✕

সর্বশেষ :
পশ্চিম তীরে জলপাই সংগ্রহে বাধা, আটক ফিলিস্তিনি নারীরা খুলনায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় কলেজছাত্র নিহত ইন্সপেক্টর পদে পদোন্নতি পেলেন ১৪৯ পুলিশ সদস্য হুতির হামলায় অস্থির সৌদি, একের পর এক ভুলের খেসারত দিচ্ছে রিয়াদ সৌরবিদ্যুতে ইউনিট প্রতি সাশ্রয় হবে ৫-৬ টাকা নতুন ঋণচুক্তির বিষয়ে আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে নিচ্ছে বাংলাদেশ চার বছরে তাপপ্রবাহে ইউরোপে ২ লাখের বেশি মৃত্যু, সতর্ক করল ডব্লিউএইচও বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হওয়ার পথে ইলন মাস্ক যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতে কোভিড আমলের ঝুঁকিতে বৈশ্বিক অর্থনীতি : বিশ্বব্যাংক সমুদ্রের তলদেশে বিশ্বের প্রথম বায়ুবিদ্যুৎচালিত ডেটাসেন্টার চালু করল চীন

কোরআনের কথা: মহাবিশ্বের প্রতিটি ধূলিকণায় যে রহস্য বিদ্যমান

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৪-১৬, | ১৮:২৩:২১ |
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি জগৎসমূহের প্রতিপালক।(সুরা ফাতিহা,আয়াত:০১)

মহাবিশ্বের প্রতিটি ধূলিকণা থেকে শুরু করে বিশাল গ্যালাক্সি–সবকিছুর অন্তরালে এক মহান সত্তার নিপুণ কারুকার্য বিদ্যমান। পবিত্র কোরআনের শুরুর এই দুটি শব্দ ‘আলহামদুলিল্লাহ’ এবং ‘রাব্বুল আলামিন’-এর গভীরে নিহিত রয়েছে একত্ববাদ ও সৃষ্টিজগতের বিশালত্বের বিস্ময়কর সব রহস্য।

আমরা যখন কোনো সুন্দর ছবি বা যন্ত্রের প্রশংসা করি, পরোক্ষভাবে সেই প্রশংসা কিন্তু শিল্পী বা নির্মাতারই প্রাপ্য। ঠিক তেমনি পৃথিবীর প্রতিটি মনোরম দৃশ্য, উপকারী বস্তু বা মনোমুগ্ধকর সৃষ্টির সৌন্দর্য আসলে তার মহান স্রষ্টারই শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করে। আলহামদুলিল্লাহ বলার মাধ্যমে একজন মানুষ স্বীকার করে নেয় যে, দৃশ্যমান সবকিছুর প্রকৃত মালিক ও প্রশংসার দাবিদার একমাত্র আল্লাহ। এটি মানুষের সংকীর্ণ দৃষ্টিকে প্রসারিত করে যাবতীয় সৃষ্টিপূজা রহিত করে এবং তাওহিদ বা একত্ববাদের অকাট্য প্রমাণ পেশ করে।

‘রব্বুন’ শব্দের আভিধানিক অর্থ কেবল পালনকর্তাই নয়; বরং এমন এক সত্তা, যিনি কোনো বস্তুকে তার মঙ্গলামঙ্গলের দিকে খেয়াল রেখে পর্যায়ক্রমে উন্নতির চূড়ান্ত শিখরে পৌঁছে দেন। এই গুণটি কেবল আল্লাহর জন্যই নির্দিষ্ট। কারণ প্রতিটি সৃষ্টি নিজেই অন্যের ওপর নির্ভরশীল। তাই পূর্ণাঙ্গ প্রতিপালনের দায়িত্ব কেবল অমুখাপেক্ষী আল্লাহর পক্ষেই সম্ভব।

‘আল-আলামিন’ শব্দটি দ্বারা দৃশ্য-অদৃশ্য যাবতীয় জগৎকে বোঝানো হয়েছে। আজ থেকে প্রায় সাত শ বছর আগে ইমাম রাজি (রহ.) তার তাফসিরে লিখেছিলেন যে, এই সৌরজগতের বাইরেও অসংখ্য জগৎ থাকা সম্ভব। আধুনিক বিজ্ঞান ও মহাকাশ গবেষণা আজ সেই তথ্যেরই প্রতিধ্বনি করছে।

অনেকে প্রশ্ন করেন, বায়ুশূন্য মহাশূন্যে অন্য প্রাণী কীভাবে বাঁচবে? ইমাম রাজি অত্যন্ত যৌক্তিকভাবে বলেছিলেন যে, ভিন্ন জগতের প্রাণীদের প্রকৃতি ও জীবনধারণের পদ্ধতি আমাদের মতো হতে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তাদের আহার, অভ্যাস ও বেঁচে থাকার ধরন সম্পূর্ণ আলাদা হতে পারে। বর্তমানের মহাকাশচারী ও বিজ্ঞানীরাও মহাবিশ্বের সীমাহীনতা ও ভিন্ন জগতের অস্তিত্ব সম্পর্কে একই ধরনের ধারণা পোষণ করছেন।

পরিশেষে বলা যায়, সামান্য এই বাক্যগুলোর মধ্যে আল্লাহতায়ালা একদিকে যেমন নিজের প্রশংসা ও একত্ববাদ শিক্ষা দিয়েছেন, অন্যদিকে মানুষের চিন্তাজগৎকে মহাবিশ্বের অসীম রহস্য সন্ধানে উদ্বুদ্ধ করেছেন। এই বিশ্বাসই একজন মুমিনের ঈমানকে করে তোলে আরও সুদৃঢ় ও বিজ্ঞানমনস্ক।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..