'চিকেন্স নেক' আর আসামে মাটির নিচে গভীর সুড়ঙ্গ বানাচ্ছে ভারত

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০২-১৬, | ১৭:১৫:১৬ |
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত রাখা অতি গুরুত্বপূর্ণ সরু স্থলপথ ‘চিকেন্স নেক’ বা শিলিগুড়ি করিডরে ভূগর্ভস্থ রেলপথ নির্মাণের পরিকল্পনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। একইসঙ্গে আসামে ব্রহ্মপুত্র নদের নিচ দিয়ে দীর্ঘ রেল-সড়ক সুড়ঙ্গ তৈরির প্রকল্পেও অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।

চিকেন্স নেক বা শিলিগুড়ি করিডরে ভূগর্ভস্থ রেলপথ

পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুর জেলার তিন মাইল হাট থেকে শিলিগুড়ি হয়ে রাঙাপাণি পর্যন্ত প্রায় ৩৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ভূগর্ভস্থ রেলপথ নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। উত্তর-পূর্ব রেলের মুখপাত্র কপিঞ্জল কিশোর শর্মা জানিয়েছেন, প্রকল্প প্রস্তুত হলেও এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন আসেনি। তবে কেন্দ্রীয় বাজেট-পরবর্তী সময়ে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব এই প্রকল্পের কথা প্রকাশ্যে উল্লেখ করায় অনুমোদন সময়ের অপেক্ষা বলেই মনে করা হচ্ছে।

গড়ে মাত্র ২০-২২ কিলোমিটার চওড়া এই শিলিগুড়ি করিডর ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে সংযোগের একমাত্র স্থলপথ। পূর্বে বাংলাদেশ, উত্তরে চীন, পশ্চিমে নেপাল ও ভুটানের সান্নিধ্যে থাকা এই এলাকা কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল। যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের পাশাপাশি সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনেও এই করিডর ব্যবহৃত হয়।

নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় ৩৫.৭৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ভূগর্ভস্থ রেলপথে সমান্তরাল দুটি সুড়ঙ্গ থাকবে। টানেল বোরিং মেশিন ব্যবহার করে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে সুড়ঙ্গ নির্মাণ করা হবে। একইসঙ্গে বিদ্যমান দুই লাইনের রেলপথকে চার লাইনে উন্নীত করার উদ্যোগ রয়েছে।

ঘটনাচক্রে, বাংলাদেশ সীমান্তসংলগ্ন বিহারের কিশানগঞ্জ ও পশ্চিমবঙ্গের চোপড়ার কাছে ভারতীয় সেনাবাহিনীর নতুন দুটি ঘাঁটি নির্মাণ হচ্ছে, যার পাশ দিয়েই যাবে এই প্রস্তাবিত সুড়ঙ্গপথ।

তৃতীয় ঘাঁটি আসামের ধুবড়িতে।

কপিঞ্জল কিশোর শর্মার ভাষ্য, ভূগর্ভস্থ রেলপথ এমনভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছে যাতে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই করিডরে নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ বজায় থাকে। তার দাবি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, নিরাপত্তা ঝুঁকি বা সম্ভাব্য আক্রমণের মধ্যেও এই অদৃশ্যমান রেলপথ সচল রাখা সম্ভব হবে। মোটা কংক্রিট কাঠামোয় নির্মিত সুড়ঙ্গ ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণেও অক্ষত থাকতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১২ হাজার কোটি ভারতীয় টাকা।

অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার প্রবীর সান্যাল বলেন, অতীতে শিলিগুড়ি করিডরে সম্ভাব্য আক্রমণ ঠেকাতে নানা পরিকল্পনা থাকলেও ভূগর্ভস্থ রেলপথের উদ্যোগ আরও আগেই নেওয়া উচিত ছিল। তার মতে, সুড়ঙ্গপথ চালু হলে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা শত্রুপক্ষের পক্ষে কঠিন হবে।

কৌশল বিশ্লেষক প্রতিম রঞ্জন বসুর মতে, বর্তমানে ভারতের অধিকাংশ অবকাঠামো পরিকল্পনায় সামরিক প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। চিকেন্স নেক দিয়ে বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট কেবল, তেল ও গ্যাস পাইপলাইন যাওয়ায় মাটির ওপর নতুন অবকাঠামো গড়া কঠিন। তাই ভূগর্ভস্থ ব্যবস্থা অধিক নিরাপদ ও কার্যকর বিকল্প।

ব্রহ্মপুত্রের নিচে রেল-সড়ক সুড়ঙ্গ

১৪ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভাপতিত্বে অর্থনৈতিক বিষয়ক ক্যাবিনেট কমিটি আসামে ব্রহ্মপুত্র নদের নিচ দিয়ে প্রায় ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ দ্বৈত সুড়ঙ্গ নির্মাণে অনুমোদন দেয়। সমান্তরাল দুটি সুড়ঙ্গের একটিতে ট্রেন ও অন্যটিতে চার লেনের সড়ক থাকবে। এতে গোহপুর ও নুমালিগড় যুক্ত হবে।

বর্তমানে এই দুই স্থানের মধ্যে প্রায় ২৪০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে ছয় ঘণ্টা সময় লাগে। নতুন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দূরত্ব ও সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। মোট ৩৩.৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সংযোগ ব্যবস্থার মধ্যে প্রায় ১৫.৭৯ কিলোমিটার সুড়ঙ্গ থাকবে ব্রহ্মপুত্রের নিচ দিয়ে। সরকারি বিবৃতিতে একে ভারতের প্রথম ভূগর্ভস্থ রেল-সড়ক সুড়ঙ্গ প্রকল্প বলা হয়েছে।

এই সংযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে বিশ্বনাথ ঘাট ও তেজপুর যুক্ত হবে। পাশাপাশি তেজপুর ও অরুণাচল প্রদেশের ইটানগর বিমানবন্দরের সঙ্গেও যোগাযোগ সহজ হবে। তেজপুরের ভারতীয় বিমানবাহিনীর ঘাঁটিটি চীন সীমান্ত সংলগ্ন হওয়ায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ; সেখানে সুকই যুদ্ধবিমানের বহর রয়েছে। ঘাঁটির সম্প্রসারণে সম্প্রতি ৩৮৩ একর জমি অধিগ্রহণের বিজ্ঞপ্তিও জারি করা হয়েছে।

সরকারের দাবি, ব্রহ্মপুত্রের নিচ দিয়ে রেল-সড়ক সুড়ঙ্গ নির্মাণ কেবল কৌশলগত দিক থেকেই নয়, আঞ্চলিক অর্থনৈতিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..

Dhaka Forecast & Prayer Schedule

--°C
Loading...
💧 Humidity
--%
🌬 Wind
-- km/h

3-Day Forecast

Prayer Time

🕌 Fajr 🕌 Dhuhr
-- --
🕌 Asr 🕌 Maghrib
-- --
🕌 Isha
--
Loading countdown…
দেশ ও মুদ্রা ১ ইউনিট = টাকা পরিবর্তন
⏳ Currency data loading...