✕

সর্বশেষ :
পশ্চিম তীরে জলপাই সংগ্রহে বাধা, আটক ফিলিস্তিনি নারীরা খুলনায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় কলেজছাত্র নিহত ইন্সপেক্টর পদে পদোন্নতি পেলেন ১৪৯ পুলিশ সদস্য হুতির হামলায় অস্থির সৌদি, একের পর এক ভুলের খেসারত দিচ্ছে রিয়াদ সৌরবিদ্যুতে ইউনিট প্রতি সাশ্রয় হবে ৫-৬ টাকা নতুন ঋণচুক্তির বিষয়ে আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে নিচ্ছে বাংলাদেশ চার বছরে তাপপ্রবাহে ইউরোপে ২ লাখের বেশি মৃত্যু, সতর্ক করল ডব্লিউএইচও বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হওয়ার পথে ইলন মাস্ক যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতে কোভিড আমলের ঝুঁকিতে বৈশ্বিক অর্থনীতি : বিশ্বব্যাংক সমুদ্রের তলদেশে বিশ্বের প্রথম বায়ুবিদ্যুৎচালিত ডেটাসেন্টার চালু করল চীন

বান্দরবান

পর্যটননির্ভর জেলায় তেল সংকট, ভোগান্তিতে পর্যটক

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৩-২৫, | ১৩:০৬:৩৯ |
পর্যটননির্ভর জেলা বান্দরবানে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ঘুরতে আসা পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। 

পর্যটনসংশ্লিষ্টরা জানান, জেলার ফিলিং স্টেশনগুলোতে দিনে মাত্র একবার, তাও সন্ধ্যার দিকে সীমিত পরিমাণে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। দিনের বেলায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফিলিং স্টেশনগুলোতে সারিতে দাঁড়িয়েও তেল পাচ্ছেন না সাধারণ মানুষ ও পর্যটকরা।


ঈদের টানা ছুটিতে পর্যটকের চাপের মধ্যে জেলায় জ্বালানি তেলের এই সংকটে জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।  
জানা গেছে, জ্বালানি সংকটের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাতে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বুলবুল আক্তার সেতুর নেতৃত্বে প্রশাসনের একটি দল শহরের উঝমা ওয়েল ফিলিং স্টেশনে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় যেন কেউ অতিরিক্ত তেল নিতে না পারে, সেজন্য কঠোর নজরদারি করা হয়। পাশাপাশি অনেক যানবাহনের কাগজপত্রও যাচাই করা হয়।


প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সীমিত তেলের মধ্যে যাতে ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত করা যায় সেই লক্ষে  অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় জেলার অধিকাংশ ফিলিং স্টেশন বন্ধ রয়েছে। কোথাও কোথাও সীমিত আকারে তেল বিক্রি করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। ফলে ব্যক্তিগত গাড়ি, পর্যটকবাহী জিপ ও সিএনজিচালিত যানবাহনগুলো পড়েছে চরম সংকটে।


ফিলিং স্টেশনগুলোতে দেখা গেছে, দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে রয়েছেন গাড়িচালকরা। তার পরও তেল না পেয়ে অনেকেই খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। এতে পর্যটনকেন্দ্রে যানবাহনের সংখ্যা কমে গেছে। 

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ঈদের ছুটিতে বান্দরবানে ঘুরতে আসা পর্যটকরা তেল সংকটে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী নীলগিরি, নীলাচল, মেঘলা, স্বর্ণমন্দির, থানচি, রুমা, বগালেক বা সাজেকমুখী ভ্রমণ পরিকল্পনা থাকলেও অনেকেই নির্ধারিত গন্তব্যে যেতে পারছে না।


ঢাকা থেকে আসা মো. মাসুম নামের এক পর্যটক বলেন, পরিবার নিয়ে বান্দরবানে ঘুরতে এসেছি। কিন্তু গাড়িতে তেল না পাওয়ায় হোটেলেই আটকে আছি। পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘোরাঘুরি করা সম্ভব হচ্ছে না।

আরেক মো. ইমনুল পর্যটক বলেন, ঈদের ছুটিতে প্রকৃতি উপভোগ করতে এসেছিলাম। কিন্তু তেল সংকটের কারণে পুরো ভ্রমণটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

শুধু পর্যটকরাই নয়, জ্বালানি সংকটে বিপাকে পড়েছেন   স্থানীয় পরিবহন চালকরাও। তেল না থাকায় অনেক চালক গাড়ি বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে জেলার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগও ব্যাহত হচ্ছে।

মো. আলী হোসেন নামের স্থানীয় এক গাড়িচালক বলেন, পর্যটন মৌসুমে সাধারণত ভালো আয় হয়। কিন্তু এখন তেল না থাকায় গাড়ি চালাতে পারছি না। এতে পরিবার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

বান্দরবান হোটেল-রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, বান্দরবান একটি পর্যটননির্ভর জেলা। ফলে এখানে জ্বালানি সংকট হলে তা সরাসরি প্রভাব ফেলে স্থানীয় অর্থনীতিতে। তিনি তেলের সংকটে জেলায় পর্যটক কমে যাচ্ছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন হোটেল ও রিসোর্ট ব্যবসায়ী, স্থানীয় গাইড, গাড়িচালক, রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী ও পর্যটননির্ভর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। ঈদের ছুটির মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এই সংকট স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা।

শহরের উঝমা ওয়েল ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো.  মিন্টুসহ  পর্যটক ও পরিবহন চালকদের একটাই দাবি, দ্রুত জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক করা হোক। অন্যথায় পর্যটন মৌসুমে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে বান্দরবানের পর্যটন শিল্প।

বান্দরবানের জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি বলেন,  পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..