✕

সর্বশেষ :
পশ্চিম তীরে জলপাই সংগ্রহে বাধা, আটক ফিলিস্তিনি নারীরা খুলনায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় কলেজছাত্র নিহত ইন্সপেক্টর পদে পদোন্নতি পেলেন ১৪৯ পুলিশ সদস্য হুতির হামলায় অস্থির সৌদি, একের পর এক ভুলের খেসারত দিচ্ছে রিয়াদ সৌরবিদ্যুতে ইউনিট প্রতি সাশ্রয় হবে ৫-৬ টাকা নতুন ঋণচুক্তির বিষয়ে আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে নিচ্ছে বাংলাদেশ চার বছরে তাপপ্রবাহে ইউরোপে ২ লাখের বেশি মৃত্যু, সতর্ক করল ডব্লিউএইচও বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হওয়ার পথে ইলন মাস্ক যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতে কোভিড আমলের ঝুঁকিতে বৈশ্বিক অর্থনীতি : বিশ্বব্যাংক সমুদ্রের তলদেশে বিশ্বের প্রথম বায়ুবিদ্যুৎচালিত ডেটাসেন্টার চালু করল চীন

১১ দলের বিক্ষোভ-সমাবেশ

সংখ্যাগরিষ্ঠ জনরায় অমান্য করা হলে পরিণতি হবে ফ্যাসিবাদের মতোই

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০২-১৬, | ১৮:৪৪:২৫ |
ফ্যাসিবাদের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে যদি জনরায় অমান্য করা হয় তাহলে তাদের ফ্যাসিবাদের পরিণতি বরণ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরোয়ার।

সারা দেশে জাতীয় নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা, নির্যাতন, নিপীড়ন, হত্যা, ধর্ষণের প্রতিবাদে ১১ দলীয় ঐক্যের আয়োজনে বিক্ষোভ মিছিলোত্তর সমাবেশে একথা বলেন তিনি।

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সাড়ে ৪টায় রাজধানীর বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে এ বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে অংশ নেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় ঐক্য জোটের নেতৃবৃন্দ।

বিক্ষোভ সমাবেশে জামায়াত সেক্রেটারি মিয়া গোলাম পরোয়ার বলেন, বাংলাদেশের মানুষ যে স্বপ্ন দেখেছিল তা নির্বাচনের ম্যানিপুলেশন, অনিয়ম ও পরবর্তী সহিংসতা শেষ করে দিয়েছে। ফলাফল ঘোষণায় যে অনিয়ম হয়েছে নির্বাচন কমিশনকে সেখানে কোনো টালবাহানা ছাড়াই তদন্ত করতে হবে। অনিয়মের নির্বাচনে জিতে হামলা ধর্ষণ আমাদের আবার ফ্যাসিবাদের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, গণভোটে না ভোট ও ধানের শীষের ভোট সমান হয়েছে অনেক কেন্দ্রে। তারা (বিএনপি) না ভোটের ক্যাম্পেইন করেছে। নির্বাচনের পর পেইড বুদ্ধিজীবীরা বলছে সরকার মানতে বাধ্য নয়।

মিয়া গোলাম পরোয়ার বলেন, ফ্যাসিবাদের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে যদি জনরায় অমান্য করা হয় তাহলে তাদের ফ্যাসিবাদের পরিণতি বরণ করতে হবে।

তিনি বলেন, শহীদ ওসমান হাদির বিচার শেষ করতে হবে। জুলাই আন্দোলনের হত্যাকাণ্ডের বিচার করতে হবে। নতুন রাষ্ট্র গঠনের সনদ মেনে নিতে হবে। একচুল পরিবর্তন জনগণ মেনে নিবে না।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, বিতর্কিত নির্বাচনের পর এই প্রতিবাদ সমাবেশ। আমরা আশা করেছিলাম জনগণ ব্যালটের অধিকার ফিরে পাবে। কিন্তু জনগণের সঙ্গে নির্মম তামাশা করা হয়েছে। সারাদিন শান্তিপূর্ণ ভোটের পর টার্গেটকৃত প্রার্থীদের সংসদে যাওয়া ঠেকাতে ডিপস্টেট ইঞ্জিনিয়ারিং করেছে।

তিনি বলেন, এই নির্বাচনের পর সারা দেশে পৈশাচিকতা হয়েছে। নারীদের ধর্ষণ, নিপীড়ন, বাড়িঘর জ্বালানোর মাধ্যমে ফ্যাসিবাদ ফেরানোর চেষ্টা চলছে। কিন্তু জনগণ ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধ করবে। যারা ফ্যাসিবাদের পথ তৈরি করবে তারাই সে পথে দিল্লিতে পালাবে।

