✕

সর্বশেষ :
পশ্চিম তীরে জলপাই সংগ্রহে বাধা, আটক ফিলিস্তিনি নারীরা খুলনায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় কলেজছাত্র নিহত ইন্সপেক্টর পদে পদোন্নতি পেলেন ১৪৯ পুলিশ সদস্য হুতির হামলায় অস্থির সৌদি, একের পর এক ভুলের খেসারত দিচ্ছে রিয়াদ সৌরবিদ্যুতে ইউনিট প্রতি সাশ্রয় হবে ৫-৬ টাকা নতুন ঋণচুক্তির বিষয়ে আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে নিচ্ছে বাংলাদেশ চার বছরে তাপপ্রবাহে ইউরোপে ২ লাখের বেশি মৃত্যু, সতর্ক করল ডব্লিউএইচও বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হওয়ার পথে ইলন মাস্ক যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতে কোভিড আমলের ঝুঁকিতে বৈশ্বিক অর্থনীতি : বিশ্বব্যাংক সমুদ্রের তলদেশে বিশ্বের প্রথম বায়ুবিদ্যুৎচালিত ডেটাসেন্টার চালু করল চীন

কুরআনের সিজদার আয়াত পড়লে কেন সিজদা দিতে হয়?

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৪-৩০, | ১৩:৫৩:৫৩ |
কুরআন মাজিদ শুধুমাত্র একটি গ্রন্থ নয়; এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে মানবজাতির জন্য হিদায়াতের পূর্ণাঙ্গ দিকনির্দেশনা। কুরআনের কিছু আয়াত এমন আছে, যেগুলো পড়লে বা শুনলে একজন মুমিনের অন্তরে আল্লাহ্র প্রতি গভীর ভক্তি ও বিনয় জাগ্রত হয়। এই বিশেষ আয়াতগুলোকে বলা হয় সিজদার আয়াত। এসব আয়াতের তিলাওয়াতের পর সিজদা করা একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, যা আল্লাহর প্রতি আনুগত্য ও বিনয়ের প্রকাশ।

সিজদার আয়াত কী?
সিজদার আয়াত হলো কুরআনের এমন কিছু নির্দিষ্ট আয়াত, যেগুলোতে আল্লাহর মহিমা, তাঁর সামনে বিনয় প্রদর্শন, অথবা অবাধ্যদের সমালোচনা উল্লেখ করা হয়েছে। এই আয়াতগুলো পড়লে বা শুনলে মুসলমানদের জন্য সিজদা করা সুন্নত (অনেক আলেমের মতে ওয়াজিব)।

কেন সিজদা করতে হয়?

১. আল্লাহর আদেশের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ
এই আয়াতগুলোতে মূলত আল্লাহর সামনে সিজদা করার কথা উল্লেখ থাকে। তাই তা পড়ার সাথে সাথে সিজদা করা মানে আল্লাহর নির্দেশকে সঙ্গে সঙ্গে বাস্তবায়ন করা। আবার কিছু আয়াতে সরাসরি সিজদার নির্দেশ নেই, বরং আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের সিজদায় লুটিয়ে পড়ার ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন এসব আয়াত পড়তেন, তিনি তাদের অনুসরণে সিজদা করতেন। আমরাও নবীজির (সা.) এই আমল অনুসরণ করি।

২. বিনয় ও আত্মসমর্পণের প্রতীক
সিজদা হলো বান্দার সর্বোচ্চ বিনয়ের প্রকাশ। যখন একজন মুমিন সিজদায় যায়, তখন সে নিজের অহংকার ভেঙে আল্লাহর সামনে সম্পূর্ণভাবে নত হয়।

৩. ঈমানের গভীরতা প্রকাশ পায়
সিজদার আয়াত শুনে যারা সিজদা করে, তারা মূলত আল্লাহর বাণীর প্রতি আন্তরিক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রদর্শন করে। এটি ঈমানের একটি সুন্দর বহিঃপ্রকাশ।

৪. নবী (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণ
হজরত মুহাম্মদ (সা.) কুরআনের সিজদার আয়াত পড়লে সিজদা করতেন এবং সাহাবাগণও তা অনুসরণ করতেন। তাই এটি একটি প্রতিষ্ঠিত সুন্নাহ।

৫. গুনাহ মাফ ও সওয়াব লাভের সুযোগ
হাদিসে বর্ণিত আছে, যখন বান্দা সিজদার আয়াত পড়ে সিজদা করে, তখন শয়তান কাঁদতে থাকে এবং বলে— ‘হায়! মানুষকে সিজদার আদেশ দেওয়া হয়েছে, সে সিজদা করেছে, তাই তার জন্য জান্নাত; আর আমাকে আদেশ দেওয়া হয়েছিল, আমি অমান্য করেছি, তাই আমার জন্য জাহান্নাম।’

কুরআনের সিজদার আয়াত আমাদেরকে আল্লাহর প্রতি বিনয়ী হতে, তার সামনে মাথা নত করতে এবং তার নির্দেশ মেনে চলতে শিক্ষা দেয়। এটি কেবল একটি আমল নয়, বরং আমাদের ঈমানকে জীবন্ত করার একটি মাধ্যম। তাই যখনই আমরা সিজদার আয়াত তিলাওয়াত করি বা শুনি, তখন আন্তরিকতার সাথে সিজদা করে আল্লাহ্র নৈকট্য অর্জনের চেষ্টা করা উচিত।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..