সর্বশেষ :
গণমাধ্যম স্বাধীনতা সূচকে ৩ ধাপ পেছাল বাংলাদেশ, শীর্ষে কোন দেশ? এবার নিজস্ব প্রযুক্তিতে শক্তিশালী ড্রোন বানাল নাইজেরিয়া বাড়ছে ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ সংঘাত, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতা চায় লেবানন ইরান যুদ্ধ : ২০২২ সালের পর তেলের সর্বোচ্চ দাম দেখছে এশিয়া ইরানকে টলাতে ‘মোয়িং দ্য গ্রাস’ কৌশল নেবে যুক্তরাষ্ট্র? রাশিয়ার ট্যাংককে বিশ্বসেরা ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের সাময়িকীর জার্মানিতে মার্কিন সেনা কমানোর পরিকল্পনা করছেন ট্রাম্প ‘তাইওয়ান স্বাধীনতা’ কী, দেশটি কি সত্যিই স্বাধীন রাষ্ট্র? যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইসরায়েলে একদিনে এলো ৬ হাজার ৫০০ টন সামরিক সরঞ্জাম জরিপের ফল উড়িয়ে মমতা বললেন, রেকর্ড জয়ের পথে তৃণমূল

শ্রমজীবীরাই দেশের প্রধান চালিকাশক্তি : প্রধানমন্ত্রী

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৪-৩০, | ২১:১৫:০২ |

‘আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস’ ও ‘মে দিবস’ উপলক্ষে দেশের শ্রমজীবী মানুষের প্রতি শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি শ্রমিকদের অধিকার, মর্যাদা ও কল্যাণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিকেলে এক বাণীতে তিনি শুভেচ্ছা জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস’ ও ‘মে দিবস’ বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে। এবারের প্রতিপাদ্য ‘সুস্থ শ্রমিক, কর্মঠ হাত, আসবে এবার নব প্রভাত’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দিবসটি উদযাপিত হচ্ছে।

তিনি দেশে-বিদেশে কর্মরত সকল শ্রমজীবী-কর্মজীবী মানুষের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান এবং বলেন, জীবিকা নির্বাহ ও দেশের উন্নয়নে অবদান রাখা প্রত্যেক শ্রমজীবী মানুষের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই।

প্রধানমন্ত্রী ১৮৮৬ সালের মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোর হে মার্কেটে ৮ ঘণ্টা কর্মদিবসসহ ন্যায্য অধিকার আদায়ের আন্দোলনে জীবনদানকারী শ্রমিকদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একইসঙ্গে বিশ্বজুড়ে শ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় যারা হতাহত হয়েছেন, তাদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান।

তিনি বলেন, শ্রমজীবী মানুষই একটি দেশের উন্নয়ন, সমৃদ্ধি ও অগ্রযাত্রার প্রধান চালিকাশক্তি। শ্রমিকের নিরলস পরিশ্রমেই শিল্প, কৃষি, অবকাঠামো ও অর্থনীতি গড়ে ওঠে। তাই শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন, ন্যায্য অধিকার নিশ্চিতকরণ, নিরাপদ কর্মপরিবেশ সৃষ্টি এবং সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা সরকারের অঙ্গীকার।

তিনি আরও বলেন, শ্রমবান্ধব নীতি, কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ এবং কল্যাণমূলক উদ্যোগের মাধ্যমে শ্রমজীবী মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন নিশ্চিত করা সম্ভব।

প্রধানমন্ত্রী শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অবদান স্মরণ করে বলেন, তিনি বিশ্বাস করতেন শ্রমিকের দুটো হাত রাষ্ট্র ও সমাজের সমৃদ্ধি এবং উন্নয়নের চাবিকাঠি। তাঁর উদ্যোগে বিদেশে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে শ্রমবাজার সৃষ্টি হয়, যা বর্তমানে দেশের অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি।

তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপি সরকার বিভিন্ন সময়ে শ্রম আইন সংস্কার ও আধুনিকীকরণ, মজুরি কমিশন গঠন, গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ, বোনাস প্রদান, শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন গঠন এবং শ্রমিকদের চিকিৎসা ও শিক্ষার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের ধারাবাহিকতায় শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার সমুন্নত রাখা এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার।

তিনি জানান, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) ৩৯টি কনভেনশন ও একটি প্রোটোকল অনুস্বাক্ষর করেছে এবং সংস্থাটির সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি আরও বলেন, শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে সরকার কাজ করছে এবং ঈদুল ফিতর উপলক্ষে শ্রমিকদের বেতন, বোনাস ও অন্যান্য সুবিধা সময়মতো পরিশোধ নিশ্চিত করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি নিয়মিত মজুরি পর্যালোচনার মাধ্যমে ন্যায্য মজুরি ও নারী-পুরুষ সমান মজুরি নিশ্চিত করার বিষয়েও সরকার বদ্ধপরিকর।

প্রধানমন্ত্রী প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন, যা তাদের অর্থনৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।

শেষে তিনি বলেন, শ্রমিকের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও কল্যাণ নিশ্চিত করা গেলে একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। তিনি মহান মে দিবস ও জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি দিবস উপলক্ষে গৃহীত সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..