✕

সর্বশেষ :
পশ্চিম তীরে জলপাই সংগ্রহে বাধা, আটক ফিলিস্তিনি নারীরা খুলনায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় কলেজছাত্র নিহত ইন্সপেক্টর পদে পদোন্নতি পেলেন ১৪৯ পুলিশ সদস্য হুতির হামলায় অস্থির সৌদি, একের পর এক ভুলের খেসারত দিচ্ছে রিয়াদ সৌরবিদ্যুতে ইউনিট প্রতি সাশ্রয় হবে ৫-৬ টাকা নতুন ঋণচুক্তির বিষয়ে আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে নিচ্ছে বাংলাদেশ চার বছরে তাপপ্রবাহে ইউরোপে ২ লাখের বেশি মৃত্যু, সতর্ক করল ডব্লিউএইচও বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হওয়ার পথে ইলন মাস্ক যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতে কোভিড আমলের ঝুঁকিতে বৈশ্বিক অর্থনীতি : বিশ্বব্যাংক সমুদ্রের তলদেশে বিশ্বের প্রথম বায়ুবিদ্যুৎচালিত ডেটাসেন্টার চালু করল চীন

বাজারে আসার আগেই বিদায় নিল সনি-হোন্ডার ‘আফিলা’

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৪-০৫, | ১৮:১৪:১৮ |

প্রযুক্তি ও অটোমোবাইল বিশ্বের বহুল আলোচিত ‘আফিলা ১’ বৈদ্যুতিক গাড়ি শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখছে না। জাপানি ইলেকট্রনিকস জায়ান্ট সনি ও গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হোন্ডার যৌথ উদ্যোগে তৈরি এই গাড়ি ‘প্লেস্টেশন কার’ নামে পরিচিত ছিল। ব্যক্তিগত যাতায়াত ও ডিজিটাল বিনোদনের এক অনন্য সমন্বয় হওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘ ছয় বছরের অপেক্ষা শেষে প্রকল্পটি আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

২০২০ সালের কনজ্যুমার ইলেকট্রনিক শোতে (সিইএস) ‘সনি ভিশন এস’ নামে প্রথম এই গাড়ির ধারণা প্রকাশ করা হয়। টিভি ও গেমিং কনসোলের জন্য বিখ্যাত সনি যখন গাড়ি তৈরির ঘোষণা দেয়, তখন বিশ্বজুড়ে ব্যাপক শোরগোল পড়েছিল। কিন্তু প্রোটোটাইপ থেকে উৎপাদনে যেতে তারা দীর্ঘ ছয় বছর সময় নিয়ে নেয়। ২০২৫ সালে যখন গাড়িটির দাম ১ লাখ ডলার এবং রেঞ্জ ৩০০ মাইল ঘোষণা করা হয়, তখন বাজার এর চেয়ে উন্নত ও সাশ্রয়ী গাড়িতে সয়লাব। লুসিড এয়ারের মতো গাড়িগুলো ইতোমধ্যে কম দামে ৪০০ মাইল রেঞ্জ দিচ্ছিল। ফলে বাজারে আসার আগে আফিলা ১ প্রযুক্তির দৌড়ে পিছিয়ে পড়ে।

২০২০ সালে বিশ্ব যখন বৈদ্যুতিক গাড়ির (ইভি) জোয়ারে ভাসছিল, ২০২৬ সালে এসে সেই পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ইভি এখন রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে। সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং ট্যারিফ জটিলতার কারণে ইভি বাজার এখন চরম অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। যেখানে একসময় বৈদ্যুতিক গাড়িকে ভবিষ্যৎ মনে করা হতো, এখন তা অনেক গ্রাহকের কাছে ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আফিলা-১-এর অন্যতম আকর্ষণ ছিল এর ভেতরে বসে ভিডিও গেম খেলা বা সিনেমা দেখার সুবিধা। ধারণা করা হয়েছিল, ২০২৬ সালের মধ্যে গাড়িগুলো সম্পূর্ণ চালকবিহীন হয়ে যাবে। কিন্তু বাস্তবে এখনো চালককে স্টিয়ারিং ধরতে হয়। ফলে গাড়ির ভেতরে বিশাল স্ক্রিনে গেম খেলার সুবিধাটি তার গুরুত্ব হারায়। ১ লাখ ডলার খরচ করে কেউ কেবল সন্তানদের বিনোদনের জন্য এই গাড়ি কিনতে আগ্রহী না হওয়া স্বাভাবিক।

প্রকল্পটি বন্ধ হওয়ার চূড়ান্ত কারণ হোন্ডার অনীহা। হোন্ডা তাদের নিজস্ব সাশ্রয়ী ‘জিরো সিরিজ’ ইভি প্রকল্প বাতিল করার পর আফিলার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। সনি ও হোন্ডার যৌথ বিবৃতি অনুযায়ী, তারা ব্যবসার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাবে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, প্লেস্টেশন কারের স্বপ্নটি আপাতত এখানেই শেষ। নতুন ব্র্যান্ড হিসেবে ভিন্ন কিছু করার চেষ্টা থাকলেও সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে না পারা আফিলার পতনের মূল কারণ।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..