সর্বশেষ :

অজ্ঞাত স্থানে থেকেই দেশ চালাচ্ছেন মোজতবা খামেনি

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৪-২৬, | ২১:০৬:০৬ |

অজ্ঞাত স্থানে থেকেই কৌশলে ইরানকে পরিচালনা করছেন মোজতবা খামেনি। নিউইয়র্ক টাইমসের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব নেন তিনি।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে একজন ইরানি কর্মকর্তার বরাতে বলা হয়েছে, নতুন এই নেতার কোনো ভিডিও বা অডিও রেকর্ড এখন পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়নি। তার সব নির্দেশনা শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে পাঠ করে শোনানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোজতবা ‘সচেতনভাবেই’ জনসমক্ষে আসছেন না; কারণ, প্রথম ভাষণেই তিনি বিশ্ববাসীর কাছে নিজেকে দুর্বল বা ভঙ্গুর হিসেবে উপস্থাপন করতে চান না।

মোজতবা খামেনির কাছে পাঠানো বার্তাগুলো হাতে লিখে খামে সিলগালা করে বিশ্বস্ত বার্তাবাহকদের একটি ‘চেইন’ বা শৃঙ্খলের মাধ্যমে আদান-প্রদান করা হয়। তারা মোটরসাইকেল বা গাড়িতে করে বিভিন্ন মহাসড়ক ও গ্রামের গোপন পথ ব্যবহার করে তার ‘গোপন অবস্থানস্থলে’ পৌঁছান।

সর্বোচ্চ নেতার নিরাপত্তায় এখন নজিরবিহীন কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। ইসরাইল যাতে অবস্থান শনাক্ত করে নতুন করে কোনো গুপ্তহত্যা চালাতে না পারে, সেজন্য ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) শীর্ষ কমান্ডার ও সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও এখন তার সঙ্গে সরাসরি দেখা করা থেকে বিরত থাকছেন। তাদের আশঙ্কা, কর্মকর্তাদের গতিবিধি অনুসরণ করে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল মোজতবার অবস্থান জেনে যেতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অত্যাধুনিক ট্র্যাকিং বা নজরদারি ব্যবস্থা এড়াতে এক মান্ধাতা আমলের কিন্তু সুরক্ষিত যোগাযোগপদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে। নিউইয়র্ক টাইমসকে ওই কর্মকর্তা আরও জানান, ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় মোজতবা খামেনি ‘মারাত্মকভাবে’ আহত হলেও মানসিকভাবে তিনি পুরোপুরি সুস্থ ও সক্রিয় আছেন। তবে হামলায় তার মুখমণ্ডল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ‘প্লাস্টিক সার্জারি’র প্রয়োজন হয়েছে।

প্রতিবেদনে মোজতবার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়ে বলা হয়েছে, তার এক পায়ে ইতিমধ্যে তিনটি অস্ত্রোপচার করা হয়েছে এবং তিনি কৃত্রিম পা লাগানোর অপেক্ষায় আছেন। তার একটি হাত ধীরে ধীরে সচল হচ্ছে। তবে মুখ ও ঠোঁটে আঘাতের কারণে কথা বলতে বেশ সমস্যা হচ্ছে।

মোজতবা খামেনির চিকিৎসার বিষয়টি খোদ প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান (যিনি নিজেও একজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ) ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরাসরি তত্ত্বাবধান করছেন। একটি অজ্ঞাত স্থানে সার্বক্ষণিক চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী পরিবেষ্টিত অবস্থায় আছেন তিনি।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..