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, সংসদে যাওয়ার আগেই আমাদের রাজপথে নামতে হবে এটা ভাবি নাই। জনগণের ওপর বিশেষ করে নারী সমাজের ওপর যে হামলা নিপীড়ন হচ্ছে তা জঘন্য অপরাধ। সংসদে ও সংসদের বাইরে ১১ দল একসঙ্গে লড়াই করে যাবে।

ঢাকা-১২ আসন থেকে নির্বাচিত ও জামায়াতের নির্বাহী পরিষদের সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, আমাদের প্রত্যাশা ছিল সুষ্ঠু নির্বাচন। কিন্তু সেটি হয়নি। এরপর আবার শুরু হয়েছে হামলা।

কর্নেল অলি আহমেদের ছেলে ও এলডিপি নেতা ওমর ফারুক বলেন, এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ওপর আস্থা রেখে আমরা ভুল করেছি। আওয়ামী ফ্যাসিবাদের মানুষদের নিয়েই এই নির্বাচন হয়েছিল। হাদির খুনিদের পালানোর পরেই আমাদের সাবধান হওয়া দরকার ছিল। ১১ দল উদারতা দেখিয়ে ভুল করেছে। এরপরেও বাংলাদেশের ৫০ শতাংশ মানুষ ইনসাফের পক্ষে রায় দিয়েছে। আমাদের সতর্ক থাকতে হবে যেন তারা ফ্যাসিস্ট পুনর্বাসন করতে না পারে।

এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, আজকের টিআইবি রিপোর্টে স্পষ্ট কীভাবে সর্বস্তরে ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে। এই নির্বাচনের মাধ্যমে তাদের মধ্যে কলঙ্ক লেগেছে। অতিদ্রুত তদন্ত করে এই কলঙ্ক মোচন করুন।

বাংলাদেশ লেবার পার্টির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, তারেক রহমানের প্ল্যান ছিল ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং। দেশে এসেই তার প্ল্যান বাস্তবায়ন করেছে। তারপর শুরু হয়েছে সারা দেশে হামলা নিপীড়ন।

জাগপার সহসভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান বলেন, ২০২৪ সালের ডামি ভোটের পর ২০২৬ সালে হয়েছে ম্যানেজ ভোট। পুলিশকে, প্রশাসনকে, কমিশনকে ম্যানেজ করে ভোট ম্যানিপুলেশন করা হয়েছে। ভোটের পরেই তারা হামলে পড়েছে বিরোধীদের ওপর। কিন্তু আমরা বলে দিতে চাই মজলুমরা থামতে জানে না।

বাংলাদেশ নাগরিক পার্টির মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী বলেন, ওরা শুধু ভোট চুরি করেনি বরং ডাকাতি করেছি। পার্লামেন্টে যে ভোট ডাকাতরা গেছে তাদের ১১ দল রাজপথে জবাব বুঝে নেবে।

তিনি বলেন, ওসমান হাদি ভাইয়ের বিচারের দাবিতে মাঠে গেছি। সরকার ও প্রশাসনের কাছে আহ্বান জানাবো দ্রুত বিচার করার। আমাদের এতদিন বলা হয়েছে নির্বাচন ও বিচার মুখোমুখি না করার। আমরা না মরিয়া প্রমাণ করেছি আমরা নির্বাচন বিরোধী না। আমরা বাংলাদেশে গণতন্ত্র চাই, সংস্কারে জনগণ ‘হ্যা’ এর পক্ষে ম্যান্ডেট দিয়েছে। চাঁদাবাজি দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে।

নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী বলেন, রাজপথে সংগ্রাম জারি রাখতে হবে আমার বোনদের নির্যাতনের বিরুদ্ধে। প্রত্যেকটি হিসাব আমরা ইঞ্জিনিয়ার তারেক রহমানের কাছে বুঝে নেব। আমরা আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় পাইনা। বাংলাদেশের মানুষ হতাশ হবেন না, আল্লাহ আমাদের সঙ্গে আছেন।

জামায়াত ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি জেনারেল শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি শুধু সংসদ নির্বাচন হয়নি, গণভোটও হয়েছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নে কোনো টালবাহানা চলবে না। আগামীর বাংলাদেশ চলবে জুলাই সনদের ভিত্তিতে। জনগণ স্বৈরাচার তাড়াতে পেরেছে সুতরাং সবাইকে সেটা মনে রাখতে হবে।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..