✕

সর্বশেষ :
পশ্চিম তীরে জলপাই সংগ্রহে বাধা, আটক ফিলিস্তিনি নারীরা খুলনায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় কলেজছাত্র নিহত ইন্সপেক্টর পদে পদোন্নতি পেলেন ১৪৯ পুলিশ সদস্য হুতির হামলায় অস্থির সৌদি, একের পর এক ভুলের খেসারত দিচ্ছে রিয়াদ সৌরবিদ্যুতে ইউনিট প্রতি সাশ্রয় হবে ৫-৬ টাকা নতুন ঋণচুক্তির বিষয়ে আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে নিচ্ছে বাংলাদেশ চার বছরে তাপপ্রবাহে ইউরোপে ২ লাখের বেশি মৃত্যু, সতর্ক করল ডব্লিউএইচও বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হওয়ার পথে ইলন মাস্ক যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতে কোভিড আমলের ঝুঁকিতে বৈশ্বিক অর্থনীতি : বিশ্বব্যাংক সমুদ্রের তলদেশে বিশ্বের প্রথম বায়ুবিদ্যুৎচালিত ডেটাসেন্টার চালু করল চীন

কার সামরিক শক্তি কেমন: পাকিস্তান বনাম আফগানিস্তান

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০২-২৮, | ১৪:০৯:২২ |
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী সীমান্ত সংঘাত সম্প্রতি এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। ডুরান্ড লাইনের বিভিন্ন এলাকায় দুই দেশের সেনাবাহিনী ভারী অস্ত্রশস্ত্র ও সাঁজোয়া বহর নিয়ে সরাসরি যুদ্ধে লিপ্ত হওয়ার পর আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে—সামরিক শক্তির বিচারে কার অবস্থান কেমন? পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মহম্মদ আসিফ এরই মধ্যে এই অভিযানকে তালেবানের বিরুদ্ধে ‘পূর্ণ যুদ্ধ’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন এবং প্রধানমন্ত্রী দাবি করেছেন যে তাদের বাহিনী তালেবানকে গুঁড়িয়ে দিতে সক্ষম। এই প্রেক্ষাপটে দুই প্রতিবেশী দেশের সামরিক সক্ষমতা ও অস্ত্রভান্ডারের একটি তুলনামূলক চিত্র সামনে এসেছে।

লন্ডনভিত্তিক সংস্থা ‘ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ’ (আইআইএসএস)-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সামরিক শক্তি ও আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রের দিক থেকে পাকিস্তানের তুলনায় আফগানিস্তান অনেক বেশি দুর্বল। পাকিস্তানের সেনাবাহিনী তাদের প্রধান প্রতিরক্ষা অংশীদার চীনের আধুনিক সরঞ্জামে সজ্জিত। দেশটি নিয়মিতভাবে তাদের নৌ ও বিমানবাহিনীকে আধুনিকায়ন করছে এবং পারমাণবিক কর্মসূচিতে বিশাল বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছে।

অন্যদিকে, তালেবান শাসিত আফগানিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীর অবস্থা ক্রমশ অবনতির দিকে যাচ্ছে। ২০২১ সালে ক্ষমতা দখলের সময় তারা যেসব বিদেশি সরঞ্জাম জব্দ করেছিল, কারিগরি সক্ষমতার অভাবে

সেগুলো তারা সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারছে না। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি না থাকাও তাদের সামরিক আধুনিকায়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কার সামরিক শক্তি কেমন

দুই দেশের সৈন্য সংখ্যার দিকে তাকালে দেখা যায় এক বিশাল ব্যবধান। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বাহিনীতে বর্তমানে ৬ লাখ ৬০ হাজার সক্রিয় সদস্য রয়েছে। এর মধ্যে সেনাবাহিনীতে ৫ লাখ ৬০ হাজার, বিমান বাহিনীতে ৭০ হাজার এবং নৌ বাহিনীতে ৩০ হাজার সদস্য কাজ করছেন। এর বিপরীতে আফগান তালেবান বাহিনীর সক্রিয় সেনা সদস্য সংখ্যা মাত্র ১ লাখ ৭২ হাজার, যা তারা ভবিষ্যতে ২ লাখে উন্নীত করার পরিকল্পনা করেছে।

স্থলভাগের যুদ্ধযানের ক্ষেত্রেও পাকিস্তান অনেক শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। দেশটির হাতে ৬ হাজারেরও বেশি সাঁজোয়া যুদ্ধযান এবং ৪ হাজার ৬০০-র বেশি কামান রয়েছে। অন্যদিকে তালেবানের কাছে কিছু সাঁজোয়া যান, সোভিয়েত আমলের ট্যাঙ্ক এবং সাঁজোয়া পার্সোনেল ক্যারিয়ার থাকলেও সেগুলোর সঠিক সংখ্যা বা কার্যকারিতা সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। একইভাবে তাদের কামানের সঠিক সংখ্যাও অজানা।

সবচেয়ে বড় পার্থক্য পরিলক্ষিত হয় আকাশপথে। পাকিস্তানের বিমানবহরে ৪৬৫টি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান এবং ২৬০টিরও বেশি হেলিকপ্টার রয়েছে। বিপরীতে আফগানিস্তানের কোনো কার্যকর বিমানবাহিনী নেই। তাদের কাছে থাকা মাত্র ৬টি বিমানের কয়েকটি সোভিয়েত আমলের এবং ২৩টি হেলিকপ্টারের মধ্যে কটি উড্ডয়নযোগ্য তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ছাড়া পাকিস্তান ১৭০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড সমৃদ্ধ একটি পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হলেও আফগানিস্তানের এমন কোনো অস্ত্রভান্ডার নেই। সব মিলিয়ে যুদ্ধের ময়দানে আফগানিস্তানের তুলনায় পাকিস্তান অনেক বেশি সুসংহত ও শক্তিশালী।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..