✕

সর্বশেষ :
জার্মানিতে বিপজ্জনক ছায়াযুদ্ধের শঙ্কা রাহুল গান্ধীর আবেদনে ১৪ ত্রুটি ধরল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বাংলাদেশ-ইউএই যৌথ উদ্যোগে কক্সবাজারে সুপেয় পানি প্রকল্পের প্রস্তাব দিলেন এলজিআরডি মন্ত্রী মেহেরপুরে বাসের ধাক্কায় ভ্যানচালক নিহত পাকিস্তান সিরিজে শ্রীলঙ্কার টেস্ট দল ঘোষণা, অধিনায়ক কুশল মেন্ডিস আরব আমিরাতে শ্রমবাজার ও নতুন সুযোগের সম্ভাবনা নিয়ে মাহ্দী আমিন-রাষ্ট্রদূতের বৈঠক কুমিল্লায় সকালে হাঁটতে বেরিয়ে গাড়িচাপায় স্বামী ও স্ত্রী নিহত কাদের মির্জা ও তার স্ত্রী-ছেলের বিরুদ্ধে দুদকের ৩ মামলা অবিবাহিতদের সবচেয়ে বেশি রাগিয়ে দেয় যেসব কথা দুর্গাপূজায় নৌপথে নিরাপত্তায় ১৬ নির্দেশনা

সুখ: সব বেচে সাগরে ভাসছেন তারা!

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৫-০২-২৭, | ১০:২৩:৫১ |

নৌকাতেও যে হতে পারে সুখের সংসার, সে কথা জানালেন এক দম্পতি। ভারতীয় নৌবাহিনীর সাবেক ক্যাপ্টেন গৌরব গৌতম অবসরের পর সব স্থাবর সম্পদ বিক্রি করে স্ত্রী আর একমাত্র কন্যাকে নিয়ে ২০২২ সাল থেকে সাগরে ভাসছেন। ‘রিভা’ নামের নৌকাটি লম্বায় ৩২ ফুট। এর ভেতরেই আছে জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় সবকিছু। আছে দুটি শোবার ঘর, একটা রান্নাঘর ও বাথরুম।

৪২ বছর বয়সী গৌরব জানান, তিনি যতক্ষণ পানির ওপর থাকেন, মনে হয়, বেঁচে আছেন। স্থলে, ইট-সিমেন্ট-কংক্রিটের বাসাবাড়িতে তার দম নিতে কষ্ট হয়। এদিকে তার স্ত্রী বৈদেহীও গণমাধ্যমে কাজ করতে করতে হাঁপিয়ে উঠেছিলেন। তার জীবনের একটাই ইচ্ছা, স্বাধীনভাবে বাঁচা। তাদের একমাত্র কন্যা খেয়ার ভালো লাগে না স্কুলে যেতে। তাই ২০২২ সালে এই পরিবার একটা নৌকা কিনে নিজেদের মতো করে গড়ে তুলে ভাসিয়ে দিয়েছেন সাগরে।

 ১৪ বছর বয়সী মেয়ে খেয়া স্কুলের তুলনায় ভালোই শিখছে এই নৌকায়। ছবি: সংগৃহীত

কোনো দেয়াল নেই, নেই কোনো রুটিনের বেড়াজাল। কেবল চারপাশে সাগর, মাথার ওপর নীল আকাশ আর বিশুদ্ধ বাতাস।

২০২২ সালে গৌতম ও বৈহেদী দম্পতি তাদের বাড়ি, পারিবারিক সম্পত্তি, আসবাব—সব বিক্রি করে ১৯৮৮ সালে যুক্তরাজ্যে তৈরি একটি নৌকা কেনেন। সেটাকে নিজেদের মতো করে মেরামত আর সংস্কারও করেন। আসবাব, বই, জামাকাপড়সহ যেসব জিনিস নিয়ে তারা নৌকায় উঠেছেন, সব মিলিয়ে সেসবের ওজন মাত্র ১২০ কেজি!

দ্য বেটার ইন্ডিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বৈদেহী বলেন, ‘আমরা শিখেছি, কীভাবে সবচেয়ে কম জিনিসে সবচেয়ে ভালোভাবে বাঁচা যায়। বাতাস আমাদের যেদিকে নিয়ে যায়, আমরা সেদিকেই যাই। ঘুম থেকে উঠে চোখ খুলে দেখি, কোথায় এলাম। মাঝেমধ্যে বিভিন্ন দ্বীপে থামি। ঘুরে বেড়াই। মেয়ে গাছের সঙ্গে দড়ি বেঁধে দোলনা বানিয়ে দোল খায়। ফলমূল সংগ্রহ করি। আবার নৌকায় উঠে পড়ি।’

‘রিভা’ র ভেতরেই আছে জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় সবকিছু। ছবি: সংগৃহীত

বৈদেহী আরও জানান, তারা সৌরবিদ্যুৎ দিয়ে আলো জ্বালেন। সংগ্রহ করেন বৃষ্টির পানি। মাছ ধরেন। নৌকার প্রতিটি ইঞ্চি কাজে লাগান। কয়েক মাস পর কোনো এক বন্দরে থেমে চা, নুন, মসলা ও তেলসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনে নেন।

গৌরব আর বৈভবী মনে করেন, তাদের ১৪ বছর বয়সী কন্যা স্কুলের তুলনায় ভালোই শিখছে। কেননা, সে জানে সাগরে ঝড় উঠলে কীভাবে বেঁচে থাকতে হয়। দুটি টি-শার্টে চালিয়ে দেওয়া যায় মাসের পর মাস। দুই বছরে সাগরে দিকনির্ণয় করে চলা, বাতাসকে ব্যবহার করা, পানিতে নেমে সামুদ্রিক প্রাণীদের সঙ্গে সাঁতার কাটা, সাগরে মাছ ধরায় সিদ্ধহস্ত হয়ে উঠেছে সে। এই তিনজনের কেউই স্থলের জীবন মিস করছেন না মোটেও। আপাতত স্থলে ফেরার কোনো ইচ্ছাও নেই তাদের।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..