✕

সর্বশেষ :
পশ্চিম তীরে জলপাই সংগ্রহে বাধা, আটক ফিলিস্তিনি নারীরা খুলনায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় কলেজছাত্র নিহত ইন্সপেক্টর পদে পদোন্নতি পেলেন ১৪৯ পুলিশ সদস্য হুতির হামলায় অস্থির সৌদি, একের পর এক ভুলের খেসারত দিচ্ছে রিয়াদ সৌরবিদ্যুতে ইউনিট প্রতি সাশ্রয় হবে ৫-৬ টাকা নতুন ঋণচুক্তির বিষয়ে আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে নিচ্ছে বাংলাদেশ চার বছরে তাপপ্রবাহে ইউরোপে ২ লাখের বেশি মৃত্যু, সতর্ক করল ডব্লিউএইচও বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হওয়ার পথে ইলন মাস্ক যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতে কোভিড আমলের ঝুঁকিতে বৈশ্বিক অর্থনীতি : বিশ্বব্যাংক সমুদ্রের তলদেশে বিশ্বের প্রথম বায়ুবিদ্যুৎচালিত ডেটাসেন্টার চালু করল চীন

২০ বছর পর আবারো ভারত থেকে আম আমদানি নিষিদ্ধ করল জাপান

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৫-৩০, | ১৪:০৫:৪৮ |
দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর আবারো ভারত থেকে আম আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে জাপান। দেশটির কোয়ারেন্টাইন কর্মকর্তারা ভারতীয় আমের পোকা নিয়ন্ত্রণ ও জীবাণুমুক্তকরণ প্রক্রিয়ায় ত্রুটি পাওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে চলতি মৌসুমে ভারতের প্রিমিয়াম জাতের আম আলফোনসো, কেসর, ল্যাংড়া ও বাঙ্গানাপল্লিসহ বিভিন্ন আমের রপ্তানি বড় ধাক্কার মুখে পড়েছে।

জাপান কৃষিখাতে ক্ষতিকর পোকামাকড়, বিশেষ করে ফলমাছি (ফ্রুট ফ্লাই) ঠেকাতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে। দেশটির আশঙ্কা, এসব পোকা স্থানীয় কৃষি উৎপাদনের জন্য বড় হুমকি হতে পারে।

এর আগে ফলমাছির ঝুঁকির কারণে ভারতীয় আমের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল জাপান। পরে ভারত কঠোর মাননিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করলে ২০০৬ সালে সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়। তবে এবার আবারও ভারতীয় রপ্তানি ব্যবস্থার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে টোকিও।

প্রতি বছর আম রপ্তানি মৌসুম শুরুর আগে জাপানি কর্মকর্তারা ভারতের ভ্যাপার হিট ট্রিটমেন্ট (ভিএইচটি) কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করেন। এই প্রক্রিয়ায় রাসায়নিক ব্যবহার ছাড়াই নিয়ন্ত্রিত গরম ও আর্দ্র বাতাসের মাধ্যমে আমের ভেতরে থাকা পোকা ও লার্ভা ধ্বংস করা হয়। দুই দেশের মধ্যে আম রপ্তানির চুক্তি অনুযায়ী এই প্রক্রিয়া বাধ্যতামূলক।

চলতি বছরের মার্চে উত্তর প্রদেশের রেহমানপুরের একটি ভিএইচটি কেন্দ্রে পরিদর্শনে গিয়ে জাপানি কর্মকর্তারা হিট ট্রিটমেন্ট ও জীবাণুমুক্তকরণ পদ্ধতিতে ত্রুটি খুঁজে পান। যদিও ঠিক কী ধরনের কারিগরি সমস্যা ধরা পড়েছে, সে বিষয়ে ভারত বা জাপান কোনো পক্ষই বিস্তারিত প্রকাশ করেনি।

এরপর জাপানের ইয়োকোহামা প্ল্যান্ট প্রোটেকশন অ্যাসোসিয়েশন ঘোষণা দেয়, ২০২৬ সালের ২৫ মার্চের পর ইস্যু করা পরিদর্শন সনদযুক্ত ভারতীয় আমের চালান আর গ্রহণ করা হবে না।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় আম উৎপাদনকারী দেশ ভারত। দেশটিতে বছরে প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ মেট্রিক টন আম উৎপাদিত হয়। এর বেশির ভাগ দেশীয় বাজারে বিক্রি হলেও জাপানের মতো উচ্চমূল্যের বাজারে রপ্তানি থেকে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা বেশি লাভ পান।

রপ্তানিকারকদের আশঙ্কা, জাপানের এই সিদ্ধান্ত ভারতের কৃষিপণ্যের মাননিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ওপর আন্তর্জাতিক আস্থা কমিয়ে দিতে পারে। একই সঙ্গে অন্য আমদানিকারক দেশগুলোর মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
এদিকে মহারাষ্ট্রের আলফোনসো আমচাষিরা আগেই চরম আবহাওয়া ও এল নিনো প্রভাবজনিত অনিয়মিত জলবায়ুর কারণে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। সরকার সমর্থিত কয়েকটি জরিপে কিছু এলাকায় ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত ফলনহানির তথ্য উঠে এসেছে।

এ অবস্থায় উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি জাপানের আমদানি নিষেধাজ্ঞা ভারতীয় আম ব্যবসায়ীদের জন্য আরো বড় আর্থিক চাপ তৈরি করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্র: এনডিটিভি

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..