার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা পাওয়া যাবে।
গাড়িটির নকশায় হুন্দাইয়ের নতুন ‘আর্ট অব স্টিল’ ডিজাইন ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে। ‘অ্যারো হ্যাচ’ নকশার কারণে গাড়িটির বায়ুপ্রতিরোধ কমেছে। এর ফলে শক্তি ব্যবহারের দক্ষতা বাড়াতে সহায়তা করে এই নকশা।
প্রযুক্তির দিক থেকেও আইওনিক ৩ বেশ সমৃদ্ধ। গাড়িটিতে রয়েছে হুন্দাইয়ের নতুন ‘প্লিওস কানেক্ট’ ইনফোটেইনমেন্ট সিস্টেম। অ্যান্ড্রয়েড অটোমোটিভ অপারেটিং সিস্টেমের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই ব্যবস্থায় স্মার্টফোনের মতো বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করা যায়।
গাড়িতে ১২ দশমিক ৯ ইঞ্চি অথবা ১৪ দশমিক ৬ ইঞ্চির ডিসপ্লে ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। এছাড়া রয়েছে ডিজিটাল কি সুবিধা, যার মাধ্যমে স্মার্টফোনকে গাড়ির চাবি হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
যুক্তরাজ্যের বাজারে আইওনিক ৩ চারটি সংস্করণে পাওয়া যাচ্ছে। এগুলো হলো অ্যাডভান্স, প্রিমিয়াম, আলটিমেট ও এন লাইন ইভো। ইউরোপের অন্যান্য দেশেও গাড়িটির বুকিং শুরু হয়েছে। যুক্তরাজ্যে গাড়িটির প্রাথমিক সংস্করণের দাম প্রায় ২২ হাজার ২৪৫ পাউন্ড। নেদারল্যান্ডসে শুরু দাম ২৭ হাজার ৯৯৫ ইউরো এবং জার্মানিতে ২৮ হাজার ৯৫০ ইউরো।
গাড়িটির বাণিজ্যিক উৎপাদন তুরস্কের ইজমিতে হুন্দাইয়ের কারখানায় শুরু হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে সেখানে বছরে প্রায় ৩০ হাজার আইওনিক ৩ তৈরি করবে প্রতিষ্ঠানটি। চলতি মাসের শেষ দিকে বিভিন্ন শোরুমে গাড়িটি পৌঁছানোর কথা রয়েছে।