✕

সর্বশেষ :
হরমুজে ইরানের নতুন চাল, বিপাকে যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলো সুপ্রিম কোর্টের ছুটির সংস্কৃতি বিচার ব্যবস্থায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে : অ্যাটর্নি জেনারেল পাবনায় হাসপাতালে প্রসবের পর দুই নবজাতকের মৃত্যু, অবহেলার অভিযোগ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণে শিল্পীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে : সংস্কৃতিমন্ত্রী বিনিয়োগ ও ব্লু ইকোনমি নিয়ে নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা: মাহ্দী আমিন আন্দোলনের মাঝেই যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করল দিল্লি পুলিশ হুতিদের হামলায় আতঙ্কিত সৌদি যুবরাজ, বাংকারে আশ্রয়ের খবর লালমনিরহাটে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ মামলায় আসামির যাবজ্জীবন অনিয়মিত অভিবাসন রোধে একযোগে কাজ করতে সম্মত বাংলাদেশ ও ইইউ তাজমিনের পোশাক ও মোবাইল পরীক্ষার জন্য যাচ্ছে সিআইডিতে

তেলক্ষেত্র নিয়ন্ত্রণে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-২৮, | ২০:৪৮:১০ |

ইরানের সঙ্গে চলা উত্তেজনার মধ্যেই ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেলের মজুদের একটি অংশের ওপর দীর্ঘমেয়াদী নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি চুক্তির বিষয়ে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র। এই চুক্তির আওতায় শিগগিরই মার্কিন প্রশাসন কারাকাসের বেশ কয়েকটি তেলক্ষেত্র নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার সুযোগ পাবে।

এসব তেলক্ষেত্র মার্কিন কোম্পানিগুলোর মাধ্যমে উন্নয়নের ব্যবস্থার পাশাপাশি সেখান থেকে উৎপাদিত তেলের সরবরাহ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নিশ্চিত করা হবে। বার্তাসংস্থা রয়টার্সের সূত্রমতে, চুক্তির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলা সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে আলোচনা চলছে।

আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, চুক্তিটি কার্যকর করার আইনি কাঠামো হিসেবে একটি ইজারা বা লিজ ব্যবস্থার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে। এর আওতায় মার্কিন তেল উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোর মধ্যে প্রতিটি তেলক্ষেত্র বণ্টনের জন্য পরবর্তীতে নিলাম বা দরপত্র আহ্বান করা হতে পারে।

আলোচনাধীন ১৭টি তেলক্ষেত্রের তালিকা রয়টার্সের হাতে এসে পৌঁছেছে। এতে বিশাল ‘ওরিনোকো বেল্ট’-এর নতুন তেলক্ষেত্র (গ্রিন ফিল্ড) এবং ‘লেক মারাকাইবো’-র পুরনো বা সচল তেলক্ষেত্র উভয়ই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি ক্ষেত্র বর্তমানে একটি ছোট চীনা কোম্পানি পরিচালনা করছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর শাসনামলে ওই কোম্পানিটির সঙ্গে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল।

যদিও হোয়াইট হাউস এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করে মার্কিন জ্বালানি বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছে। ভেনেজুয়েলার তেল মন্ত্রণালয়, রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি পিডিভিএসএ এবং মার্কিন জ্বালানি বিভাগ কোনো পক্ষই তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি। ভেনেজুয়েলার তেলমন্ত্রী পলা হেনাও-এর সঙ্গে মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

ব্লুমবার্গের বৃহস্পতিবারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার প্রেক্ষাপটে কারাকাস ওপেক তেল উৎপাদনকারী জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে। ১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে এই জোটে যোগ দিলেও, অবহেলা ও দুর্নীতির কারণে রাষ্ট্রীয় তেল শিল্পের বেহাল দশার ফলে ভেনেজুয়েলা গত কয়েক বছর ধরে ওপেকের নির্ধারিত উৎপাদন কোটা পূরণ করতে পারছে না। উল্লেখ্য, তেলের দামের ওপর প্রভাব বিস্তারের কারণে ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরেই ওপেকের সঙ্গে মতবিরোধপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে।

বিশ্বের বৃহত্তম অপরিশোধিত তেলের মজুদের অধিকারী ভেনেজুয়েলায় বর্তমানে হাইড্রোকার্বন বিষয়ক আইন ও বিধিমালা রয়েছে, তাতে তেল উত্তোলনের জন্য নির্দিষ্ট এলাকার ইজারা বা লিজ দেওয়ার কোনো বিধান নেই। বরং দেশটির সংবিধান অনুযায়ী এই শিল্পের মূল কার্যক্রম রাষ্ট্রের এখতিয়ারভুক্ত।

তবে সম্প্রতি সংশোধিত তেল আইনে যৌথ উদ্যোগ (জয়েন্ট ভেঞ্চার) এবং উৎপাদন-অংশীদারিত্ব চুক্তির মাধ্যমে তেলক্ষেত্রের কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ রাখা হয়েছে। কয়েক দশক ধরে ভেনেজুয়েলা সরকার বিদেশি উৎপাদকদের দেশটির তেল মজুদের ওপর নিয়ন্ত্রণ বা অধিকার প্রতিষ্ঠার সুযোগ দেওয়া থেকে বিরত রেখেছে। ওয়াশিংটন ও কারাকাসের মধ্যে সম্ভাব্য চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনো প্রকাশ না পেলেও বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি সাংবিধানিক প্রশ্ন ও আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

জানুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্র সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকেই ভেনেজুয়েলা থেকে মার্কিন শোধনাগারগুলোতে অপরিশোধিত তেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। একই সঙ্গে তারা দেশটির জরাজীর্ণ জ্বালানি খাতে, যেখানে বর্তমানে দৈনিক প্রায় ১২ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত তেল উৎপাদিত হয়, সেখানে মার্কিন বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগও নিচ্ছে।

নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে পেট্রোলের ক্রমবর্ধমান দাম নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন চাপের মুখে রয়েছে। তেলের সরবরাহ বৃদ্ধি ও উৎপাদন বাড়ানোর মাধ্যমে এই পরিস্থিতির কিছুটা সুরাহা করা সম্ভব হতে পারে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র তার ‘কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুদ’ তথা জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য সংরক্ষিত তেলের ভাণ্ডার পুনরায় পূর্ণ করার উপায় খুঁজছে। এর মধ্যে মার্কিন উৎপাদকদের সঙ্গে অপরিশোধিত তেল বিনিময়ের (সোয়াপ) বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

তহবিলের ঘাটতি এবং মজুদাগারে চলমান রক্ষণাবেক্ষণ কাজের কারণে এই ভাণ্ডারটি পুনরায় পূর্ণ করার ক্ষেত্রে প্রশাসনের প্রচেষ্টা সীমিত হয়ে পড়েছে। উল্লেখ্য, ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর এবং পরবর্তীতে ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্র এই মজুদ থেকে তেল ব্যবহার করেছিল।

সূত্র: আলজাজিরা।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..