✕

সর্বশেষ :
পশ্চিম তীরে জলপাই সংগ্রহে বাধা, আটক ফিলিস্তিনি নারীরা খুলনায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় কলেজছাত্র নিহত ইন্সপেক্টর পদে পদোন্নতি পেলেন ১৪৯ পুলিশ সদস্য হুতির হামলায় অস্থির সৌদি, একের পর এক ভুলের খেসারত দিচ্ছে রিয়াদ সৌরবিদ্যুতে ইউনিট প্রতি সাশ্রয় হবে ৫-৬ টাকা নতুন ঋণচুক্তির বিষয়ে আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে নিচ্ছে বাংলাদেশ চার বছরে তাপপ্রবাহে ইউরোপে ২ লাখের বেশি মৃত্যু, সতর্ক করল ডব্লিউএইচও বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হওয়ার পথে ইলন মাস্ক যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতে কোভিড আমলের ঝুঁকিতে বৈশ্বিক অর্থনীতি : বিশ্বব্যাংক সমুদ্রের তলদেশে বিশ্বের প্রথম বায়ুবিদ্যুৎচালিত ডেটাসেন্টার চালু করল চীন

কার্বন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্যমাত্রায় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে এআই

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৩-৩০, | ১৫:৩৯:১৪ |
গত কয়েক বছরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির অভাবনীয় প্রসারে বিশ্বজুড়ে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিবেশবান্ধব হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা বড় ধরনের বাধার মুখে পড়েছে।

গুগল ও মাইক্রোসফটের মতো কোম্পানিগুলো ২০৩০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা এখন কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে এপি।


এআই পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় বিশাল ডেটা সেন্টারগুলোর বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে গিয়ে এসব প্রতিষ্ঠান ফের কয়লা ও প্রাকৃতিক গ্যাসের মতো জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে।

ছয় বছর আগে গুগল ঘোষণা দিয়েছিল, ২০৩০ সালের মধ্যে তারা সব কার্যক্রম বাতাস ও সৌরশক্তির মতো পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ দিয়ে পরিচালনা করবে। কিন্তু বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি এ লক্ষ্যকে একটি অত্যন্ত কঠিন কাজ বা ‘মুনশট’ হিসেবে অভিহিত করছে। একইভাবে মাইক্রোসফট ২০৩০ সালের মধ্যে উৎপাদিত কার্বনের চেয়ে বেশি অপসারণের লক্ষ্য ঠিক রাখলেও এখন বিষয়টিকে ‘ম্যারাথন’ হিসেবে বর্ণনা করছে। প্রযুক্তি খাতের এ পরিবর্তনের ফলে বোঝা যাচ্ছে যে এআইয়ের দৌড়ে এগিয়ে থাকার প্রতিযোগিতার কাছে পরিবেশ রক্ষার অঙ্গীকার কিছুটা ম্লান হয়ে যাচ্ছে।

এ সংকটের মূল কারণ হলো বিশাল সব ডেটা সেন্টার স্থাপন। এআই মডেলগুলো প্রশিক্ষণ দিতে এবং সচল রাখতে যে শক্তিশালী কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়, সেগুলোর জন্য প্রচুর বিদ্যুতের প্রয়োজন। অনেক ক্ষেত্রে একটি ডেটা সেন্টার কমপ্লেক্স পরিচালনা করতে একটি আস্ত শহরের চেয়েও বেশি বিদ্যুৎ লাগে। এ বিশাল চাহিদা দ্রুত মেটাতে গিয়ে টেক কোম্পানিগুলো প্রাকৃতিক গ্যাসের দিকে ঝুঁকছে। পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদিও প্রাকৃতিক গ্যাসকে কয়লার চেয়ে কিছুটা পরিচ্ছন্ন বলা হয়, তবে এর মূল উপাদান মিথেন গ্যাস জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।

পরিবেশবিষয়ক বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, জ্বালানির এ বাড়তি চাহিদার নেতিবাচক প্রভাব এরই মধ্যে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে রেকর্ড পরিমাণ নবায়নযোগ্য জ্বালানি কেনা সত্ত্বেও বড় কোম্পানিগুলোর মোট কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। পাঁচ বছরে গুগলের কার্বন নিঃসরণ বেড়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ। একই সময়ে আমাজনের ৩৩ শতাংশ, মাইক্রোসফটের ২৩ এবং মেটার নিঃসরণ ৬০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের প্রায় ৪ দশমিক ৬ শতাংশ ২০২৪ সালে শুধু ডেটা সেন্টারগুলোয় ব্যবহার হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ২০২৮ সালের মধ্যে এ হার তিন গুণ হতে পারে। এআই-চালিত এ ডেটা সেন্টারগুলোর কারণেই আগামী এক দশকে বিদ্যুতের ব্যবহার ২০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পের ধীরগতি এবং সরকারি নীতিমালার পরিবর্তনও এ সমস্যাকে আরো জটিল করে তুলছে।

এমন পরিস্থিতিতে মাইক্রোসফট পারমাণবিক ও জলবিদ্যুৎ এবং গুগল ব্যাটারি স্টোরেজ ও উন্নত পারমাণবিক প্রযুক্তির সন্ধানে বিনিয়োগ করছে। তবে বর্তমানের তাৎক্ষণিক চাহিদা মেটাতে জীবাশ্ম জ্বালানির কোনো বিকল্প তারা পাচ্ছে না। যেমন উইসকনসিন ও লুইজিয়ানার মতো অঞ্চলে নতুন প্রাকৃতিক গ্যাস প্লান্ট তৈরি করা হচ্ছে শুধু ডেটা সেন্টারগুলোকে বিদ্যুৎ দেয়ার জন্য। পরিবেশবাদীরা সতর্ক করে বলছেন, নতুন করে এ অবকাঠামো নির্মাণের ফলে আগামী কয়েক দশক ধরে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা বজায় থাকবে, যা পরিবেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি তৈরি করবে।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..